
জুলেখা নাসরিন, নিজস্ব সংবাদদাতা: বাংলাদেশে ফিরবেন শেখ হাসিনা? নিশ্চিত ভাবে তিনি ফিরবেন। এবার ইউনুসকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর..শেখ হাসিনা ইউনুসকে চ্যালেঞ্জ করে বলেছেন, প্লেন পাঠাও,,আমি ফিরতে প্রস্তুত বাংলাদেশে, একেবারে ওপেন চ্যালেঞ্জ… শেখ হাসিনা ইউনুসের সরকারকে জানিয়েছেন, সাহস থাকলে প্লেন পাঠান, এবং ইউনুসের পাঠানো প্লেনে আমি দেশে ফিরতে চাই..আমি দেখতে চাই কার দৌড় কতদূর..আমি দেখতে চাই ইউনুসের ফাঁসির দড়ি আর বুলেট কত শক্তিশালী..দেখুন শেখ হাসিনা কোনও কথা বলবেন আর সেই কথার পিছনে কোনও যুক্তি থাকবে না সেটা হতে পারে না..ইউনুসকে চ্যালেঞ্জ করার পিছনেও নিশ্চয়ই কোনও কারন বা যুক্তি রয়েছে মুজীব কন্যার..এই প্রসঙ্গে অবশ্যই জানাব।
একটা কথা মনে রাখতে হবে শেখ হাসিনা কিন্ত চোরাপথে বা পালিয়ে ভারতে আসেননি..তিনি এসেছিলেন বাংলাদেশের সামরিক বিমানে..তাই আরও একবার মনে করাব ২০২৪ সালের ৫ অগাস্টের কথা..দিনটা ছিল সোমবার, ভারতীয় পার্লামেন্টে পার্লামেন্টের বর্ষা অধিবেশনের শেষ সপ্তাহের প্রথম দিন। ফলে স্বাভাবিক ভাবে ব্যস্ততা ছিল একেবারে তুঙ্গে..এত ব্যাস্ততার মধ্যেও বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নজর রাখছিলেন বাংলাদেশের পরিস্থিতির দিকে..কারন আন্দোলনকারীদের মার্চ টু ঢাকা কর্মসূচির পরিণতি যা-ই হোক, ভারতের ওপর তার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাব পড়তে বাধ্য ..কারন ভারত খুব ভালো করেই জানত শেখ হাসিনা তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।
তবে ভারত কিন্তু ঘুণাক্ষরেও আঁচ করতে পারেনি বলা যেতে পারে ৫ আগস্ট সকালেও ভারত আঁচ করতে পারেনি শেখ হাসিনা নাটকীয় পরিস্থিতিতে ভারতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হবেন। এমনকি ৪ আগস্ট যখন হটলাইনে শেখ হাসিনার সঙ্গে নরেন্দ্র মোদীর কথা হয়, তখনও শেখ হাসিনার ভারতে আশ্রয় নেওয়ার বিষয়টি আলোচনাই হয়নি। তবে বাংলাদেশে সেনা পাঠানোর কোনো সম্ভাবনা না থাকলেও ভারত যে অন্য সব রকমভাবে সাহায্য করতে প্রস্তুত, সেই বার্তা দিয়ে রাখা হয়েছিল শেখ হাসিনাকে।

৫ আগস্ট সকালের পর থেকেই বাংলাদেশে পরিস্থিতি দিল্লির সব হিসাব এলোমেলো করে দিয়েছিল। ৫ আগস্ট দুপুর ১২টার পর ঢাকা থেকে দিল্লিতে পরপর দুটি ফোন আসে,, প্রথম ফোনটা এসেছিল শেখ হাসিনার কার্যালয় থেকে, কথা বলেছিলেন শেখ হাসিনা নিজেই। তবে শেখ হাসিনা কাকে ফোন করেছিলেন সেটা কিন্তু এখনও গোপন রয়েছে..দ্বিতীয় ফোনটা আসে একটু পরই বাংলাদেশের বিমানবাহিনীর কাছ থেকে দিল্লিতে ভারতের এয়ারফোর্স কমান্ডের কাছে। শেখ হাসিনার বিমান অবতরনের অনুমতি চেয়ে সেই ফোন ছিল।
বাংলাদেশের সেনার তরফে ভারতকে অনুরোধ করা হয়েছিল, যেন বিশেষ বিমান পাঠিয়ে হাসিনাকে ঢাকা থেকে নিয়ে যাওয়া হয়, তবে ভারত কিন্ত সেই অনুরোধ সরাসরি খারিজ করে দেয়। ভারত জানিয়ে দেয়, শেখ হাসিনাকে ভারতে আসতে হলে, যদি সেটা খুব অল্প সময়ের জন্যও হয়, তাহলেও তাঁকে বাংলাদেশের কোনো বিমান বা কপ্টারে চেপেই আসতে হবে।
আগেই আপনাদের জানিয়েছি, শেখ হাসিনা কিন্তু চোরা পথে বা পালিয়ে ভারতে আসেননি..তিনি ভারতে আসেন বাংলাদেশের সামরিক বিমান সি.জে-১৩০-তে চেপে…৫ অগাস্ট যখন উত্তেজিত জনতা গনভবনের দিকে তেড়ে আসছে,তখনও শেখ হাসিনা গো ধরে বসেছিলেন তিনি দেশ ছাড়বেন না, তাকে বোঝান , তার বোন শেখ রেহানা, তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়..কিন্তু নিজের সিদ্ধান্তে অনড় ছিলেন শেখ হাসিনা..ইনসাআল্লা বাংলাদেশ বইটিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সেই সময়ের একটা ফোন বদলে দেয় পরিস্থিতি এবং দেশ ছাডা়র সিদ্ধান্ত নেন হাসিনা..যে ব্যক্তি ফোন করেছিলেন, তার বক্তব্য ছিল বাঁচতে হলে দেশ ছাড়তে হবে শেখ হাসিনাকে, তাকে তার দলের জন্য বাঁচতে হবে..তারপরই শেখ রেহানা একপ্রকার টানতে টানতে বাইরে নিয়ে আসেন,,গনভবন ছেড়ে গনভবনের হেলিপ্যাডে থাকা কপ্টারে চড়েন শেখ হাসিনা..সেই ছবি পরে ভাইরালও হয়.. কিন্তু শেখ হাসিনা শেষ পর্যন্ত ভারতে আসেন একটি সামরিক বিমানে, এবং গাজিয়াবাদের কাছে একটি সামরিক বিমান ঘাঁটে নামে শেখ হাসিনার বিমান, সেই খবর নিশ্চত হয় ৬ অগাস্ট।
