ব্লাইল্ড মহিলা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়ে ইতিহাস গড়ল ভারত। ৭ উইকেটে নেপালকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন ভারত।

রিয়া দাস, সাংবাদিক : তিনটি সপ্তাহ আগে হরমনপ্রীত ব্রিগেড আইসিসি ওয়ার্ল্ড কাপ জিতে নতুন ইতিহাস তৈরি করেছিল। তার ঠিক ২১ দিন পর সেই আনন্দ আরও এক ধাপ বাড়িয়ে দিলেন দেশের আর একদল যোদ্ধা। দৃষ্টিহীনদের মহিলা ক্রিকেট দল। প্রথমবারের মতো আয়োজিত ব্লাইল্ড মহিলা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেই ভারত বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়ে ইতিহাস গড়ল। ক্রিকেটে প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে কীভাবে সর্বোচ্চ সাফল্য অর্জন করা যায় এই দলটি তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ। শ্রীলঙ্কায় এই প্রতিযোগিতার ফাইনালে ভারত ৭ উইকেটে নেপালকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়। অপরাজিত থেকে চ্যাম্পিয়ন হল ভারত। ফাইনালে টস জিতে নেপালকে ব্যাট করতে পাঠায় ভারত। সেই সিদ্ধান্ত যে নিখুঁত ছিল তা প্রমাণ করতে ভারতীয় বোলাররা শুরু থেকেই চাপ তৈরি করে রাখেন। নেপাল ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১১৪ রান করে। জবাবে ভারত ১২.১ ওভারেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায়।

প্রতিযোগিতায় ছিল ছয়টি দল
ভারত, নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, অস্ট্রেলিয়া ও আমেরিকা
শেষ চারের লড়াইয়ে শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছে ভারত
প্রথম ম্যাচে ভারত ১০ উইকেটে হারায় শ্রীলঙ্কাকে
দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে ২০৯ রানে হারায় ভারত
নেপালকে ৮৫ রানে হারায় ভারত
আমেরিকাকে ১০ উইকেট ও পাকিস্তানকে ৮ উইকেটে হারায় ভারত

দলের সিংহভাগই এসেছেন গ্রাম থেকে। শৈশব থেকে লড়াই করতে হয়েছে নানা প্রতিকূলতার সঙ্গে। অনেকে আবার কয়েক বছর আগেই ক্রিকেট খেলা শুরু করেছেন। রবিবার বিশ্বকাপ জয়ের পরে যেন সে লড়াই প্রকৃত অর্থে মূল্যায়িত হয়। নেপালকে সাত উইকেটে হারিয়ে শেষ হাসি হাসলেন ভারতের মেয়েরা। ভারতীয় মহিলা ব্লাইন্ড ক্রিকেটের দলে কারা কারা রয়েছেন, চলুন জেনে নেওয়া যাক।

ভারতীয় একাদশ
১. দীপিকা টিসি (অধিনায়ক)
পুরো টুর্নামেন্ট খেলেছেন, ফাইনালেও খেলেছেন
২. ফুলা সোরেন
২৭ বলে ৪৪ রান
ম্যাচের সেরা
৩. পি.করুণা কুমারী
২৭ বলে ৪২ রান করেন
৪. ফতিমা সানাম
৫৬ রান, ওপেনার
ফাইনালের নায়িকা
৫. জ্যোতি
১৪ রান
টপ অর্ডার ব্যাটার
৬. কুসুম কুমারী
২২ রান, ব্যাটার
৭. সুচিতা আনন্দ
বোলিং- ১ উইকেট
নির্ভুল লাইন লেন্থের বোলার
৮. আরতি
বোলিং- ১ উইকেট
মিডল ওভারের নির্ভরযোগ্য বোলার
৯. জ্যোৎস্না
বোলিং- ১ উইকেট
১০. রাগিনী
বোলিং- ১ উইকেট
১১. গীতা
অপরাজিত থেকে ট্রফি জয় শুধু সাফল্য নয়। এ এক নতুন ইতিহাস, এক নতুন বার্তা। ট্রফি পাওয়ার পরে হরমরপ্রীত ও স্মৃতিদের বিজয়োৎসবের ঝলক ফিরিয়ে আনেন দীপিকারা। ঠিক যে ভঙ্গিতে তারা ট্রফি তুলে নিয়েছিল, ঠিক সেই ভঙ্গিতেই সতীর্থদের সঙ্গে উৎসবে মাতেন দীপিকারাও। দীপিকা ম্যাচের শেষে বলেন, আমার ও আমাদের দলে জন্য সবচেয়ে খুশির মুহূর্ত। জেমি ও শুভমন গিলের সমর্থন আমাদের আরও বেশি করে প্রেরণা দিয়েছে। বলাই যায়, সমাজের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল ভারতের এই মেয়েরা যে দৃষ্টিহীনতা তাদের থামাতে পারেন বরং শক্তি দিয়েছে। অনেকেই তাঁদের কটাক্ষ করেছে ক্রিকেট খেলা নিয়ে। অনেকেই বলেছে মেয়েরা রান্নাঘরেই ঠিক আছে। এখানেই বিখ্যাত আমেরিকান গায়িকা আরিয়ানা গ্রান্ডের সেই একটা গানের লাইন মনে গেল, গড ইস অ্যা ওম্যান। সেইটাই আবারও প্রমাণ হল। এই জয়ের ছবি দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করতে দেখা গেল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ থেকে নানান সেলিব্রেটিদের। সকলেই তাঁদের এই জয়ে সামিল হয়েছেন। এই জয়ের মাধ্যমে তারা প্রমাণ করেছে যে সংকল্প, পরিশ্রম আর সাহস থাকলে কোণও বাধাই অদম্য নয়। ভারতের ক্রিকেট ইতিহাসে এই জয় তাই শুধু একটি ট্রফি নয়। নারীর শক্তি, সক্ষমতা ও দৃঢ়তার এক উজ্জ্বল অধ্যায়।