এলিয়েনের পর্দাফাঁস করল নাসা!

হয়তো ভিনগ্রহীরা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে সৌরজগতে।  ধূমকেতু 3I/ATLAS এর পাঠানো কিছু ছবিতেই বিস্ময়।

alien

নাজিয়া রহমান, সাংবাদিক: এলিয়েন নিয়ে কৌতুহল যেমন জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মধ্যে আছে তেমনি কিন্তু এই কৌতুহল মানুষের মধ্যেও আছে। সৌরজগতে পৃথিবীর মতো অন্য কোনও গ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব আছে কিনা তা নিয়ে  প্রতিনিয়ত খোঁজ করে চলেছেন বিজ্ঞানীরা।  বিজ্ঞানীদের বিশ্বাস মিল্কিওয়েতে প্রাণের অস্তিত্ব আছে এমন গ্রহের  অবস্থান রয়েছে। এটা অবশ্যই সত্য মানুষের কৌতূহল যতদূর যেতে পারে, বিজ্ঞান তার থেকেও কয়েক আলোকবর্ষ এগিয়ে থাকে। আর সেই কৌতূহলেরই এক চমৎকার  উদাহরণ  3I/ATLAS, বিশ্ব জুড়ে এলিয়েনের অস্তিত্ব নিয়ে বহু গবেষণা হয়েই চলেছে। সেই গবেষণায় আশার আলো জাগায় 3I/ATLAS. 3I/ATLAS এর গঠন দেখে এবং তার আচারণ দেখে এটা নিশ্চিত হয়েছিলেন বিজ্ঞানীরা  যে এটি নিশ্চয় ভিন গ্রহের বাসিন্দার দ্বারা পরিচালিত । নাসার তথ্য অনুযায়ী এটি এমন এক মহাজাগতিক পথিক, যে জন্মেছে আমাদের সূর্যপরিবারেরও বহু আগে, আর এসেছে এমন এক অজানা অঞ্চল থেকে যার মানচিত্র বিজ্ঞানীদের কাছে আজও অচেনা। আর এই 3I/ATLAS এর গঠন মহাজগতে এলিয়েনর অস্তিত্বের আরও সত্যতা জাগিয়ে তোলে। 3I/ATLAS নজরে আসার পর বিজ্ঞানীদের মনের মধ্যে প্রশ্ন জাগে হয়তো ভিনগ্রহীরা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে সৌরজগত।  ধূমকেতু 3I/ATLAS এর পাঠানো কিছু ছবিই মূলত এই বিস্ময়-জাগায়।

3I/ATLAS এই ধূমকেতুটিকে (Comet) সবচেয়ে আগে দেখা গিয়েছিল জুলাই মাসে, অ্যাটলাস টেলিস্কোপে। 3I/ATLAS দেখা মাত্র প্রথম নজরেই বিজ্ঞানীরা বুঝে যান – এর গতিপথ সাধারণ নয় বরং একদম উল্টো দিকে বাঁক নেওয়া হাইপারবোলিক পথে ছুটে আসছে। অর্থাৎ এর জন্ম এই সৌরজগতে নয়। আর তাতেই শুরু হল নাসার নজিরবিহীন পর্যবেক্ষণ অভিযান। সেই অভিযানে উঠে এল নতুন তথ্য।  এই তথ্য অনুয়ায়ী নাসা 3I/ATLAS এর আসল রহস্য উদ্ঘাটন করল। নাসার বক্তব্য যেটি এটির সঙ্গে এলিয়েনের  কোন সম্পর্ক নেই এটা অন্য আর পাঁচটা ধুমকেতুর  মতই একটি ধুমকেতু। তবে এর গায়ে জলের অস্তিত্ব আছে।

তবে 3I/ATLAS এর সঙ্গে এলিয়েনদের যোগ না থাকলেও মিল্কিওয়েতে এলিয়েনের অস্তিত্ব যে রয়েছে তা অস্বীকার করছেন না জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা।

তবে 3I/ATLAS নিয়ে নাসার বক্তব্য যে, বিখ্যাত হাবল টেলিস্কোপ, জেমস ওয়েব,  গত অগস্টে যে সব হাই-রেজোলিউশন ছবি আর স্পেকট্রাল ডেটা পাঠিয়েছে, তা 3I/ATLAS-কে পরিণত করেছে ইতিহাসের অন্যতম বেশি পর্যবেক্ষিত ধূমকেতু হিসেবে।  পাশাপাশি বিজ্ঞানীদের এটাও বক্তব্য যে আগামী ১৯ ডিসেম্বর ধূমকেতুটি পৃথিবীর সবচেয়ে কাছাকাছি আসবে। দূরত্ব থাকবে প্রায় ১৭০ মিলিয়ন মাইল। এ সময় আরও ছবি ও তথ্য আসবে বলে মনে করছেন তাঁরা। তারপর ধীরে ধীরে ২০২৬ সালের বসন্তে ধূমকেতুটি পাড়ি দেবে বৃহস্পতির কক্ষপথ ছাড়িয়ে আরও দূর অচেনায়। তারপর আস্তে আস্তে হয়তো সৌরজগত থেকে প্রস্থান করতে পারে এই 3I/ATLAS ধুমকেতুটি।