বাংলাদেশ থেকে মালদায় পালিয়ে এসেছে হিন্দু পরিবার

বাংলাদেশে মেয়েদের সম্মান নেই। রাতে বাড়ির বাইরে বের হতে পারেন না তাঁরা। হাসিনা সরকারের আমলে দুর্বৃত্তরা সুবিধা করতে পারেনি। এমনটাই দাবি ওই হিন্দু পরিবারের মহিলাদের।

প্রধানমন্ত্রীর ওয়েবসাইট হ্যাক

ডিজিটাল ডেস্ক: পদ্মাপাড়ে অশান্তি থামার নাম নিচ্ছে না। হাদিকে গুলি করে হত্যার পর আরও অশান্ত হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ (Bangladesh)। হিন্দু যুবককে পুড়িয়ে হত্যা। রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর বেড়েই চলেছে অত্যাচার l ঘর পুড়িয়ে দেওয়া,ভাঙুচুর চলছে। আতঙ্কে কাঁটা হয়ে আছেন পদ্মাপাড়ের হিন্দুরা। এমনকি জোর করে ধর্মান্তকরণ চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ ছেড়ে পালিয়ে এসেছে এক হিন্দু পরিবার। প্রাণনাশ ও জাত যাওয়ার ভয়ে রাতের অন্ধকারে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতীয় ভূখণ্ডে মালদায় অনুপ্রবেশ করেছে ওই পরিবার l

পুরাতন মালদা থানা এলাকায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে আপাতত আশ্রয় নিয়েছে ওই পরিবারটি। এলাকাবাসীরাও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। সিএএ মাধ্যমে ভারতের নাগরিকত্ব দাবি করেছেন তাঁরা। বাংলাদেশের নাটোর জেলার সিংরা থানা এলাকার বাসিন্দা কানাই চন্দ্র সরকার। বয়স ৭০ বছর। অত্যাচারের শিকার হয়ে বৃদ্ধা স্ত্রী, ছেলে, পুত্রবধূ, নাতনি, মেয়ে, জামাই এবং নাতিকে নিয়ে পুরাতন মালদা থানা এলাকার সীমান্ত দিয়েই ভারতীয় ভূখণ্ডে অনুপ্রবেশ করেন তাঁরা। এরপর মালদা পুরসভা এলাকার এক আত্মীয়ের বাড়িতে ওঠেন তাঁরা। সেখানেই আশ্রয় নিয়েছে বাংলাদেশের কানাই চন্দ্র সরকার পরিবার।

বৃদ্ধ জানিয়েছেন, তাদের নাটোর জেলার সিংরা থানা এলাকাতেই বসবাস করতেন। কৃষিকাজ ছিল তাদের জীবিকা। এছাড়াও জমি জায়গা, ব্যবসা রয়েছে। ২০২৪ থেকে ধরে বাংলাদেশের অস্থিরতা চলছে। কিন্তু গত কয়েকদিনের ব্যবধানে বাংলাদেশের যে পরিবেশ তৈরি হয়েছে সেখানে না থাকার মতোই । কিছুদিন হল একদল দুর্বৃত্ত তাঁদের ধর্মান্তকরণরে জন্য চাপ দিচ্ছিল। তাঁদের দাবি না মানলে লুট এবং খুনেরও হুমকি পর্যন্ত দেওয়া হয়। এরপর আতঙ্কেই গোটা পরিবারটি এক কাপড়ে ওপার সীমান্তে এসে কিছু টাকার বিনিময় দালাল মারফত এপারে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করে।

ওই বাংলাদেশি পরিবারের পাশে রয়েছেন পাড়ার বাসিন্দারা। স্থানীয়দের দাবি তাঁদের যদি পুলিশও ধরতে আসে তখনও রুখে দাঁড়াবেন। ওই বাংলাদেশি পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে রাজনৈতিক নেতারাও। উত্তর মালদা বিজেপির সভাপতি প্রতাপ সিং জানান, বাংলাদেশের যারা অত্যাচারিত বিশেষ করে সংখ্যালঘু হিন্দুরা তারা যদি ভারতবর্ষে আসে তাহলে ভারত সরকার তাঁদের নিরাপদ আশ্রয় দেবে। সিএএতে আবেদন করিয়ে তাদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। মালদা জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র আশীষ কুন্ডুর দাবি নতুন করে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানো হচ্ছে। এই বাংলায় সাম্প্রদায়িক কোনো ঘটনা ঘটবে না।