আজও ভোটার নন বিপ্লবী অরবিন্দের আত্মীয়!

তিনিও কি এ দেশের বৈধ ভোটার নন ? এসআইআর গেরোয় পড়ে কী হবে তাঁর?

মিলন কর্মকার, নিজস্ব সংবাদদাতা: এসআইআর আবহে আতঙ্কের মধ্যে চারিদিকে কত কী না ঘটছে। বাংলার সীমান্ত ঘেঁষা এলাকা বসতি ফাঁকা হচ্ছে। কারণ তারা এ রাজ্যের বৈধ ভোটার নয়। অনেকে আবার আতঙ্কে রয়েছেন এ রাজ্যের বাসিন্দা হয়েও শুধুমাত্র ২০০২ এ ভোটার তালিকায় নাম না থাকার কারণে। কিন্তু এই দেশ যাদের রক্তের বিনিময়ে স্বাধীন হল সেইরকম এক বিপ্লবীর পরিবারের সদস্য আজও এ দেশের ভোটার হয়ে উঠতে পারেননি। তবে কি তিনিও এ দেশের বৈধ ভোটার নন ? এসআইআর গেরোয় পড়ে কী হবে তাঁর? বৃদ্ধাশ্রমের দাওয়ায় বসে শূন্য দৃষ্টি নিয়ে তিনিও উত্তর খুঁজে বেড়াচ্ছেন। আসুন দেখে নেওয়া যাক কে এই বৃদ্ধা ?

বাঁকুড়ার বিকনা ক্ষীরোদপ্রসাদ বৃদ্ধাশ্রম। এই আশ্রমে এক কোণে পড়ে রয়েছেন কল্পনা বসু। নামে নয় তাঁর আসল পরিচয় দিলে বুঝতে পারবেন কোনও পরিবারে তাঁর বেড়ে ওঠা। বিপ্লবী ভূপালচন্দ্র বসুকে মনে আছে। ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন বীর বিপ্লবী। যিনি ১৯৩০ সালে ডালবৌসি স্কোয়ার ও কলকাতা বোমা মামলায় আন্দামানে ১৫ বছরের জন্য দীপান্তর হয়। সেই ভূপালচন্দ্র বসুর খুড়তুতো ভাই জীতেন্দ্রনাথ বসুর মেয়ে কল্পনা বসু। এছাড়াও তিনি আবার বিপ্লবী অরবিন্দ ঘোষের স্ত্রী মৃণালিনী দেবীর ভাইঝি।
এ হেন এক বিখ্যাত পরিবারের সদস্য হয়েও নেই স্বাধীন ভারতের সরকারি পরিচয়পত্র। কেন এমন অবস্থা কল্পনা বসুর। তা জানতেই তাঁর মুখোমুখি হওয়া বলা ভালো খোঁজ নেওয়া। বৃদ্ধাশ্রমের একটা ছোট্ট ঘরে তাঁর বাস। জানালায় বসে এখনও মনে পড়ে সেই সেই সংগ্রামের কথা। বিপ্লবী পরিবারে জন্ম, তাই শৈশব থেকে তিনি শিখেছিলেন,দেশ মানেই ত্যাগ, দেশ মানেই সংগ্রাম। কিন্তু এই আদর্শ, লড়াইয়ের মূল্য হিসাবে কি পেলেন…..। তাই তো আক্ষেপের সুরে তিনি বলে ওঠেন দেশের জন্য জেল খেটেও তিনি আজ ভোটার নন।


১৯৪৬ সালে জন্ম। কলকাতার শ্যামবাজারের দেশবন্ধু পার্কের পাশে অষ্টাঙ্গ আয়ুর্বেদ বিদ্যাসাগর হাসপাতালে তাঁর জন্ম। দেশ তখন স্বাধীনতার জন্য উত্তাল। কলেজে পড়তে পড়েত প্রথম ব্যালটে ভোট দেন। এরপর ১৯৭০ সালে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেফতার হন। প্রথমে প্রেসিডেন্সি ও পরে বিহারের কারাগারে দীর্ঘ কয়েকবছর বন্দী জীবন কাটান। এখনও সেই সব লড়াইয়ের দিন যেন চোখে র সামনে ভেসে ওঠে। দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে যাদের যোগ তাঁদের কিনা এখনও ভারতের নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে নথির খোঁজ করতে হচ্ছে। বয়সের ভারে শরীর আর আগের মতো সাথ দেয় না। তাই নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য এত দৌড়ঝাঁপ করতে আর ইচ্ছাও হয়না কল্পনাদেবী।
বৃদ্ধাশ্রমের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে,কল্পনা দেবীর কোনও বৈধ কাগজ নেই। জন্মসনদ থেকে পুরনো ভোটার কার্ড সবই হারিয়ে গেছে বহু বছর আগে। তাই চেষ্টা করেও কোনও পথ দেখতে পাচ্ছেন না তাঁরা। ইতিহাস নির্মাতা থেকে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের যে কোনও ডাটাবেস নেই।
দরিদ্রশ্রেণির মানুষকে শিক্ষিত করতে ছুটে বেড়িয়েছেন জেলার বিভিন্ন প্রান্ত। শিক্ষিকা নিজের স্বার্থের কথা ভুলে সমাজসেবা করে গেছেন। জীবন সায়াহ্ণে এসে বুঝতে পারছেন একটা ভোটার কার্ড কতটা গুরুত্বপূর্ণ। জীবনে বাকি সবই যেন বৃথা।