টাকা চুরির অপবাদ দিয়ে পরিচারককে মারধর এবং পরিচারকের দিদিকে শ্লীলতাহানি ও কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ রানীবাঁধ থানার মেজবাবুর বিরুদ্ধে। প্রতিবাদে শনিবার সকাল থেকে রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ।

মিলন কর্মকার, নিজস্ব সংবাদদাতা: স্থানীয়দেরবিক্ষোভরাস্তা এবং রাস্তা অবরোধকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়াল বাঁকুড়ার রানীবাঁধে। শুক্রবার রাতের পর শনিবার সকাল থেকে স্থানীয়দের পথ অবরোধকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়াল। টাকা চুরির অপবাদ দিয়ে পরিচারককে দফায় দফায় মারধরের অভিযোগ উঠেছিল রানীবাঁধ থানার মেজো বাবু শুভম রায়চৌধুরীর বিরুদ্ধে। ওই পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে পরিচারকের দিদিকে শ্লীলতাহানি, কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগও ওঠে। সেই ঘটনায় অবিলম্বে ওই পুলিশ আধিকারিককে শাস্তি দেওয়া হোক, এই দাবিতে শুক্রবার রাতের পর শনিবার সকাল থেকে ফের পথ অবরোধ শুরু করেন রানীবাঁধ থানার রাজাকাটা গ্রামের মানুষজন। রানীবাঁধের ক্ষুদিরাম স্ট্যাচু মোড়ে অবরোধের পাশাপাশি চলছে পুলিশকে ঘিরে প্রবল বিক্ষোভ দেখান তাঁরা।

গত বৃহস্পতিবার বাঁকুড়ার রানীবাঁধ থানার মেজোবাবু শুভম রায়চৌধুরী তাঁর বাড়ি থেকে কয়েক লক্ষ টাকা চুরির অপবাদ দিয়ে পরিচারক সজল সহিসকে বেধড়ক মারধর করেন বলে অভিযোগ। মারধরের কথা বাইরে জানালে সজলকে সার্ভিস রিভলবার দেখিয়ে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেন ওই পুলিশ আধিকারিক, তেমনটাই অভিযোগ। শুক্রবার ওই পুলিশ আধিকারিক পরিচারক সজলের বাড়িতে গিয়ে বাক্স ভেঙে কিছু নগদ টাকা ও অলঙ্কার নিয়ে যায় বলে দাবি গ্রামবাসীদের। বাধা দিতে গেলে সজলের দিদিকে ওই পুলিশ আধিকারিক শ্লীলতাহানি করে ও কুপ্রস্তাব দেয় বলে অভিযোগ পরিবারের। শুক্রবার একই অপবাদে ফের সজলকে নিজের ভাড়া বাড়িতে ডেকে ওই পুলিশ আধিকারিক অকথ্য নির্যাতন চালান বলে অভিযোগ। ঘটনায় সজল অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে রানীবাঁধ ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করান পরিবারের সদস্যরা। শুক্রবার বিকেলেই রানীবাঁধ থানার মেজোবাবুর কীর্তির কথা জানাজানি হয় এলাকায়। এরপরই ক্ষেপে ওঠেন এলাকার মানুষেরা। অভিযুক্ত পুলিশ আধিকারিকের শাস্তির দাবিতে শুক্রবার সন্ধ্যা ৭ টা থেকে রাত ১২ টা পর্যন্ত রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে চলে বিক্ষোভ। পরে ঘটনার তদন্ত করে অভিযুক্ত পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের আশ্বাস দিলে রাত ১২ টা নাগাদ অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন গ্রামবাসীরা। কিন্তু তারপরেও অভিযুক্ত পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ না হওয়ায় শনিবার সকালে ফের পথে নামেন এলাকার ক্ষুব্ধ মানুষজন। শনিবার সকাল ১০ টা থেকে রানীবাঁধের ক্ষুদিরাম স্ট্যাচু মোড়ে হাতে লাঠি সোঁটা নিয়ে, টায়ার জ্বালিয়ে ফের পথ অবরোধ শুরু করেন স্থানীয়রা। পরিস্থিতি সামাল দিতে অবরোধস্থলে পৌঁছয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। পুলিশকে ঘিরেও চলতে থাকে বিক্ষোভ। বিক্ষোভকারীদের দাবি অভিযুক্ত পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে পুলিশ পদক্ষেপ করতে না পারলে জনতার হাতে তুলে দেওয়া হোক। প্রায় ৩ ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও অবরোধ না ওঠায় যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় বাঁকুড়া ঝিলিমিলি ও বাঁকুড়া বারিকুল সড়কে। অভিযুক্ত পুলিশ আধিকারিকের কোনও বক্তব্য মেলেনি। বাঁকুড়ার পুলিশ সুপার টেলিফোনে জানিয়েছেন, ” ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত করে দ্রুত রিপোর্ট দেওয়ার জন্য খাতড়ার এসডিপিওকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রিপোর্ট পেলেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে”। একই সঙ্গে তাঁর দাবি, ” একই ইস্যুতে এভাবে দফায় দফায় পথ অবরোধ মেনে নেওয়া হবে না। অবরোধকারীদের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে”।