সাইকেল থেকে সাফারির মালিক হুমায়ুন

স্বাগতা চন্দ্র, নিজস্ব সংবাদদাতা: বর্তমান রাজ্য রাজনীতিতে আলোড়ন ফেলা হুমায়ুন কবীর। দলে থেকেও দলের বিরুদ্ধে গলা উচিয়ে যিনি কথা বলেন। তৃণমূল বিধায়ক হয়েও বিজেপি বিধায়কের মতো তৃণমূল সুপ্রিমো চ্যালেঞ্চ ছোড়েন। বাংলার বুকে যিনি বাবরি মসজিদ তৈরির কথা বলেন। তিনি কীসের  বলে বলিয়ান বলুন তো। তবে কি তাঁর পিছনে রয়েছে কোনও শক্তির মদত। না হলে জলে থেকেও কুমীরের সঙ্গে কেউ লড়াই করে। বেশ তো ছিলেন শাসক ঘনিষ্ট হয়ে। সুখে খেতে ভূতে কিলোনোর মত অবস্থা হল কেন। সাইকেলে সাইকেলে ঘুরে বেড়ানো নেতা এখন সাফারি চড়েন। তাঁর উত্থানের পিছনে কে রয়েছেন। কিংবা বারবার দলবদলের সমীকরণের নেপথ্যে কী রয়েছে। জানেন কি ব্যবসায়ী থেকে কীভাবে ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক হয়ে উঠলেন তিনি। এমন কি তাঁর বউও ব্যবসায়ী। লক্ষ লক্ষ টাকা রয়েছে তাঁর বউয়ের অ্যাকাউন্টে। খুব সাধারণ পরিবার থেকে উঠে মায়ুন এখন নীলবাতি লাগানো গাড়িতে ঘোরেন। নিজস্ব রয়েছে টাটা সাফারি। যার মূল্য প্রায় ৪ লক্ষ টাকা। স্ত্রীর নামে রাখা হয়েছে জেসিবি যার মূল্য ৮ লক্ষ টাকা। কোথা এল এত টাকা।

সব রাজনৈকিক ঘাটেরই জল খেয়েছেন হুমায়ুন কবীর। ২০০৮ সালে কংগ্রেসের টিকিটে জেলা পরিষদের সদস্য হন। অধীর ঘনিষ্ট হিসাবেই পরিচিত ছিলেন তিনি। ২০১১ সালে বামদের বিদায়, সেই সময় তৈরি হয়েছিল বাম-কংগ্রেস জোট। পরে জোট ভাঙে। কংগ্রেসের নির্দেশে সাবিনা ইয়াসমিন, আবু হেনা, মানস ভুঁইয়া, আবু নাসের খান চৌধুরীর মত নেতারা পদত্যাগ করেন। কিন্ত হুমায়ুন কবীর ব্যতিক্রমী। তৃণমূলে যোগ দেন হুমায়ুন। তিনবছর পর আবার তৃণমূলে মোহভঙ্গ। তৃণমূল থেকে তাঁকে সাসপেন্ড করা হয়। ২০১৬ তে নির্দল প্রার্থী হিসাবে লড়াই করেন, কিন্তু হেরে যান মাত্র ৫ হাজার ভোটে। মাঝে ২ বছরের ফারাক রাজনীতিতে গুরুত্ব বাড়াতে ২০১৮ তে বিজেপির হয়ে লড়েন তিনি। বিজেপিতে তেমন সুবিধা না পাওয়ায় ফের তৃণমূলে ফেরা। ২০২১ শে ভরতপুরে তৃণমূলের টিকিটে জয় পেয়ে বিধায়ক হন।

রাজনৈতিক কেরিয়ারে বর্ণময় অধ্যায় হুমায়ুনের। রাজনৈতিক সফলতার পাশাপাশি সফল ব্যবসায়ীও। তাঁর সম্পত্তির পরিমাণ নেহাত কম নয়। নির্বাচন কমিশনকে দেওয়া তথ্য অনুসারে হুমায়ুন কবীরের সম্পত্তির পরিমাণ কিছু কম নয়। ২০২১সালে নির্বাচন কমিশনকে দেওয়া তথ্য অনুসারে,

