জঙ্গলমহলের শবর গ্রামগুলিতে SIR আতঙ্ক

বাঁকুড়ার জঙ্গলমহলের রানিবাঁধ ব্লকে রয়েছে বেশ কয়েকটি শবর গ্রাম।স্বাধীনতার ৭৫ বছর পার হলেও আজও উন্নয়ন পৌঁছয়নি এই গ্রামগুলিতে। এই পরিস্থিতিতে তাঁদের নতুন আতঙ্ক এসআইআর।

মিলন কর্মকার, নিজস্ব সংবাদদাতাজঙ্গলমহলের ঘন জঙ্গলের আড়ালে লুকিয়ে থাকা আদিবাসী শবর সম্প্রদায়ের বসবাস রানিবাঁধ ব্লকের কয়েকটি গ্রামে। উন্নয়নের আলো যেখানে আজও অধরা সেই গ্রামগুলিতে। এই পরিস্থিতিতে হঠাৎই হাজির হয়েছে এসআইআর ফর্ম। আর সেই কাগজটিই এখন শবর সম্প্রদায়ের মানুষের মনে নতুন আতঙ্কের সঞ্চার করেছে। লেখাপড়া না জানা গ্রামবাসীরা বুঝতেই পারছেন না, এই ফর্মে কী লিখবেন,  ভুল হলে কী হারাবেন? প্রশাসনের প্রকল্প নয়। আতঙ্কই যেন পৌঁছে গেছে সবার আগে।

দক্ষিণ বাঁকুড়ার জঙ্গলমহলের রানিবাঁধ ব্লকে রয়েছে বেশ কয়েকটি শবর গ্রাম। ঘাগরা, মৌলা,  বড়ডাঙ্গা শবর গ্রামে সবমিলিয়ে প্রায় ৭০টি শবর পরিবারের বসবাস। স্বাধীনতার ৭৫ বছর পার হলেও আজও উন্নয়নের ছোঁয়া পৌঁছয়নি এই গ্রামগুলিতে। আবাস প্রকল্পে কারোর ঘর হয়নি।  নেই পাকা রাস্তা। পানীয় জলেরও অভাব গ্রামগুলিতে। দুর্গম পথ পেরিয়েই পৌঁছতে হয় গ্রামগুলিতে। গ্রামের অধিকাংশ‌ই স্কুলের মুখ দেখেননি।

এরই মধ্যে গ্রামে গ্রামে পৌঁছে গেছে এসআইআর কার্যক্রমের ফর্ম। ব্লক প্রশাসনের নির্দেশে বিএলওরা গিয়ে শবর পরিবারগুলির হাতে এনুমারেশন ফর্ম তুলে দিয়েছেন। কিন্তু সেই ফর্ম কীভাবে পূরণ করবেন, কোথায় জমা দিতে হবে, কোন নথি লাগবে, সেসব কোনওকিছুই জানেন না গ্রামের মানুষ। ফলে বিভ্রান্তি আর আতঙ্কে দিন কাটছে তাঁদের। গ্রামের প্রবীণরা বলছেন, আমরা তো লেখাপড়া জানি না। কাগজে কী লিখতে হবে, কে জানাবে? অনেকে আবার আশঙ্কা করছেন, ভুল করলে সরকারি সুবিধা বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

দেশের অন্যতম পিছিয়ে পড়া জনজাতি শবর সম্প্রদায় একসময় সমাজের মূলস্রোত থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল। সরকারি উদ্যোগে তাঁদের মূল ধারায় ফেরানোর চেষ্টা হলেও ঘাগরার মতো গ্রামগুলিতে সেই প্রচেষ্টা এখনো অধরা। উন্নয়নের আলো না পৌঁছলেও কাগজে-কলমে প্রশাসনের নতুন নতুন প্রকল্প পৌঁছে যাচ্ছে তাঁদের দরজায়। কিন্তু বাস্তবে সেই ফর্মই যেন আজ আতঙ্কের কারণ হয়ে উঠেছে শবর গ্রামগুলিতে।

এবিষয়ে তৃণমূলের রানিবাঁধ ব্লক সভাপতি উত্তম কুম্ভকার বলেন, এলাকার কম শিক্ষার হার থাকায় বহু মানুষ এসআইআর ফর্ম পূরণে সমস্যায় পড়ছেন। তৃণমূলের পক্ষ থেকে সহায়তা শিবির চালু করা হয়েছে এবং কর্মীদের বাড়ি বাড়ি পাঠিয়ে ফর্ম পূরণে সাহায্য করা হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় সরকার নাগরিকদের নাম বাদ দেওয়ার উদ্দেশ্যে এই প্রক্রিয়া চালু করেছে। তাঁর দাবি, মমতা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় থাকলে বিজেপি কোনোভাবেই মানুষের নাম বাদ দিতে পারবে না।

অন্যদিকে, বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সম্পাদক দুঃখিরানী মুদি‌ বলেন, কম শিক্ষিত মানুষের জন্য বুথ লেভেল কর্মী ও বিএলএ-২–দের এলাকায় পাঠানো হচ্ছে। আতঙ্কের কারণ নেই। ফর্ম ফিলআপ সহ সব বিষয়ে সহায়তা করা হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, শাসকদল মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। তিনি দাবি করেন, এসআইআর রাজ্যে হবেই এবং সঠিকভাবেই হবে।  বাইরে কাজ করা মানুষদেরও কোনও অসুবিধা হবে না।