ওরে আমার সাথে খেলতে যাস না : মুখ্যমন্ত্রী

মতুয়াদের মন জয় করতে বনগাঁয় পদযাত্রা মুখ্যমন্ত্রীর। জনসভা থেকে একের পর এক ইস্যু তুলে বিজেপিকে নিশানা করলেন তিনি।

“বিজেপির চক্রান্তে SIR-এর মাধ্যমে বৈধ ভোটারদের বাতিল করা হচ্ছে। ষড়যন্ত্র হচ্ছে।“ এমনই প্রতিবাদে বনগাঁয় জনসভা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে পৌঁছে হেলিকপ্টার না পাওয়া নিয়ে কেন্দ্রকে বিঁধলেন তিনি।  মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “প্রথমেই আপনাদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। কারণ আমার আসতে দেরি হয়েছে। ৭-৮ মাস আমি হেলিকপ্টার ব্যবহারও করি না। গাড়িতে করেই বিভিন্ন জেলা সফর করেছি। চুক্তি করে একটা সরকারি হেলিকপ্টার নেওয়া হয়েছে। আমাদের বেরনোর কথা ছিল ১২টায়। মিটিংয়ের সময় ছিল সাড়ে ১২টা। হঠাৎ খবর এল হেলিকপ্টার যাবে না। আমি ভাবলাম ভোটই শুরু হল না, সংঘাত শুরু হয়ে গেল। এতে বরং ভালোই হল। কারণ রাস্তায় অনেকগুলো এলাকা ঘুরে এলাম। অনেক মানুষের সঙ্গে দেখা হয়েছে। ফলে জনসংযোগের মাধ্যমে আরও বেশি করে সুদৃঢ় সম্পর্ক তৈরি করতে পেরেছি। তাই বিজেপিকে বলি – ওরে আমার সাথে খেলতে যাস না। আমি যে খেলাটা খেলবো, সেই খেলায় তোমরা আমাকে ধরতেও পারবে না। নাগালও পাবে না।  ছুঁতেও পাবে না। ভারত সরকার সব এজেন্সি নিয়ে বসে থাকো। কোটি কোটি টাকা খরচ করো। লোককে টাকা দাও। মানুষ টাকা নেবে। কিন্তু ভোট দেবে না। কারণ তুমি একমাসের জন্য টাকা দেবে। আর ৩৬৫ দিন জীবন চলবে কী করে ?  মানুষ চায় নিরাপত্তা। জীবন, সন্তান, গণতন্ত্র, সম্পত্তির নিরাপত্তা। মহিলাদের সম্মান। সম্মান না দিতে পারলে অন্তত অসম্মান করো না। আমি নারী শক্তির প্রতীক হিসেবে রয়েছি। আমি কিছু ধরলে সেটাকে শেষ করে ছাড়ি। ২৬ দিন অনশন করেছিলাম সিঙ্গুরের কৃষকদের জমি ফেরাবো বলে। অনশন তুলিনি। জমি ফিরিয়ে ছেড়েছি। সারা জীবন যেভাবে সংগ্রাম করে এসেছি। সেই সংগ্রামের রাস্তাই আমাকে রাস্তা দেখাবে।”

মুখ্যমন্ত্রী বলেন,  “২০০২-এ শেষবার এসআইআর হয়েছিল। আমরা এর বিরোধিতা করিনি। আমরা বলেছিলাম একটাও বৈধ ভোটারের নাম যাতে বাদ না যায়। যারা বিভিন্ন স্কিমে টাকা পায়, যারা দীর্ঘসময়ে এখানে বসবাস করছেন, তাদের তাড়ানোর অধিকার তোমার নেই।  বিজেপি অফিস থেকে তালিকা ঠিক করে দেবে। তা হয় না। জনতা ভোট দিয়ে সরকার গঠন করেছে। বিজেপি ভোটার তালিকা ঠিক করে দিতে পারে না।“

মুখ্যমন্ত্রী বলেন,  “প্রথমে বলল আধার কার্ড বানাতে হবে। আমারও আধার কার্ড করতে আধঘণ্টা সময় নষ্ট হয়েছে। এখন এসআইআরের বেলায় আধার কার্ড, প্যান কার্ড, ব্যাঙ্কের কাগজ, লক্ষ্মীর ভান্ডারের কার্ড, স্বাস্থ্য সাথীর কার্ড সবকিছুতেই নো স্যার। একমাত্র বিজেপি করলেই ইয়েস স্যার। এটা অত সহজ খেলা নয়।“

বিজেপিকে একহাত নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন,  “আগামীকাল বাবা সাহেব অম্বেদকরের জন্মদিন, সংবিধান দিবস। অনেক ভেবেচিন্তে মানুষটা সংবিধান রচনা করেছিলেন। তিনি ছিলেন সংবিধান ড্রাফটিং কমিটির চেয়ারম্যান। অবিভক্ত বাংলার বিধানসভা থেকে প্রথমবার নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। এটা আমাদের গর্ব। তাঁর চোখে আমরা সংবিধান দেখি। সর্ব ধর্ম সমন্বয়ের কথা জানতে পারি। রামকৃষ্ণ, হরিচাঁদ গুরুচাঁদ, অনুকুল ঠাকুর, বাবা লোকনাথ, স্বামী বিবেকানন্দ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নজরুল ইসলামরাও একই কথা বলে গিয়েছেন। তোমরা কত বড় গুরু ভাই, যে ধর্মের নামে তোমরা খেলবে ? ধর্মের নামে অধর্ম করবে, মানুষকে ভয় দেখাবে, এদিকে বাংলা চাই। আবার বাংলাভাষায় কথা বললেই বাংলাদেশি তকমা দিচ্ছেন?  আগে ইতিহাসটা তো জানুন।“

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি বাংলাদেশিদের মতো কথা বলছি। ক্ষমতা থাকলে গ্রেফতার করুক।“

 বিজেপি তথা কেন্দ্রকে এভাবেই তীব্র নিশানা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন-  “কেউ আত্মহননের পথ বেছে নেবেন না। মানুষের জীবন খুব সুন্দর। নিশ্চিন্তে থাকুন। ভালো থাকুন।”

বনগাঁর মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী ভবিষ্যদ্বাণী করেন, “বাংলা দখল করতে গিয়ে গুজরাট হারাবে, দেশও হারাবে। ২০২৯ বড় ভয়ঙ্কর হতে চলেছে। ক্ষমতা হারাবে বিজেপি। দিল্লি দখল করবে তৃণমূল।”

মঙ্গলবার চাঁদপাড়া থেকে পদযাত্রা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশেই ছিলেন মমতাবালা ঠাকুর এবং কনিষ্ঠতম বিধায়ক মধুপর্ণা। এছাড়া সঙ্গে ছিলেন সুজিত বসু, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকরাও। তৃণমূল সমর্থকদের পাশাপাশি বহু সাধারণ মানুষ যোগ দেন সেই মিছিলে।