Pakistan: ভিখারি ও পকেটমারির ঘটনায় নাম জড়াচ্ছে পাকিস্তানের, বিদেশের মাটিতে সুনাম নষ্ট করছে সেদেশের নাগরিকরাই

দিন যত এগোচ্ছে পাকিস্তানি ভিখারির সংখ্যা বাড়ছে সৌদি আরবে। অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হওয়ায়, অনেকেই সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, সৌদি আরব সহ মধ্য প্রাচ্যের নানা ধনী দেশে চলে যাচ্ছেন ভিক্ষা করতে। এই দেশগুলি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিলেও, পাকিস্তান (Pakistan) তাঁদের দেশের ভিক্ষুকদের নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। সৌদি আরবের ভিক্ষা বিরোধী আইন এই সমস্যার সরাসরি সমাধান করতে চেষ্টা করছে।

সামাজিক নিরাপত্তা এবং সামাজিক কল্যাণের প্রতি সৌদি আরবের প্রতিশ্রুতির অংশ হিসাবে, ভিক্ষাবৃত্তি নিষিদ্ধ করার জন্য সেখানে কঠোর স্থানীয় আইন এবং বিধি জারি রয়েছে অনেক আগে থেকেই। তার পরেও থামছে না ভিক্ষাবৃত্তি। তাই ফের বাধ্য হয়ে হাজার-হাজার পাক ভিখারিকে পাকিস্তানে পাঠাল সৌদি আরব। প্রায় ৫৬ হাজার পাকিস্তানি ভিখারিকে তাঁদের নিজেদের দেশে ফেরানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশে ভিক্ষাবৃত্তিকে বেশ উদ্বেগের চোখেই দেখছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহী। তাই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

আন্তর্জাতিক সংস্থার খবর অনুযায়ী, ভিক্ষাবৃত্তির জন্য হাজার হাজার পাকিস্তানি নিজের দেশ ছেড়ে বিদেশে রওনা হতে চাইছে। আর ভিন দেশের মাটিতে গিয়ে ভিক্ষাবৃত্তি ও অপরাধমূলক কাজকর্মে জড়িয়ে পড়াকে কেন্দ্র করেই পাকিস্তানিদের নিয়ে বেশ কিছুটা চিন্তা বেড়েছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ও সৌদি আরবের। এই দুই দেশই পাকিস্তানি নাগরিকদের যাচাইকরণের পথ কঠোর করে রেখেছে। সমস্যাটা কেবল সৌদি আরবের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, কুয়েত, আজারবাইজান এবং বাহরিন সহ পশ্চিম এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশে পাকিস্তানি ভিক্ষুক দেখা যাচ্ছে।
90% of the beggars arrested abroad turned out to be Pakistanis.
— Baba Banaras™ (@RealBababanaras) October 12, 2024
Saudi Arabia issued a strict warning to Pakistan – "Stop your beggars from coming to our place. Just because you are a Muslim does not mean that you will send your filth to our country." pic.twitter.com/JYvAXaDf3S
পাকিস্তানের ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির ডিরেক্টর রিফাত মুখতার বলেছেন, এই নেটওয়ার্কগুলি পাকিস্তানের সুনাম নষ্ট করছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই প্যাটার্নটি কেবল উপসাগরীয় অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ ছিল না, তিনি বলেন, আফ্রিকা ও ইউরোপ ভ্রমণের পাশাপাশি কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ডের মতো পর্যটন কেন্দ্রে পর্যটন ভিসার অপব্যবহার করেছেন পাকিস্তানিরা। ২০২৩ সালে রিপোর্ট অনুযায়ী, বিদেশে যত ভিখারি গ্রেফতার হয়েছেন তাদের ৯০ শতাংশ হল পাকিস্তানি। মক্কার মসজিদ চত্বরে পকেটমারদের অধিকাংশই পাকিস্তানের বলেই উল্লেখ করা হয়েছিল। এ অভিযোগকে স্বীকারও করে পাকিস্তান সৌদিকে আশ্বস্ত করেছিল যে তারা ভিখারি মাফিয়াদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করবে। কিন্তু আদতে তা হয়নি। ২০২৪ সালে, পাকিস্তানের বিদেশ সচিব জিশান খানজাদা বলেছিলেন যে পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলিতে আটক ৯০% ভিক্ষুক পাকিস্তানের।