বারুইপুর রাসমাঠে শুরু হল রাজধানী সার্কাস

কখনও জোকারের নানাম মজার খেলা, কখনও আবার মহিলা শিল্পীদের দুর্দান্ত রিং খেলা, এছাড়াও নানান স্টান্টগুলি মজার সঙ্গে উপভোগ করলেন দর্শকরা।

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা: শীতের মরসুম মানেই মিঠে রোদ গায়ে মেখে ভরপুর আনন্দ- উৎসব আর বিনোদন। সেই আনন্দ আরও বাড়িয়ে দিতে বারুইপুর রাসমাঠে শুরু হল এক মাসব্যাপী রাজধানী সার্কাস। প্রতি বছরের মতো এবছরও রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে সার্কাস শুরু হল। রায়চৌধুরী জমিদার পরিবারের তিন শতাব্দী প্রাচীন রাসযাত্রা উপলক্ষে এই সার্কাসের আয়োজন করা হয়েছে।

বর্তমানে পশু-পাখি ছাড়া সার্কাস হলেও দর্শকের উচ্ছ্বাসে কোনও খামতি নেই। সার্কাস মানেই রোমাঞ্চ,  হাসি এবং দক্ষতার অসাধারণ প্রদর্শনী। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিল্পীরা দুঃসাহসিক কলাকৌশল,  দড়ির উপর দিয়ে হাঁটা, ব্যায়াম, মূকাভিনয় ও ভাঁড়ের হাস্যরসাত্মক পরিবেশনার মাধ্যমে দর্শকদের মুগ্ধ করে তুলছেন। কখনও জোকারের নানাম মজার খেলা, কখনও আবার মহিলা শিল্পীদের দুর্দান্ত রিং খেলা, এছাড়াও নানান স্টান্টগুলিও মজার সঙ্গে দেখছেন দর্শকরা।

শীতের মরসুমে এই রাসের মেলায় প্রচুর মানুষের সমাগম হয়। এই মেলারই অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটা অঙ্গ হল এই রাজধানী সার্কাস। আট থেকে আশি প্রত্যেকবারই বহু মানুষ এই সার্কাস দেখতে যান। এবারও তার অন্যথা হয়নি। বয়স্করাও যেমন রাজধানী সার্কাসের সমস্ত খেলা মজার সঙ্গে উপভোগ করেছেন। ঠিক তেমন ছোটরাও সার্কাসের খেলাগুলি উপভোগ করেছেন। বহুবছর আগে, বাঘ, হাতি, পাখি, কুকুর সহ বিভিন্ন পশুপাখি নিয়ে সার্কাসে খেলা দেখাতেন কলাকুশলীরা। এখন পশুপাখির ব্যবহারে কড়া সরকারি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তাই সার্কাসের কলাকুশলীরাই সার্কাস দেখান।  

এই সার্কাসের এক কলাকুশলী অনিমেষ খাটুয়া বলেন, আমাদের সার্কাস ছাড়া জীবিকা অর্জনের আর কোন উপায় নেই। এই সার্কাসের মাধ্যমেই আমাদের পরিবার চলে। উচ্চতার কারণে কোনোরকম কাজ করতে পারি না। এই সার্কাসের মধ্যে দিয়ে জীবিকা অর্জন করি। অনেক সার্কাস বন্ধ হয়ে গেলেও এখনও বেঁচে রয়েছে এই রাজধানী সার্কাস। এই সার্কাসের সঙ্গে যুক্ত রাশিয়ান শিল্পী দম্পতি তিনি জানান, ৩২ বছর ধরে সার্কাসের সঙ্গে আমরা যুক্ত হয়েছি। এই প্রথম ভারতবর্ষে এলাম এবং এই প্রথম কলকাতায় এলাম। এসে আমাদের খুবই ভালো লাগছে, আমরা খুবই আনন্দিত। আমরা যে সকল মনোরঞ্জনকর খেলা প্রদর্শন করছি, সেই খেলা দর্শকদের খুবই ভালো লাগছে।

সার্কাসের ম্যানেজার নূর ইসলাম মণ্ডল জানান, “এই বছর দর্শকদের জন্য রয়েছে একাধিক নতুন খেলা ও আকর্ষণ। প্রতিদিন তিনটি শো অনুষ্ঠিত হবে।”