”এসআইআর কেন্দ্রের নির্বাচন কমিশন ও বিজেপির যৌথ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত”, নদিয়ার কৃষ্ণনগরে বিস্ফোরক মন্তব্য মন্ত্রী শশী পাঁজার।

বিশ্বজিৎ দেবনাথ, নিজস্ব সংবাদদাতা : এসআইআর নিয়ে কটাক্ষ পাল্টা কটাক্ষ অব্যাহত। একদিকে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ এসআইআর আতঙ্কে মানুষ আত্মহত্যা করছেন। অত্যধিক চাপে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন বিএলওরা। অন্যদিকে বিজেপির অভিযোগ অনুপ্রবেশকারীদের সাহায্য নিয়েই জিততে চায় তৃণমূল কংগ্রেস। সেজন্যই ভয় পাচ্ছে তারা। এরইমধ্যে এবার নদিয়ার কৃষ্ণনগরে গিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে খড়গহস্ত রাজ্য়ের নারী ও শিশুকল্যাণমন্ত্রী শশী পাঁজা। তাঁর অভিযোগ, “পশ্চিমবঙ্গেউদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসআইআর করা হচ্ছে। মাত্র দু মাসে এত হুড়োহুড়ি কেন? যার কারণে অকালে প্রাণ চলে গেল ৩০ জনের। আত্মহত্যা করতে হল দুজন বিএলওকে। বিহারের সাথে বাংলাকে টার্গেট কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের। লোকসভার আগে কেন এসআইআর করা হল না? ২৬শে বিধানসভা নির্বাচনের আগে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে এসআইআর করা হচ্ছে কেন?”
মন্ত্রী শশী পাঁজা বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের মানুষের উদ্দেশ্যে বলে দিয়েছেন কেন্দ্র নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত চক্রান্তে কেউ ভয় পাবেন না। SIR নিয়ে এত হুড়োহুড়ি করার জন্য চাপা পড়ে যাচ্ছে গণতন্ত্র। এটা কি নির্বাচন কমিশন চোখে দেখতে পাচ্ছেন না? বিএলওরা কাজ করতে পারছেন না, তার জন্য প্রতিবাদও করছেন তারা।” শুক্রবার নদিয়ার কৃষ্ণনগরের একটি বিশেষ কর্মসূচিতে গিয়ে এসআইআর নিয়ে এমনই মন্তব্য করলেন রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা। প্রগ্রেসি হেলথ এসোসিয়েশনের ন্যাশনাল ফার্মেসিস সপ্তাহ সেলিব্রেশন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা। মূলত ফার্মেসিস বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সম্মাননা প্রদান সহ বেশ কিছু কর্মসূচি নিয়ে কৃষ্ণনগর রবীন্দ্রভবনে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রদীপ জ্জ্বালিয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করেন শশী পাঁজা। এরপর এসআইআর নিয়ে সুর চড়ালেন তিনি। মন্ত্রী শশী পাঁজার কথায়, ”কেন্দ্রের বিজেপি সরকার এমন ভাব করছে এ রাজ্যে যারা বসবাস করেন সবাই অনুপ্রবেশকারী। এতদিন যারা ভোট দিয়ে এসেছে, তাদেরকে নতুন করে প্রমাণ করতে হচ্ছে তারা এই দেশের নাগরিক। এসআইআর আগে কেন করা হল না? যখন ২৬-এর নির্বাচন দোরগোড়ায়, তখন তড়িঘড়ি কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনকে কাজে লাগিয়ে এই রাজ্যে এসআরআই করা হল। আসলে এসবই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। বিজেপি এবং কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের এই চক্রান্ত বাংলার মানুষ বুঝতে পেরে গেছে, ২৬-এ বিধানসভা নির্বাচনে এই রাজ্যের একটা ভোটও বিজেপি আর পাবে না।”