গঙ্গাসাগরে ‘হাই-টেক’ প্রস্তুতি

রাতের আকাশে জমকালো ড্রোন শো

বিশ্বজিত নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতাঃ মহাতীর্থ গঙ্গাসাগর মেলার প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে, শনিবার, গঙ্গাসাগরে স্নানের ঘাট পয়েন্টগুলি ঘুরে দেখলেন সেচ মন্ত্রী মানস ভূঁইয়া ও সুন্দরবন উন্নয়নমন্ত্রী বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা।প্রশাসনিক আধিকারিকেরা তাঁদের সঙ্গে ছিলেন।ঘুরে দেখার পাশাপাশি দুই মন্ত্রী সেখানে প্রস্তুতি সংক্রান্ত প্রশাসনিক বৈঠকও করেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মেলার প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে আসার আগেই,  এই বছর মেলার প্রধান আকর্ষণ হিসেবে উঠে এসেছে দীঘার জগন্নাথ দেবের আকর্ষণীয় রেপ্লিকা।এর পাশাপাশি রাতের আকাশে ৪০০ থেকে ৫০০ ড্রোনের মাধ্যমে কপিল মুনির কাহিনি তুলে ধরার অত্যাধুনিক পরিকল্পনা রয়েছে বলে খবর।

গঙ্গাসাগর মেলা এবার একবিংশ শতাব্দীর প্রযুক্তি এবং সনাতন ঐতিহ্যের এক অভূতপূর্ব মেলবন্ধনের সাক্ষী হতে চলেছে। জেলা প্রশাসন পুণ্যার্থীদের আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতাকে স্মরণীয় করে রাখতে এক নজিরবিহীন ‘হাই-টেক’ উদ্যোগ নিয়েছে।প্রযুক্তির সঙ্গে এবার ঐতিহ্যকেও নতুন রূপে সাজানো হয়েছে। বিগত বছরগুলিতে প্রদর্শিত বাংলার বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী মন্দিরের রেপ্লিকার সঙ্গে এবার যুক্ত হচ্ছে নতুন আকর্ষণ। ২০২৩ সালে কালীঘাট, তারাপীঠ, দক্ষিণেশ্বর, তারকেশ্বর ও মালদার জহুরা কালী মন্দিরের মতো পাঁচটি মন্দিরের প্রতিরূপ তৈরি করা হয়েছিল।এবারের প্রধান আকর্ষণ হল আকর্ষণীয় দীঘার জগন্নাথ দেবের মন্দিরের রেপ্লিকা,  যা এই মন্দিরগুলির পাশাপাশি স্থাপন করা হবে। প্রশাসনিক আধিকারিকরা মনে করছেন,  এই প্রতিরূপটি পুণ্যার্থীদের বিশেষ নজর কাড়বে এবং একই স্থানে বাংলার বিভিন্ন দেব-দেবীকে শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ করে দেবে।

কথায় আছে, ‘সব তীর্থ বারবার, গঙ্গাসাগর একবার’। সেই পবিত্র স্থানে এবার প্রযুক্তির ছোঁয়ায় মন্দিরের কাহিনি ফুটিয়ে তোলা হবে। মেলার মূল আকর্ষণ হিসেবে কপিল মুনির মন্দিরের পাশে রাতের আকাশে প্রায় পাঁচ মিনিটের একটি জমকালো ড্রোন শোয়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ ড্রোনের এই অত্যাধুনিক প্রদর্শনীতে কপিল মুনির মন্দিরের প্রতিষ্ঠা,  সাগর রাজার কাহিনি এবং গঙ্গা দেবীর মর্ত্যে আশার কাহিনীর মতো গুরুত্বপূর্ণ পৌরাণিক উপাখ্যানগুলি আলো ও শব্দের মাধ্যমে জীবন্ত হয়ে উঠবে। জেলা প্রশাসনের সূত্র অনুযায়ী, এই ড্রোন শো কেবল বিনোদন নয়,  বরং ধর্মীয় স্থানটির মাহাত্ম্যকে এক ভিন্ন মাত্রায় তুলে ধরবে। প্রশাসনিক কর্তারা মনে করছেন, এই প্রকল্প দেশ-বিদেশের পুণ্যার্থীদের কাছে এক বিশাল চমক হবে, যা গঙ্গাসাগরের ইতিহাসে এই প্রথম। ভিড় সামলাতে অল্প বিরতিতে শো আবার চালু করা হবে, যাতে সকলেই এই মহাজাগতিক অভিজ্ঞতা লাভ করতে পারে।

আগামী জানুয়ারির ৮ তারিখ থেকে শুরু হতে চলেছে এবারের গঙ্গাসাগর মেলা। সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা জানিয়েছেন, গত বছর কুম্ভ মেলা থাকা সত্ত্বেও এক কোটি ১০ লক্ষ পুণ্যার্থী এসেছিলেন। এই বছর কুম্ভ মেলা না থাকায় প্রশাসনিক আধিকারিকরা আশা করছেন, সেই সংখ্যাটি দেড় কোটি ছুঁয়ে যেতে পারে।এই বিপুল সংখ্যক মানুষকে স্বাগত জানাতে মুড়িগঙ্গা নদীতে ৩০ কোটি টাকা বাজেটে ড্রেজিং-এর কাজ চলছে,  যা ভেসেল পরিষেবা স্বাভাবিক রাখতে সহায়ক হবে। ভেঙে যাওয়া স্নানের ঘাটগুলি মেরামত করা হচ্ছে এবং ‘বাফার জোন’-এর পরিধি বাড়ানো হচ্ছে। ধর্মীয় আস্থাকে প্রযুক্তি এবং ঐতিহ্যের মাধ্যমে নতুন রূপে তুলে ধরার এই প্রয়াস গঙ্গাসাগর মেলার ঐতিহ্যকে বিশ্ব দরবারে আরও একবার তুলে ধরবে,  এমনটাই আশা করছে প্রশাসন।