মীরের বিরুদ্ধে এ কি মারাত্মক অভিযোগ!

যৌন হেনস্থামূলক কথা মীরের মুখে। গপ্পো মীরের ঠেক কি এবার ধাক্কা খাবে? সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমতো চর্চা মীরকে নিয়ে।

সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, সাংবাদিক: মীর এই নামটাকে নিয়ে যাই বলা হোক না কেন তা কিন্তু কম পড়ে যাবে। এক সময়ের জনপ্রিয় সংবাদ পাঠক এর পর আরজে অর্থাৎ রেডিও জকি হয়ে মন কেড়েছেন সবার কিংবা টেলিভিশনের পর্দায় সঞ্চালক হয়ে দুরন্ত ইনিংস খেলেছেন, কমেডি শো হোক বা যে কোন শো মীর মানেই সেখানে তুখোড় সেন্স অফ হিউমারের প্রদর্শন, হাসির সঙ্গে নিখুত টাইমিং এইসব কিছুর মিশেলের নাম মীর। অনেক অনেক স্ট্রাগল করে আজ এই জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছেন মীর, তার গলা আজ ও আমাদের মুগ্ধ করে। একটা সময় মীর মানেই সকাল সকাল বেসরকারি একটি রেডিও চ্যানেলে তাঁর গলা শুনতে পাওয়ার অভ্যাস ছিল অনেকেরই। বর্তমানে সেই রেডিও ছেড়ে তিন বছর কাটিয়ে দিয়েছেন তিনি। এখন নিজের মতো কাজ করেন। মীর মনে করেন তার জীবনের অন্যতম সম্পদ তার গলার স্বর। যদি সেই স্বর কখনও হারিয়ে যায়, তখন? এই ভয় তার অবচেতন মনেও কাজ করে। শুধু গোটা কলকাতা শহর নয় দেশ বিদেশ জুড়ে তাঁর লক্ষ-লক্ষ গুণমুগ্ধ শ্রোতা রয়েছেন, অনেকেই জানেন আবার অনেকেই জানেন না এই মানুষটা, যার হাত ধরে আমরা ভালো থাকি সেই মীরই নাকি ২০১৭ থেকে ২০১৯ এই দুই বছরে মীর চারবার সুইসাইড করতে গিয়েছিলেন। শেষবার একসঙ্গে ৮৭টি স্লিপিং পিল খেয়েছিলেন চিকিৎসকদের আপ্রাণ চেষ্টায় ফিরে আসেন তিনি।

কেন নিয়েছিলেন এই স্টেপ? জানিয়েছিলেন মীর নিজেই আসলে এই যে এত লোককে এন্টারটেন করার দায়িত্ব, এত দর্শককে খুশি করার প্রেশার, এত শ্রোতার সামনে নিজের বেস্টটা দেওয়া- এটা একজন পারফর্মারের কাছে সাংঘাতিক স্ট্রেসফুল। এটা জীবনের সব ক্ষেত্রে হতে পারে। কোনও গৃহবধূ বাড়ির কাজ করতে করতে এই প্রেশার ফিল করতে পারেন। কেউ কর্পোরেট ওয়ার্ল্ডে এই প্রেশার ফিল করতে পারেন। নামী জার্নালিস্টরা তাঁদের বাইলাইনের মর্যাদা রাখতে এই প্রেশার ফিল করতে পারেন। সেই মুহূর্তে এই অসম্ভব প্রেশারের সঙ্গে যোগ হয় নার্ভাস ব্রেকডাউন। মীর নিজেও জানিয়েছেন এমনও দিন গেছে, মীর শোয়ের আগে গ্রিনরুমে হাউ-হাউ করে কেঁদেছেন। এখন মীরের গলা রেডিওতে শোনা না গেলেও তাকে পাওয়া যায় ইউটিউবে তার নিজের চ্যানেলে, ভূত থেকে রহস্য বিভিন্ন গল্প দারুণ ভাবে উপস্থাপনা করেন তিনি এবং তার টিম। এহেন একটা মানুষ তাকে নিয়েই নাকি এবার শোরগোল। এক অভিনেত্রী তার বিরুদ্ধে কার্যত যা অভিযোগ এনেছেন তা শুনলে চমকে যাবেন আপনিও। স্বরলিপি চট্টোপাধ্যায়, এখন তাকে হয়ত আর ছোটপর্দায় দেখা যায় না কিন্তু একটা সময় বেশ পরিচিত মুখ ছিলেন তিনি। অগ্নিপরীক্ষা নামের এক ধারাবাহিকে দেখা গিয়েছিল তাকে। সিরিয়ালে কাজ করতে করতেই সেই সময় অভিনেতা সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রেমে পড়েছিলেন স্বরলিপি চট্টোপাধ্য়ায়। আজ অবশ্য স্বরলিপির পরিচয় অভিনেত্রী হিসেবে নয়, বরং দক্ষিণ কলকাতার এক জনপ্রিয় ক্যাফের মালিক তিনি। তবে সৌম্যর সঙ্গে সম্পর্ক, বিয়ের ক্ষতকে সঙ্গে নিয়ে একমাত্র মেয়ে সহচরীর সঙ্গে দিব্যি রয়েছেন স্বরলিপি।

