কাকা হল বাবা!  বাংলাদেশির ভারতীয় ভোটার কার্ড

সীমান্ত পেরিয়ে এসে গোটা গ্রাম বানিয়ে ফেলেছে বাংলাদেশিরা। কাকা নজরুল গাজিকে বাবা সাজিয়ে ভোটার কার্ড সহ যাবতীয় নথি তৈরি করে ফেলে আলতাব গাজি।

শ্যাম বিশ্বাস, নিজস্ব সংবাদদাতা :  বঙ্গে এসআইআর আবহের মাঝেই এবার বাংলাদেশির হদিশ মিলল উত্তর ২৪ পরগনার হাসনাবাদ ব্লকের অন্তর্গত মধ্যবরুনহাট এলাকায়।  ২০ থেকে ২৫ বছর আগে এই এলাকায় নজরুল গাজি নামে এক বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী আসে।  প্রথমে সীমান্ত পেরিয়ে এই এলাকায় প্রবেশ। তার দশ বছর  পর এই নজরুল গাজির ভাইপো আলতাফ গাজিও চলে আসে এখানে। সীমান্ত পেরিয়ে অবৈধভাবে শুধু আসেননি। পাকাপাকিভাবে নিজের আস্তানা তৈরির জন্য করে কারসাজিও।  নিজের কাকা নজরুল গাজিকে বাবা সাজিয়ে ভোটার কার্ড সহ যাবতীয় নথি তৈরি করে ফেলে আলতাব গাজি।

কাঁটা তার রয়েছে। রয়েছে বিএসএফ। রয়েছে কড়া নজরদারিও। তা পেরিয়ে বাংলাদেশ থেকে এদেশে আসা। এবং দীর্ঘদিন যাবত বসবাস করা। এক বা দুজনের বসবাস নয়। কার্যত একটা গোটা গ্রাম তৈরি করে ফেলা। যেখানে প্রায় ৭০ শতাংশই বাংলাদেশি। এসআইআরের গ্যাড়াকলে সেগুলি ধীরে ধীরে সামনে আসছে। কিন্তু এই অনুপ্রবেশকারীরা প্রবেশ করছে কি করে। আত্মীয়কে বাবা সাজিয়ে ভোটার কার্ড। এসব কিছুই জানত না প্রশাসন। নাকি জেনেও মুখে আঙুল দিয়ে চুপ করে বসেছিল। উঠছে প্রশ্ন।

এই বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী কীভাবে এত তাড়াতাড়ি ভারতের যাবতীয় নথি বানিয়ে ফেললো এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধা পেল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অবিলম্বে এই অনুপ্রবেশকারীর বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হোক, এমনটাই দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এই খবর পেয়ে আমাদের সাংবাদিক যখন ওই অনুপ্রবেশকারী আলতাফ গাজীর বাড়িতে যান। ঘন জঙ্গলের মধ্যে তার বাড়ি। সেই বাড়ি পেছনের দিকটা ফাঁকা মাঠ। সেখানে বিভিন্ন ফসল চাষাবাদ হচ্ছে। বাড়ির মূল গেটে বাইরে থেকে তালা ঝোলানো। আশেপাশে জিজ্ঞাসা করায় প্রতিবেশী বললেন ওই ব্যক্তি পাশের বাড়িতে গেছেন। তার কিছু সময় পর ওই এলাকার বহু মানুষ জড়ো হয়ে আমাদের সাংবাদিককে ধাওয়া করতে শুরু করে। প্রাণ বাঁচাতে অন্য একটি বাড়ির ভিতরে আশ্রয় নেন তাঁরা। তারপর হাসনাবাদ থানার পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে মিনিট পাঁচেকের মধ্যে পুলিশ পৌঁছয়। সেখান থেকে আমাদের সাংবাদিকদের উদ্ধার করে নিয়ে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। ওই এলাকায় গিয়ে দেখা গেল ৭০% বাংলাদেশের অনুপ্রবেশকারী অবৈধভাবে বসবাস করছে। এমনটাই অভিযোগ জানাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা ভয়তে ক্যামেরার সামনে না চাইলেন না। কিন্তু আড়ালে আবডালে এমনটাই অভিযোগ করছেন গ্রামবাসীরা। ভারতের ভূখণ্ডে’ ভারতীয় সাংবাদিকরা সুরক্ষিত নয়। সাংবাদিকদের যদি এই অবস্থা হয়, তাহলে পাশের গ্রামের মানুষদের কী অবস্থা হচ্ছে, সেটাই বড় প্রশ্ন। সেজন্যই ওই এলাকার বাসিন্দারা বারবার আমাদের সাংবাদিকদের জানাচ্ছেন, এই অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের কথা। গোটা একটা গ্রাম বানিয়ে ফেলেছে অবৈধ বাংলাদেশিরা। সেখানে ঢোকার সাধ্য নেই কারোর। অপরিচিত কেউ ঢুকলে সঙ্গে সঙ্গে গোটা গ্রাম সজাগ হয়ে যাচ্ছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে এসআইআর আওতায় তাদের নাম থাকবে না বাদ যাবে? সেটা সময়ই বলবে।