এসআইআর নিয়ে সচেতনতার বার্তা স্বপন দত্ত বাউলের

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : রাজ্যজুড়ে এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে এখন এনুমারেশন ফর্ম ফিলআপের তৎপরতা। একদিকে যেমন ব্যস্ত বিএলওরা। অন্যদিকে এসআইআর ফিলআপ করে জমা দেওয়া নিয়ে তৎপর রাজ্যবাসীও।সবসময় যেন আতঙ্ক তাড়া করে বেড়াচ্ছে বাসিন্দাদের। এসআইআরে নাম তুলতে হবে। নাহলেই নাম কাটা যাবে।
তবে আতঙ্ক নয়, প্রয়োজন সচেতনতা। বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে গানে গানে এমনই বার্তা দিচ্ছেন বাউল স্বপন দত্ত। দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুন্দরবনের প্রবেশদ্বার ক্যানিং রেলওয়ে এলাকায় গেলেই দেখা মিলছে স্বপন বাউলের। এসআইআর নিয়ে সচেতনতার বার্তা দিলেন কেন্দ্র ও রাজ্যের সম্মানিত শিল্পী স্বপন দত্ত বাউল। তিনি বলেন এসআইআর নিয়ে কেউ ভয় পাবেন না। অযথা আতঙ্কিত হবেন না। কেউ আতঙ্কিত হয়ে ভয় পেয়ে আত্মহত্যা করবেন না। তিনি আরও বলেন ২০০২ সালে ভোটার তালিকায় যাদের নাম আছে এবং যারা বৈধ ভোটার, তাদের কোনও চিন্তা নেই। আবার যাদের ১৯৮৭ সাল থেকে ২০০৪ সালের মধ্যে জন্ম বা ২০০৪ সালের পরেও যাদের জন্ম তাদেরও কোন ভয় নেই। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় যাদের বাবা মার নাম আছে তাদেরও কোন ভয় নেই। তাই কোনও ভোটার অযথা ভয় পাবেন না। গৃহবধূদের ক্ষেত্রে বাপের বাড়ির পিতা মাতার ২০০২ সালে নাম থাকলে তাদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই।
ইতিমধ্যে এসআইআর আতঙ্কে আত্মহত্যার একাধিক ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ তুলেছে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস।যদিও ঘটনাগুলি সাজানো এবং এসআইআর নিয়ে মিথ্যা প্রচারের জন্য আত্মহত্যা বলে চালানো হচ্ছে বলে পাল্টা অভিযোগ তুলেছে বিজেপি।
সমস্ত বিতর্ক দূরে সরিয়ে যাও বা রাজ্যে এসআইআর শুরু হয়েছে। এরমধ্যেও তৃণমূলের অভিযোগ, জলপাইগুড়ির মালবাজারে এক বিএলও আত্মহত্যা করেছেন। বৃহস্পতিবার কোন্নগরে এসআইআর-এর ফর্ম বিলি করতে গিয়ে মাথা ঘুরে পড়ে যান বিএলও তপতী বিশ্বাস। হাসপাতালে ভর্তি করলে চিকিৎসক জানান, সেরিব্রালে অ্যাটাক হয়েছে। শরীরের বাম দিক অসাড় হয়ে গিয়েছে। অসুস্থ হয়ে পড়েন আরেক বিএলও। এরইমধ্যে এসআইআর বন্ধ করার আবেদন জানিয়ে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি লিখেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রীর আবেদন, “বিএলওদের এসআইআরের জন্য ট্রেনিং দেওয়া হোক”। এই মর্মে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।