এবার বগুলায় এসআইআর বিতর্ক

জীবিত হয়েও ভোটার তালিকায় মৃত!

অনুসূয়া হালদার, নিজস্ব সংবাদদাতাঃ নদিয়ার বগুলায় এসআইআর বিতর্ক। ভোটার তালিকা নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন চাঞ্চল্য। অভিযোগ, জীবিত থাকা সত্ত্বেও ভোটার তালিকায় ‘মৃত’ বলে চিহ্নিত করা হয় ৭৬ বছরের এক মহিলাকে। এই অস্বাভাবিক ভুলের জেরে সরকারি নথি সংশোধন থেকে শুরু করে SIR ফর্ম, কোনওটাই জোটেনি তাঁর কপালে।অভিযোগ এই নিয়ে ইতিমধ্যেই ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক বা বিডিও-র কাছে লিখিতভাবে আবেদন জমা দিয়েছেন ওই প্রবীণ বাসিন্দা গীতা দত্ত। পরিস্থিতি বুঝেই গীতা দেবী নিজে বিডিও-র কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি জানান, তিনি জীবিত। অথচ তাঁকে ভোটার তালিকায় মৃত দেখানো হয়েছে। এই ভুল ঠিক করে তাঁর নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করা হোক বলা জানান নদিয়ার বগুলার প্রবীণ বাসিন্দা গীতা দেবী। ঘটনাটি সামনে আসে যখন স্থানীয়রা ভোটার তালিকা পর্যালোচনা করতে গিয়ে দেখেন যে বগুলার বাসিন্দা ৭৬ বছরের গীতা দত্তের নামের পাশে উল্লেখ রয়েছে “মৃত”। অথচ গীতা দেবী প্রত্যেকদিনের মতোই বাড়িতে স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন। স্বভাবতই হতবাক পরিবার-পরিজন ও প্রতিবেশীরা। হতবাক গীতা দেবীর ছেলেও।

পরিবারের বক্তব্য, ভোটার তালিকায় ‘মৃত’ বলে চিহ্নিত হওয়ার ফলে গীতা দেবীর কাছে SIR ফর্মও পৌঁছয়নি। ফলে তিনি নিজের নাগরিক অধিকার সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সবকিছু থেকেই বঞ্চিত হচ্ছেন। সরকারি নথিতে এ ধরনের ভুল অত্যন্ত অপমানজনক ও সমস্যাজনক বলে দাবি পরিবারের। এদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশ্ন, এই ধরনের গুরুতর ভুল কীভাবে ঘটল? গীতা দেবীর পরিবারের লোকজনরা দাবি জানাচ্ছেন, ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের আরও বেশি করে সতর্ক হওয়া উচিত ছিল। কারণ এই ঘটনা শুধুমাত্র বগুলায় নয়, বিভিন্ন জায়গায় ঘটছে। অভিযোগের পর প্রশাসন বিষয়টি খতিয়ে দেখতে শুরু করেছেন বলে জানা যায়। পাশাপাশি এ বিষয়ে BDO-র তরফে জানানো হয়, তদন্ত করে দ্রুত সংশোধনের ব্যবস্থা করা হবে। ভোটার তালিকায় এ ধরনের গরমিল প্রকাশ্যে আসায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়েছে এলাকার অন্যান্য বাসিন্দাদের মনে। অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করেন, আরও এমন ভুল থেকে যেতে পারে, যা ভোটাধিকার ও সরকারি সুবিধাপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে বড়সড় সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এবার দেখার এ বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয় গীতা দেবীর এসআইআর ফর্ম নিয়ে। আদৌ তিনি এই ফর্ম পান কিনা। আমাদের সকলের নজর থাকবে সেদিকেই।