সৌম্যর সঙ্গে প্রেমের পর দীর্ঘদিন লিভ ইন সম্পর্কেই ছিলেন স্বরলিপি। তবে দুজনের পরিবারের লোকেরই পছন্দ ছিল না, এই লিভ ইন সম্পর্ক। অগত্য়া, দুজন বিয়ের সিদ্ধান্ত নিলেন। বিয়ের কয়েক মাস কাটতেই স্বরলিপি জানতে পারেন, সৌম্যর ফোনে স্বরলিপিকে কটাক্ষ করে একাধিক মেসেজ আসছিল, সৌম্যর অনুরাগীদের তরফ থেকে। মেসেজে সবাই প্রশ্ন তুলত, স্বরলিপি মা হতে পারবেন কিনা তাই নিয়ে। জেনে শুনেই চুপ ছিলেন স্বরলিপি। ততদিনে অল্প অল্প করে জমা টাকা দিয়ে ক্যাফের ব্যবসা শুরু করেছেন তাঁরা। ঠিক সেই সময়ই স্বরলিপি আঁচ পান, সৌম্যর পরকীয়া সম্পর্কের। ততদিনে স্বরলিপি প্রেগন্যান্ট।স্বরলিপির অভিযোগ সৌম্য নাকি সেই সময়েও অন্য মেয়েদের সঙ্গে রাত কাটাতেন এখানেই শেষ নয় তিনি সরব হয়েছেন কাস্টিং কাউচ নিয়েও। তাকে সিনেমার প্রস্তাব দিয়ে প্রযোজক তাকে কুরুচিকর প্রস্তাব দিয়েছিলেন, স্বরলিপি জানান, পরিচালকের দেওয়া পাঁচ শর্ত ছিল, প্রথম, যেমন চাওয়া হবে, তেমন ডেট দিতে হবে। দ্বিতীয়, আউটডোরে যেতে হবে, তৃতীয় নাচ জানতে হবে, চতুর্থ আউটডোরে কোনও অভিভাবক নিয়ে যাওয়া যাবে না।

এরপরই বোমা ফাটালেন পরিচালক। স্বরলিপিকে স্পষ্ট নাকি বললেন, প্রযোজকদের সঙ্গে রাতে থাকতে হবে। কিন্তু এসবের থেকেও এক মারাত্মক অভিযোগ করেছেন তিনি আর সেটাই মীরের বিরুদ্ধে। মীর নাকি স্বরলিপিকে বলেছিলেন তোমার বুক দুটো ফলস খুলে দাও আমি লাগাই! ছোট থেকেই অভিনেত্রী হওয়ার স্বপ্ন ছিল তাঁর। মডেলিং দিয়ে শুরু তারপর সঞ্চালনা করতে করতেই এক রিয়্যালিটি শোয়ে কাজের সুযোগ আসে। সালটা ২০০৫। সেই শো-এর সঞ্চালক হিসাবে কাজ করতেন মীর। একবার শালীনতার মাত্র ছাড়িয়েছিলেন মীর, সেই অতীত স্মৃতি হাতড়ে দেখলেন স্মরলিপি। প্রায় দু-দশক আগের ঘটনা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘মীরদার মনে আছে কিনা জানি না, ওই হরিদাসের বুলবুলভাজা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে, হঠাৎ করে বলল স্মরলিপি তোমার বুকগুলো ফলস। ওই দু’টো দিয়ে দাও, আমি লাগাই একথা শুনে সবাই সেদিন তার বুকের দিকে তাকিয়েছিলো। ঠিক কতটা অপমানিত বোধ করেছিলেন তা বলাই বাহুল্য তার মনে হয়েছিল, কোথাউ গিয়ে একটা শালীনতার লাইন থাকা দরকার। দিনের শেষে তিনি তো মেয়ে, তার কিছু সিক্রেট পার্ট আছে। সেগুলো নিয়ে আলোচনা করা যায় না। তারপর থেকে তার আত্মসম্মানে হানি হচ্ছিল খুব। শোটি আর করেননি তিনি। যদিও এই বিষয়ে এখনও মীর কিছু বলেননি। এই ঘটনা নতুন কিছু নয় মেয়েদের নিয়ে এই ভাবে অশালীন ইঙ্গিত করে হাসিঠাট্টা করার কিন্তু সেই ঘটনার সঙ্গে যদি মীরের মত ব্যক্তিত্বের নাম জড়ায় তাতে আশ্চর্য হতেই হয় বইকি!