জাপানই বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হবে, আশাবাদী হন্ডা

“২০২৬ সালের বিশ্বকাপ জয়ের ক্ষমতা রাখে জাপান”

রিয়া দাস, নিজস্ব সংবাদদাতা: ২০১৪ সালে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়। ২০১৮ সালে শেষ ষোলোয়। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপেও শেষ ষোলোয়। গত তিনটি বিশ্বকাপে এমনই ছিল এশিয়ার অন্যতম ফুটবল মহাশক্তি জাপানের পারফরম্যান্স। প্রশ্ন হল ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপে কতটা কী পারবে সামুরাই ব্লু ব্রিগেড। জাপান কি পারবে ইউরোপ ও লাতিন আমেরিকার শ্রেষ্ঠত্বকে আরও কড়া চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিতে। তার আগে নজর রাখা যাক ফুটবল বিশ্বকাপে জাপানের সামগ্রিক পরিসংখ্যান নিয়ে।

১৯৯৮ সালে প্রথমবার ফুটবল বিশ্বকাপের মূলপর্বে অংশ নেয় জাপান। আর্জেন্তিনা, ক্রোয়েশিয়া ও জামাইকা, গ্রুপের তিনটি ম্যাচই হেরে বিদায় নেয় জাপান। ২০০২ সালে পরের বিশ্বকাপেই চমকে দেয় জাপান। গ্রুপ পর্বে রাশিয়া ও তিউনিশিয়াকে হারায়। ২-২ ড্র করে শক্তিশালী বেলজিয়ামের সঙ্গে। একই সঙ্গ পৌঁছে যায় শেষ ষোলোয়। গ্রুপ অফ সিক্সটিনে তুমুল লড়াইয়ের পরে তুরস্কের কাছে ১-০ গোলে হেরে বিদায় নেয় জাপান। সেই প্রথম বিশ্ব ফুটবলে নিজেদের একটা শক্তি হিসাবে তুলে ধরেন ছোটখাট চেহারার জাপানিরা। সেই প্রথম হিদোতোশি নাকাতাকে চিনল বিশ্ব ফুটবল। এরপর আর জাপানকে থামানো যায়নি। ১৯৯৮ সাল থেকে শুরু করে ২০২২ সালের কাতার পর্যন্ত পরপর সাতটি বিশ্বকাপের মূল পর্বে অংশ নেয় জাপান। এই পর্বে ইয়োতো নাগামোতো, ইজি কাওয়াসিমা, মায়া ইয়োশিদা, হিদেতোশি নাকাতা, শিনজি ওকাজাকি, কেইসুকে হন্ডা, জুনিচি ইনামোতো, ইউজি নাকাজাওয়ারা বিশ্ব ফুটবলের নজর কেড়ে নেন। ২০১০, ২০১৪ ও ২০১৮ পরপর তিনটি বিশ্বকাপেই গোল করেন কেইসুকে হন্ডা। পরিসংখ্যান আরও বলছে গত সাতবারের মধ্যে চারবারই গ্রুপ অফ সিক্সটিনে জায়গা করে নেয় জাপান।

২০২২ কাতার বিশ্বকাপে এশীয় ফুটবলকে নতুন উচ্চতায় তুলে ধরে জাপান। জাপানি গোলায় ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় ইউরোপের দুই সুপার পাওয়ার স্পেন ও জার্মানি। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে ২-১ গোলে হারায় জাপান। সেই ধাক্কায় এতটাই গভীর ছিল যে গ্রুপ পর্যায় থেকেই বিদায় নিতে হয় জার্মানদের। স্পেনেরও দফারফা করে ছেড়ে দেয় জাপানিরা। স্প্যানিস ব্রিগেডকেও ২-১ গোলে হারিয়ে দেয় জাপানিরা। কোস্টারিকার কাছে হারলেও গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে শেষ ষোলোয় জায়গা করে নেয় জাপান। রাউন্ড অফ সিক্সটিনে ক্রোয়েশিয়ার সঙ্গে সমানে টক্কর দেন জাপানের ফুটবলাররা। নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ে খেলার ফল ছিল ১-১। কিন্তু টাইব্রেকারে স্বপ্নভঙ্গ হয়। ৩-১-এ হেরে নিতে হয় বিদায়।

অতীতের এইসব সাফল্যকে হাতিয়ার করেই আরও বড় কিছু করার স্বপ্ন দেখছেন জাপানের ফুটবলাররা। এবার আরও সামনে এগোতে হবে। এবার আরও বড় কিছু করে দেখাতে হবে। সেই বড় স্বপ্নটা কী হতে পারে তার আভাস দিয়েছেন দেশের হয়ে ৯০ ম্যাচ খেলা কেইসুকে হন্ডা। জাপানের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ফুটবল নক্ষত্র হন্ডা সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ জয়ের ক্ষমতা রাখে জাপান। স্টেটমেন্টটা আরও একবার মন দিয়ে শুনুন। জাপান নাকি ফুটবল বিশ্বকাপ জিতে নিতে পারে। হ্যাঁ, এতটাই প্রত্যয়ী বিশ্বকাপে চার গোল করা কেইসুকে হন্ডা। কেইসুকের কথায়, জাপানের ফুটবলারদের যা প্রতিভা তাতে অন্তত পক্ষে সেমিফাইনাল আর বেশি হলে চ্যাম্পিয়ন, এ দুটোই সম্ভব। ফুটবল থেকে অবসর নেওয়া ৩৯ বছর বয়সি এই মিডফিল্ডার পাঁচটি দেশে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। তার মধ্যে ছিল ইতালির এসি মিলানও। তাই কেইসুকের এই মন্তব্যকে আবেগতাড়িত মন্তব্য বলে মনে করার কোনও কারণ নেই। ফলে, বিশ্বকাপে জাপানের মুখোমুখি হওয়ার আগে নিঃসন্দেহে রাতের ঘুম উড়বে বিপক্ষের। সবচেয়ে বড় কথা, জাপান যদি বিশ্বকাপ জিততে পারে তা বদলে দেবে ফুটবলের ইতিহাসই। ইউরোপ ও লাতিন আমেরিকা ছাড়া আর কোনও মহাদেশ বিশ্বকাপ জিততে পারেনি। জাপানের হাত ধরে সেই অধরা স্বপ্ন বাস্তব হলে সমগ্র এশিয়ারই জিত হবে।