হুমায়ুন কবীরের স্থাবর-অস্থাবর

২০১৫-১৬ অর্থবর্ষে হুমায়ুন কবীরের আয় ছিল  ২ লক্ষ ৬৯ হাজার ২৪০ টাকা

২০১৬-১৭ সালে তা বেড়ে হয় ৪ লক্ষ ২১ হাজার ৭০ টাকা

২০১৮-১৯ সালে তাঁর আয় ছিল ৩ লক্ষ  ২০ হাজার ৭৩০ টাকা

২০১৯-২০২০ অর্থবর্ষে বিধানসভা ভোটের ঠিক আগের বছর

তাঁর আয় ছিল ৩ লক্ষ ৮৭ হাজার ৬৬০ টাকা

তাঁর নামে রয়েছে মোট ১.৭ একর জমি

রেজিনগরে দুটি ও বহরমপুরে একটি জমি

একটি জমির মূল্য ৮ লক্ষ টাকা

অন্যটি ৪ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকা

আরও একটির দাম ১ লক্ষ টাকা

কলকাতা ও রাজারহাট, কলিন স্ট্রিটে তাঁর ফ্ল্যাট রয়েছে

হুমায়ুন কবীরের নামে ছিল ৪ লক্ষ ৬৩ হাজার টাকার জীবনবিমা

১ লক্ষ ৯৯ হাজার টাকার একটি বিমা রয়েছে

৩ লক্ষ টাকা ও ২ লক্ষ টাকার আরও দুটি বিমা রয়েছে

৫০ হাজার টাকা করে রয়েছে তিনটি এলআইসি

৪ লক্ষ ৪৬ হাজার টাকার একটি ঋণ রয়েছে বলে নথিতে উল্লেখ ছিল

অন্যান্য সম্পত্তির পরিমাণ ৪ লক্ষ ৯৫ হাজার টাকার অন্যান্য সম্পত্তি

হলফনামায় দেওয়া তাঁর মোট সম্পত্তির মূল্য ২৭ লক্ষ ১০ হাজার ৪৩৩ টাকা

হুমায়ুন কবীরের স্ত্রীর সম্পত্তিও কম নয়। ব্যবসায়ী পরিবারের মেয়ে স্ত্রী মীরা সুলতানা। তাঁরও সম্পত্তির পরিমাণ খুব একটা কম নয়। ২০২১ দেওয়া রাজ্য নির্বাচন কমিশনের হলফনামায় তিনি যে তথ্য দেন তা হল,

হুমায়ুন কবীরের স্ত্রীর সম্পত্তি

স্ত্রী মীরার নামে রয়েছে ১৯ লক্ষ ১৫ হাজার টাকার সোনা

মোট সম্পত্তির পরিমাণ ৩০ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা

স্ত্রীর নামে দুটি ব্যাঙ্ক আকাউন্টে ছিল ২ লক্ষ ৮৬ হাজার ও ৪৪ হাজার টাকা 

স্ত্রীর নামে রয়েছে জেসিবি, যার মূল্য ৮ লক্ষ টাকা

পেশায় ব্যবসায়ী হুমায়ুন কবীরের ঠিকাদারি ব্যবসা রয়েছে।রাস্তা-ঘাট নির্মাণের কন্ট্রাক্ট পান তিনি।  তাঁর পরিবার সম্পর্কে যদিও প্রকাশ্যে কিছু জানা যায়না। হুমায়ুনরা তিন ভাই ও দুই বোন। হুমায়ুন কবীরের ছেলে গোলান নবী আজাদ তৃণমূল পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য। অতএব হুমায়ুন কবীরের কুবেরের ভান্ডার যথেষ্ট স্বচ্ছল। কথায় আছে না অর্থ যদি থাকে লোকবল থাকবেই। ভাত ছড়ালে কি আর কাকের অভাব হয়। এমনিতেই তৃণমূল দল থেকে সাসপেন্ড হয়ে বাবরি মসজিদ তৈরির শিলান্য়াস ঘটিয়ে বাংলার রাজনীতিতে ঝড় বইয়ে দিয়েছেন। আবার ২২ ডিসেম্বর বহরমপুরে নতুন দল ঘোষণার দিন এক লক্ষ জমায়েতের হুঙ্কার দিয়েছেন। লক্ষ কণ্ঠে কোরানপাঠেরও আয়োজন করবেন বলে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন। সবমিলিয়ে ভরতপুররে তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর বেশ বর্ণময় চরিত্র। কী বলেন আপনারা। এবার কী তৃণণূলের ছাত্রছায়া থেকে বের হয়ে নতুন দল নিয়ে সফল হতে পারবেন হুমায়ুন কবীর। নাকি হোঁচট খেতে হবে তাঁকে।