৫ অগাস্ট বিকালে বিমানটি শেখ হাসিনাদের নিয়ে বাংলাদেশ ছাড়ার পরে প্রথমে কলকাতার দিকে রওনা দেয় বিমানটি , তারপর হঠাত সেটি রুট বদলে নয়াদিল্লির দিকে রওনা হয়, এবং বিকাল ৫.৩০ নাগাট গাজিয়াবাদের হিন্ডন বিমানঘাঁটিতে শেখ হাসিনাদের নিয়ে অবতরন করে, বিমানবন্দরে শেখ হাসিনাকে অভ্যথনা জানান ভারতের নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল… এই প্রশ্নটা আপনার মনে কি উঁকি দিয়েছে, শেখ হাসিনাদেরকে ভারতে কে ছাড়তে এসেছিলেন..ওই সামিরিক বিমানে শুধু কি শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা ছিলেন..আমি যদি বলি না…কারা ছিলেন তাহলে ওই বিমানে সেদিন…ওয়াকারই বা কোথায় ছিলেন সেদিন।
কারা সেদিন ওই সামরিক বিমানে ছিলেন সেই বিষয়টা জানেন শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা, জানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা জানেন এবং বিষয়টি জানে ভারত সরকারও… হ্যাঁ সেই দিন শেখ হাসিনাদের ছাড়তে আসা সামরিক বিমানে ছিলেন, শেখ হাসিনার নিরাপত্তায় নিয়োজিত এস.এস.এফ বা স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের প্রধান জেনারেল নাজমুল ,ছিলেন জেনারেল পর্যায়ের সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা, ছিলেন বাংলাদেশের কোনো একটি বাহিনীর সর্বোচ্চ কর্মকর্তা।
ইনশাআল্লা বাংলাদেশ বইতে উল্লেখ রয়েছে, হাসিনার গনভবন থেকে বেরোনোর সময় সেনাপ্রধানও উপস্থিত ছিলেন সেখানে,…কিন্তু আমি যদি বলি না,,,,সেখানে ছিলেন না সেনাপ্রধন ওয়াকার…তাহলে কোথায় ছিলেন ওয়াকার… বাংলাদেশ সেনাপ্রধান তখন অন্য রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে মিটিংয়ে ব্যস্ত ছিলেন সেনাভবনে, সেই সময় আরও একটা কাজ করেছিলেন ওয়াকার,,সেই সময় উত্তরাতে অর্থাত ঢাকায় ঢোকার প্রবেশ পথে মার্চ টু ঢাকা কর্মসূচি রোখার জন্য দায়িত্বে ছিলেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রফিক,,এই ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রফিককে ওয়াকার মিটিং চলাকালীনই নির্দেশ দিয়েছিলেন ব্যারিকেড সরিয়ে দেওয়ার..আর তার ফলাফল সকলের সামনে পরিষ্কার..অর্থাত হাসিনাকে ছাড়াতে আসেননি ওয়াকার।
অন্যদিকে ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল মানবতা বিরোধী অপরাধের অভিযোগে শেখ হাসিনার মৃত্যুদন্ডের রায় দিয়েছে,,আর সেই রায় ঘোষনার পরে অন্তবর্তী সরকারের বিভিন্ন উপদেষ্টারা হুঙ্কার দিচ্ছেন শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে নিয়ে আসা হবে এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের রায় কার্যকর করা হবে..তবে শুধু ইউনুসের বিভিন্ন উপদেষ্টা নয়, ২০২৪ সালের পরে জন্ম নেওয়া বিপ্লবী ছাত্রনেতারা বলছেন, ভারত শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে দেওয়া না পর্যন্ত ও শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রায় কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত ভারতের সঙ্গে কিছুতেই সম্পর্ক স্বাভাবিক হবে না বাংলাদেশের।
খুব সম্প্রতি এনসিপি নেতা হাসনাত আব্দুলা হাসপাতালে গিয়েছিলেন অসুস্থ খালেদা জিয়াকে দেখতে..সেখানে হাসপাতালের বাইরে দাঁড়িয়ে সংবাদ মাধ্য়মকে হাসনাত আব্দুলা বলেছেন, খালেদা জিয়ার ঠিক ততদিন পর্যন্ত বেঁচে থাকা উচিত, যতদিন পর্যন্ত না শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে ফাঁসি কার্যকর হচ্ছে, খালেদা জিয়ার উচিত শেখ হাসিনার ফাঁসি দেখে যাওয়া..তার মানে খালেদা জিয়া কবে মারা যাবেন সেটাও কি ঠিক করে দেবেন হাসনাতের মতো নেতারা..
দুঁদে রাজনীতিবিদ শেখ হাসিনা খুব ভালো করেই জানেন ইউনুস সরকারের এত সাহস হবে না যে, তারা বিমান পাঠাবে শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে. তাই এই নাটুকে সরকারকে পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়েছেন হাসিনা।