বিতর্ক যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না। বছর শেষে শুধুই বিপত্তির সম্মুখীন অভিনেতা। আদৌ কি সমস্যা মিটল জিতুর? আর কি তাকে দেখা যাবে না চিরদিনই তুমি যে আমার ধারাবাহিকে?

সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, সাংবাদিক: জিতু কমল যে এই মুহূর্তের অন্যতম ভালো অভিনেতা তা নিয়ে কিন্তু কোন সন্দেহ নেই। একদিকে ছোট পর্দা এবং এর পাশাপাশি বড় পর্দাতেও দাপটের সঙ্গে কাজ করছেন তিনি। এই মুহূর্তে তাকে কাজ করতে দেখা যাচ্ছে এক ধারাবাহিকে, তার নাম আপনারা সকলেই জানেন, এবার সেই ধারাবাহিক অর্থাৎ চিরিদিনই তুমি যে আমার নিয়ে বিগত মাস দুয়েক ধরেই লাগাতার জলঘোলা হচ্ছে, তবে এবার সেই বিতর্ক সব কিছুর মাত্রা ছাড়িয়ে গিয়েছে। ইতিমধ্যেই প্রায় বছর দেড়েক আগে বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে গিয়েছে তার। যখন জিতুকে ঘিরে বিতর্ক তুঙ্গে ঠিক সেই আবহেই জিতুর প্রাক্তন স্ত্রী নবনীতার জীবনে নাকি নতুন প্রেমের ইঙ্গিত। ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে নবনীতা শেয়ার করলেন অভিনেতা এড ওয়েস্টউইক ও এমি জ্যাকসনের রেড কার্পেটের এক ভিডিও ক্যামেরা, আলো, কোন কিছুকে পাত্তা না দিয়ে এড যখন ঠোঁট রাখলেন এমির, সেই অনভ্যস্ত সময়ে চমকে উঠল এমির মুখ। চুমুর পর এডের অকৃত্রিম উচ্ছ্বাসে যেন ভেসে উঠল ভালোবাসার সহজ, সত্য রূপ। সেই ভিডিয়োর উপর লেখা— “This is how I want my man to react after getting me.” বাংলায় যার মানে, “আমিও চাই আমাকে পাওয়ার পরে আমার মানুষটা ঠিক এমন প্রতিক্রিয়াই দিক।”দীর্ঘ বিচ্ছেদের পরে কি তবে আবার নতুন জীবনের দিকে তাকাতে শুরু করেছেন তিনি? আবার এর পাশাপাশি জিতুর জীবনেও প্রবল ঝড়। চিরদিনই তুমি যে আমার ধারাবাহিকে তার অভিনীত চরিত্র আরয কিন্তু বেশ হিট। তার সহ অভিনেত্রী দ্বিতিপ্রিয়া, অনস্ক্রিন কেমিস্ট্রি তাদের যতই ভালো হোক না কেন, অফ স্ক্রিনে কিন্তু তাদের রসায়ন খুব খারাপ।

ধারাবাহিক শুরুর কিছুদিনের মধ্যেই তারা নাকি একে অন্যের সঙ্গে কথা বলতেন না, গত অগস্ট মাসে প্রকাশ্যে আসে তাদের দুজনের কথোপকথন যেখানে দেখা যায় তারা সহকর্মী হিসাবেই কথা বলছেন, তাদের ঘনিষ্ঠ এক ছবি এআই দিয়ে বানানো নিয়ে, সেই চ্যাটে আরও দেখা যায় দিতিপ্রিয়া ডক্টরের কাছে যাবেন বলে জানাতে জিতু তাকে বলেছেন তিনি কি প্রেগন্যান্ট? জীতু অভিনেত্রীর সঙ্গে এমন কিছু কথা বলেছেন যা, তাঁর কাছে আপত্তিকর বলে মনে হয়েছে, দাবি দিতিপ্রিয়ার।জিতুর দাবি ছিল তিনি শুধুমাত্র মজা করেই এই কথা বলেছিলেন কিন্তু সেই সময় সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই বলেছিলেন মজার ছলেও কোন অবিবাহিত মহিলাকে তিনি প্রেগন্যান্ট একথা বলা যায় নাকি! যদিও ক্ষমা চান জিতু, তবে থামেননি দিতিপ্রিয়া, তিনি জানান জিতু ওই এআই ছবি তাকে মাঝরাতে পাঠিয়ে লেখেন, ‘বেশ হয়েছে, এটা বয়ফ্রেন্ডকে পাঠাও’। সাথে লেখেন, ‘এই রাতেই ব্রেকআপ হয়ে যাবে’। এরপর আরেকদিন আমাকে মেসেজ করে বলেন, ‘আমার তোমার সঙ্গে কথা আছে, দেখো যেন তোমার মা না জানতে পারেন । কাকিমাকে আমি ভয় পাই।’’ এই কথার জবাব দিতে আসরে নামতেই হয় জিতুকে। তিনি বলেন অপরিণত বয়স দিতিপ্রিয়ার। নিজেও জানে না কী লিখেছে।

