২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে স্নেইডারের বাজি কে?

আগামী বছরের ১১ জুন থেকে শুরু হতে চলেছে বিশ্বকাপ।

রিয়া হালদার, প্রতিনিধি : ২০২৬ বিশ্বকাপের আর বেশি দেরি নেই। আগামী বছরের ১১ জুন থেকে শুরু হতে চলেছে বিশ্বকাপ। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায়। কিন্তু লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডো আগামী বিশ্বকাপে খেলবেন কি না, সেটা আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও নিশ্চিত নয়। শোনা যাচ্ছে , ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ তাঁরা এখনও খেলেননি। গত মাসেও যুক্তরাষ্ট্রের একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মেসি জানিয়েছেন, আমি ২০২৬ বিশ্বকাপ থাকতে চাই। রোনাল্ডোও ২৬-এর বিশ্বকাপে খেলার ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন আগেই। প্রশ্ন হচ্ছে, মেসির আর্জেন্টিনা ও রোনাল্ডোর পর্তুগালের মধ্যে কোন দলের বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনা বেশি?

ওয়েসলি স্নেইডারকে এই প্রশ্নই করা হয়েছিল। নিশ্চয়ই চিনতে পেরেছেন কে এই স্নেইডার? ফুটবল ছেড়েছেন ২০১৯শেই। নেদারল্যান্ডসের হয়ে ২০১০ বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলা সাবেক এ মিডফিল্ডার স্নেইডার। অনেকের কাছেই অন্যতম সেরা মিডফিল্ডার হিসেবে পরিচিত তিনি। আয়াক্স, রিয়াল মাদ্রিদ, ইন্টার মিলান ও গালাতাসারাই এর মতো ক্লাবে খেলেছেন স্নেইডার। তুরস্ক, ইতালি, নেদারল্যান্ডস ও স্পেনে জিতেছেন শীর্ষ লিগ। চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতেন ইন্টার মিলানের হয়ে। ‘ডেড বল’ বিশেষজ্ঞ হিসেবেও তাঁকে স্মরণ করেন অনেকেই । সেই স্নেইডার ২০২৬ বিশ্বকাপ জয়ে মেসির আর্জেন্টিনার চেয়ে এগিয়ে রাখলেন রোনাল্ডোর পর্তুগালকে।

কিন্তু কেন? ব্যাখ্যা করেছে সে বিষয়েও। স্নেইডার বলেন পর্তুগালের দলটা খুব শক্তিশালী। আমার কাছে তারা ফেভারিট। সে কারণে আমি বলব লিওনেল মেসির তুলনায় ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডোর বিশ্বকাপ জয়ের সুযোগ বেশি । কাতারে ২০২২ সালে সর্বশেষ বিশ্বকাপ জিতেছে আর্জেন্টিনা। মেসিদের সেবারের বিশ্বকাপ জয়ে খানিকটা ভাগ্যের পরশও দেখেন ২০০৪ সালে ‘ডাচ ফুটবলার অব দ্য ইয়ার’ ও ২০১০ বিশ্বকাপে রুপোর বলজয়ী স্নেইডার, ‘কাতারে দারুণ বিশ্বকাপ কাটিয়েছে আর্জেন্টিনা। সব মিলিয়ে স্নেইডারের মতে পর্তুগাল শ্রেয়োতর দল।’

স্নেইডার যদি এখনও ফুটবলে থাকতেন তাহলে তিনি মেসির মতো এমএলএস নাকি রোনাল্ডোর মতো সৌদি প্রো লিগের দলে যোগ দিতেন? স্নেইডার বলেন, ‘আমি দুটি জায়গাতেই যেতাম। নতুন অভিজ্ঞতা আমার ভালো লাগে। কাতারের অভিজ্ঞতা যেহেতু রয়েছে তার ঝুলিতে। তাই সৌদি আরবের চেয়ে এমএলএসকে বেছে নেওয়াই স্নেইডারের জন্য সহজ হতো। শুধু তাই নয়, তাঁর ছেলের বসবাস লস অ্যাঞ্জেলেসে। ছেলেকে দেখতে প্রায়ই লস অ্যাঞ্জেলেসে যাতায়াত রয়েছে স্নেইডারের। তাই লস অ্যাঞ্জেলেসের কোনো দলে যোগ দিতেন তিনি।

তবে অনেকের কাছে মেসি এবং তার দলই সেরা। কারণ, রোনাল্ডোকে পিছনে ফেলে অনেক এগিয়ে গিয়েছেন লিয়ো। ইন্টার মায়ামির হয়ে নাশভিলের বিরুদ্ধে জোড়া গোল করেছেন লিয়োনেল মেসি। ৩৮ বছর বয়সেও গোল করে চলেছেন। পাশাপাশি গোল করাচ্ছেনও। মেসির পায়ে ইস্টার্ন কনফারেন্সের সেমিফাইনালে উঠেছে মায়ামি। এই ম্যাচেই নজির গড়েছেন লিয়ো। কেরিয়ারে মোট ৪০০ অ্যাসিস্ট করেছেন মেসি। অর্থাৎ, তাঁর পাস থেকে হয়েছে ৪০০ গোল। ফুটবলের ইতিহাসে কোনও ফুটবলার এত অ্যাসিস্ট করেননি। এই ৪০০ অ্যাসিস্টের মধ্যে বার্সেলোনার হয়ে ২৬৯, প্যারিস সঁ জরমঁ-এর হয়ে ৩৪, মায়ামির হয়ে ৩৭ ও আর্জেন্টিনার হয়ে ৬০ অ্যাসিস্ট রয়েছে তাঁর। মেসির প্রতিদ্বন্দ্বী রোনাল্ডো এই তালিকায় অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছেন। ক্লাবের হয়ে ২২২ ও দেশের হয়ে ৩৭ অ্যাসিস্ট করেছেন সিআর৭। মেসি ১ হাজার ১১৩ ম্যাচে এই ৪০০ অ্যাসিস্ট করেছেন। রোনাল্ডো ২৫৯ অ্যাসিস্ট করেছেন ১ হাজার ২৬৯ ম্যাচে। অর্থাৎ, প্রতি ২.৭ ম্যাচে একটি করে গোল করিয়েছেন মেসি। রোনাল্ডো সেখানে একটি গোল করিয়েছেন প্রতি ৫ ম্যাচে। তবে গোল করার নিরিখে এগিয়ে রয়েছেন রোনাল্ডো। কেরিয়ারে এখনও পর্যন্ত ৯৫৩ গোল করেছেন তিনি। আর ৪৭ গোল করলে বিশ্বের প্রথম ফুটবলার হিসাবে ১হাজার গোলের রেকর্ড হবে তাঁর। মেসি সেখানে কেরিয়ারে ৮৯৪ গোল করেছেন। আর ৬ গোল করলে ৯০০ গোলের মাইলফলক হবে তাঁর। তাই সকলের নজর ২০২৬ বিশ্বকাপে।