ভারত-ওমানের ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট !

India-Oman trade deal : নতুন চুক্তি কার্যকর হলে ভারতীয় পণ্যের জন্য খুলে যাবে ওমানের বাজারের দরজা। বর্তমানে ওমানে ভারতীয় রফতানির প্রায় ৮৩.৫ শতাংশ পণ্যে গড়ে ৫ শতাংশ শুল্ক দিতে হয়। CEPA কার্যকর হলে এই শুল্ক পুরোপুরি তুলে নেওয়া হবে।

সূচনা পল্যে, সাংবাদিক : ভারত ও ওমানের বাণিজ্যিক সম্পর্কে আসতে চলেছে বড়সড় পরিবর্তন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ওমান সফরের দ্বিতীয় দিনেই স্বাক্ষর হতে চলেছে দুই দেশের মধ্যে ঐতিহাসিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি- কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট বা CEPA. এই চুক্তির ফলে ভারতীয় বস্ত্র, রাসায়নিক, ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য-সহ ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি রফতানি শুল্কমুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা। কী লাভ ভারতের, কী বদলাবে বাণিজ্যের অঙ্ক?

তিন দেশ সফরের শেষ পর্বে ওমানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ইথিওপিয়া ও জর্ডনের পর মোদীর এই সফর ঘিরে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে ভারত-ওমান বাণিজ্য সম্পর্ক। কারণ, প্রায় দুই দশক পর কোনও দেশের সঙ্গে প্রথমবার ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট করতে চলেছে ওমান। বর্তমানে ভারত ও ওমানের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি।

২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে

ভারতে ওমান থেকে আমদানি হয়েছে ৬.৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্য

অন্যদিকে ভারত রফতানি করেছে ৪.১ বিলিয়ন ডলার

ফলে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ২.৫ বিলিয়ন ডলার

নতুন চুক্তি কার্যকর হলে ভারতীয় পণ্যের জন্য খুলে যাবে ওমানের বাজারের দরজা। বর্তমানে ওমানে ভারতীয় রফতানির প্রায় ৮৩.৫ শতাংশ পণ্যে গড়ে ৫ শতাংশ শুল্ক দিতে হয়। CEPA কার্যকর হলে এই শুল্ক পুরোপুরি তুলে নেওয়া হবে। সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে ইঞ্জিনিয়ারিং গুডস, কেমিক্যাল, টেক্সটাইল, ফার্মাসিউটিক্যালস, অটোমোবাইল, খাদ্যপণ্য এবং ইলেকট্রনিক্স খাত। শুধু ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্যের রফতানিই বর্তমানে ৮১২ মিলিয়ন ডলার, আর রাসায়নিক পণ্য ২৪১ মিলিয়ন ডলারের বেশি। বৃহস্পতিবার ছিল একটি ঐতিহাসিক দিন। আমাদের দুই দেশের নেতৃত্বের সামনে ওমান প্রায় ২০ বছর পর প্রথম কোনও দেশের সঙ্গে ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট সই করেছে।

বিশেষভাবে স্বস্তির খবর শ্রমঘন শিল্পের জন্য। আমেরিকায় উচ্চ শুল্কের চাপে থাকা ভারতীয় বস্ত্র ও রেডিমেড গার্মেন্টস শিল্পের জন্য ওমান হতে পারে বিকল্প বড় বাজার। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ভারত ওমানে রেডিমেড গার্মেন্টস রফতানি করেছে প্রায় ৬৩.৮ মিলিয়ন ডলারের পণ্য। শুল্ক উঠে গেলে এই পরিমাণ আরও দ্রুত বাড়বে বলেই মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। যদিও পেট্রোলিয়াম পণ্য ইতিমধ্যেই প্রায় শুল্কমুক্ত, তবুও খনিজ, কয়লা, মাইকা-সহ একাধিক পণ্যে শুল্ক ছাড় বড় প্রভাব ফেলবে ভারতের সামগ্রিক রফতানিতে। উল্লেখযোগ্য বিষয়,

২০২৩ সালের নভেম্বর থেকেই শুরু হয় ভারত-ওমান CEPA আলোচনা।

পাঁচ দফা বৈঠকের পর চলতি বছরের আগস্টে আলোচনা শেষ হয়

এবার শুধুই স্বাক্ষরের অপেক্ষা

ওমানের সঙ্গে এই চুক্তি ভারতের উপসাগরীয় কূটনীতিতে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাওয়া। এর আগে ২০২২ সালে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির সঙ্গে CEPA সই করেছিল ভারত। এবার নজর কাতার-সহ অন্যান্য GCC দেশগুলির দিকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তি শুধু রফতানি বাড়াবে না, বরং ভারতের ম্যানুফ্যাকচারিং, কর্মসংস্থান এবং ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগকেও গতি দেবে। পাশাপাশি বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর দিকেও সহায়ক হতে পারে CEPA। সব মিলিয়ে, ওমানের সঙ্গে এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ভারতের জন্য কৌশলগত ও অর্থনৈতিক- দু’দিক থেকেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আজকের সাক্ষর আগামী দিনের বাণিজ্য মানচিত্র বদলে দিতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।