ইথিওপিয়ার আগ্নেয়গিরির ছাই উড়ে এল দিল্লিতে !

ইথিওপিয়া আগ্নেয়গিরি থেকে নির্গত ছাই ও ধোঁয়া ভাসছে ভারতের আকাশে। ভূপৃষ্ঠ থেকে অন্তত ২৫ হাজার ফুট উচ্চতায় এই ছাই ভাসছে বলে জানাচ্ছেন আবহবিদরা।

নাজিয়া রহমান, সাংবাদিক : ঘুমন্ত ইথিওপিয়ার আগ্নেয়গিরি ১০ হাজার বছর পর আবার জেগে উঠেছে।  আর সেই আগ্নেয়গিরির ছাই এসে পৌঁছল দিল্লিতেও। দূষণের প্রকোপে এমনিতেই প্রাণ ওষ্ঠাগত রাজধানী দিল্লিতে। সেই আবহে পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলল ইথিওপিয়া আগ্নেয়গিরি থেকে নির্গত ধোঁয়া, ছাই। ভারত ও ইথিওপিয়া এই দুই দেশের মধ্যে দূরত্ব প্রায় ৪ হাজার ৫৫০ কিলোমিটার। কিন্তু ইথিওপিয়া আগ্নেয়গিরি থেকে নির্গত ছাই ও ধোঁয়া ভাসছে ভারতের আকাশে। এটাই হয়তো প্রকৃতির খেলা। ভূপৃষ্ঠ থেকে অন্তত ২৫ হাজার ফুট উচ্চতায় এই ছাই ভাসছে বলে মত আবহবিদদের। দিল্লি থেকে এই ছাই ক্রমে ভেসে যাচ্ছে উত্তর-পূর্ব দিকে। এতে বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে।দশ হাজার বছর পর জেগে ওঠা ইথিওপিয়ার আগ্নেয়গিরি নিয়ে বেশ চিন্তায় বৈজ্ঞানিকমহল । যাকে বিজ্ঞানীরা বলছেন বিরল ঐতিহাসিক এবং প্রাকৃতিক ঘটনা। বিগত দশ হাজার বছর ঘুমিয়ে ছিল ইথিওপিয়ার ‘হেলি গুব্বি’ আগ্নেয়গিরি। আর সেটি থেকেই শুরু হয়েছে  ভয়ংকর অগ্ন্যুৎপাত। ভূগর্ভের মধ্যে কি এমন ঘটলো যে জেগে উঠল এই সুপ্ত আগ্নেয়গিরি? কি বলছেন বিজ্ঞানীরা?

এই ঘুমন্ত  আগ্নেয়গিরি ইথিওপিয়া জেগে ওঠার পর থেকেই একাধিক সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিশেষ করে বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে হাই অ্যালার্ড জারি করা হয়েছে।সমস্ত ভারতীয় বিমান পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলিকে জরুরি পরামর্শ দিয়েছে ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল এভিয়েশন।  বলা হয়েছে  বিমান সংস্থাগুলিকে রুট এবং জ্বালানী নিয়ে সতর্ক থাকতে। বিমানের পাইলটদের সতর্ক করা হয়েছে ছাইয়ের ভিতর দিয়ে কোনওভাবেই যাতে বিমান নিয়ে না  যাওয়া হয়।  শুধু তাই নয়, পাইলটদের ইঞ্জিনের অস্বাভাবিক আচরণ বা কেবিনের মধ্যে কোনও গন্ধ পেলে দ্রুত রিপোর্ট দিতেও বলা হয়েছে। পাশাপাশি  এই ঘটনায় বেশ কিছু বিমান সংস্থা তাদের ফ্লাইট ক্যান্সেল ও করেছে। এই ভাবে আগ্নেয়গিরি জেগে ওঠায় বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে এটা কতটা বিপদ জনক? কি বলছেন বিজ্ঞানীরা?

এখন প্রশ্ন এই ভাবে হঠাৎ আগ্নেয়গিরি জেগে উঠলে  আমজনতার ঠিক কী অসুবিধা হতে পারে? আগ্নেয়গিরি থেকে নির্গত ছাই আকাশে ভাসলে প্রকৃতির কি পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়?আবহবিদদের মতে, এর ফলে আকাশ কিছুটা ঘোলাটে দেখাতে পারে। সূর্যোদয়ের সময়েও আকাশের রঙ খানিকটা অস্বাভাবিক লাগতে পারে। কিছু জায়গায় আকাশ থেকে ছাইও ঝরে পড়তে পারে, তবে সেটা সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ বলেই মত আবহাওয়াবিদদের। যেহেতু ভূপৃষ্ঠ থেকে ২৫ হাজার ফুট উচ্চতায় ছাই রয়েছে, তাই দূষণজনিত সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা আপাতত নেই বলেই মত আবহাওয়াবিদদের। ইথিওপিয়ার ছাই যোধপুর-জয়সলমের হয়ে ভারতে ঢুকেছে । তবে শুধু যোধপুর-জয়সলমের নয় এই  ছাই দেখা যেতে পারে গুজরাট,  উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানার কিছু অংশেও বলে মত আবহাওয়াবিদদের।