তিনি ওকে সঠিক সময়ে সঠিক উত্তর দেবেন ও বাচ্চা মেয়ে, খুবই ইমম্যাচিওর।’ জিতু জানিয়েছেন যে তিনি এই মুহূর্তে সোশ্যাল মিডিয়ায় এই নিয়ে কিছু লিখতে চান না। অভিনেতা বলেন, ‘আমি দিতিপ্রিয়ার কাজের ফ্যান, ওকে খুব স্নেহ করি।’ জিতুর কথায়, ‘বাচ্চাদের যেমন মুড সুইং হয়, তেমনি দিতিপ্রিয়ার হয়েছে। শিশুরা শিশুদের মতো কাজ করলে বড়রাও যদি বাচ্চাদের সঙ্গে এরকম কাজ করে তাহলে কী করে হবে? বড়দের ম্যাচিউরিটি দেখাতে হয়। বিষয়টা ধীরে ধীরে মোটামুটি মিটে গেলেও দুজনের সম্পর্কের উত্তাপ কিন্তু বাড়েনি তারা স্টুডিওতে আসতেন শট দিতেন চলে যেতেন দিন কয়েক আগে জিতু অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভরতি হন তার সুস্থতা কামনা করে পোস্ট করেন দিতিপ্রিয়া কিন্তু দিন কয়েক যেতে না যেতেই নয়া বিপত্তি। শুনতে পাওয়া গিয়েছিল দিতিপ্রিয়া নাকি একেবারেই কাজ করতে চান না অভিনেতার বিপরীতে।দিতিপ্রিয়া নাকি ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে জিতুর সঙ্গে অভিনয় করতে চান না। খুব স্বাভাবিকভাবেই এই বক্তব্য জিতুর কাছে ভীষণ অপমানের এবং অসম্মানের। সোশ্যাল মিডিয়ায় জিতু লেখেন, ‘আমি ঘরের কথা বাইরে নিয়ে যেতে পছন্দ করি না। তাই হয়তো মিডিয়ার বন্ধুদের ফোন আমি তুলতে পারি না যখন কোন অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটে হয়। কিন্তু,বললে তো সত্যি বলব! মিথ্যে কেন বলব?? মিথ্যে বলার থেকে না বলাই ভালো। হ্যাঁ,আমার সহ অভিনেত্রী দিতিপ্রিয়া রায় আমার সঙ্গে শর্ট দিতে রাজি নন। আমি খুব খারাপ একজন মানুষ, মহিলা অভিনেতাদের সাথে অভিনয় করার যোগ্য নই, শরীর খারাপের মিথ্যে নাটক করছি। তা নাহলে ১০ ঘণ্টা কাজ করছে কী করে হসপিটাল থেকে ফিরে।’
এই সব অভিযোগের কথা প্রযোজনা সংস্থা মারফত জানতে পেরেছেন জিতু। শুধু তাই নয়, দিতিপ্রিয়া বরবারই নির্দিষ্ট প্রযোজনা সংস্থার ঘনিষ্ঠ হিসাবে পরিচিত। জিতুর দাবি, তাঁকে নাকি ক্রিয়েটিভ টিমের তরফে সিরিয়াল ছেড়ে দেওয়ার কথাও আকারে ইঙ্গিতে বলে দেওয়া হয়েছে। তিনি লিখেছেন, ‘সেই প্রোডাকশনের দু-তিনজন এটাকে সহমত জানিয়ে বলেছেন যে আপনি (জিতু) চাইলে ছেড়ে দিতেও পারেন।’ স্বাভাবিক ভাবেই এটা ভীষণ অপমানে লাগে তার, এর পর তাদের দুজনকে নিয়ে বৈঠকও হয় যার মাঝপথেই বেড়িয়ে যান জিতু, শোনা যায় জিতু নাকি ধারাবাহিক ছেড়ে দিচ্ছেন অন্য আর এক নায়কের নাম উঠে আসে তার জায়গায়। তবে ব্রিহস্পতিবারের টিআরপি রেটিংয়ে খানিকটা উঠে আসে এই ধারাবাহিক। বৃহস্পতিবার টিআরপির ফলপ্রকাশ হতেই জীতু কমল জানালেন, আর্যর চরিত্রে তিনিই থাকছেন।টিআরপির ফলপ্রকাশের পরই বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে অভিনেতা জানান, “শুধুমাত্র কলাকুশলী এবং আমার ভগবান দর্শকদের কথা মাথায় রেখে আমি আবারও ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ ধারাবাহিকে ফিরতে বাধ্য হলাম।” জীতুর কথায়, “২০০৮ থেকে আমি ক্যামেরার সামনে কাজ শুরু করি। ২০০৮ থেকে আজ ২০২৫ সালের শেষ লগ্ন পর্যন্ত আমি যতটুকু নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি, তার ৮০ শতাংশ কৃতীত্ব আমাদের টেকনিশিয়ান দাদা-বন্ধুদের। বাড়িয়ে বলছি না, বা বিনয় দেখাচ্ছি না। সেটা আমার ফ্লোরে এসে টেকনিশিয়ানদের জিজ্ঞেস করুন।”