Sharif Osman Hadi : “ইউনুসই খুন করিয়েছেন হাদিকে, তাঁর চক্রান্তেই ভাইয়ের প্রাণ গিয়েছে”। বিস্ফোরক অভিযোগ হাদির দাদা শরিফ ওমর বিন হাদি। আরও বিপদ বাড়ল ইউনুসের ।

সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, সাংবাদিক : এবার নিজের দেশেই বিপদ বাড়ল মহম্মদ ইউনুসের। প্রয়াত ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে যখন নতুন করে উত্তাল বাংলাদেশ, যখন ইনকিলাব মঞ্চ বারবার দাবি করছে যত দ্রুত সম্ভব হাদির খুনীদের ধরতে হবে তখন হাদির ভাই স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দিলেন মহম্মদ ইউনুসই খুন করিয়েছেন হাদিকে। অর্থাৎ আরও মুখোশ খুলে গেল মহম্মদ ইউনুসের। শাহবাগে শহীদি শপথ অনুষ্ঠানে রীতিমতো ক্ষোভ উগরে দিতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। তাঁর ভাইয়ের মৃত্যুর পরে ৬ দিন কেটে গেলেও এখনও সরকার কিছুই করতে পারেনি বলে অভিযোগও করেন তিনি। যে কথা আমরা বারবার করে বলে এসেছি যে হাদির হত্যাকান্ড এক গভীর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র, এর আড়ালে রয়েছে জামাতের হাত ইউনুসের প্রশ্রয় হাদির ভাইয়ের এই বক্তব্য সেই কথাকেই কার্যত প্রমাণ করে দিল।

মঙ্গলবার ঢাকার শাহবাগে জাতীয় মিউজিয়ামের সামনে ‘শহিদ শপথ’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল ইনকিলাব মঞ্চ। সেখানেই ইউনূস প্রশাসনকে তোপ দেগে ওসমান হাদির ভাই ওমর বলেন, আপনারা রাষ্ট্রের ক্ষমতায় থাকাকালীন ওসমান হাদিকে হত্যা করা হয়েছে। এই হত্যার দায় আপনারা এড়াতে পারবেন না। আপনাদেরও বিচার হবে। আজ হোক ১০ বছর পর হোক, আপনাদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতেই হবে। আপনারা যদি মনে করেন আর দুই মাস পর রাষ্ট্র ক্ষমতা থেকে চলে যাবেন, বিদেশে চলে যাবেন। মনে রাখবেন, এই দেশের জনতা আপনাদের কাঠদড়ায় দাঁড় করাবেই। তাই সরকারের কাছে আমি অনুরোধ করব, দ্রুত খুনিকে আমাদের সামনে নিয়ে আসুন। নির্বাচনের পরিবেশ যাতে বিঘ্ন না হয়, খুনির বিচার করুন। এরপরই বিস্ফোরক অভিযোগ করে ওসমান হাদির ভাই বলেন, “আপনারাই ওসমান হাদিকে হত্যা করিয়েছেন। আবার আপনারাই এটাকে ইস্যু করে নির্বাচনকে বানচাল করার চেষ্টা করছেন। তা আমরা কখনই হতে দেব না। ওসমান হাদি বলেছিলেন, ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন হতে হবে। তারই প্রস্তুতি নিয়ে তিনি মাঠে নেমেছিলেন। কিন্তু, তাঁকে হত্যা করে নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা হচ্ছে।

মহম্মদ ইউনূসও একদিন বাংলাদেশ থেকে পালাতে পারেন বলে জানিয়ে ওমর হাদি বলেন, “বাংলাদেশের জুলাই বিপ্লবের আগে যাঁরা ক্ষমতায় ছিলেন, যাঁরা রাষ্ট্রকে নিজের মনে করতেন, তাঁরা কিন্তু আজকে কেউ বাংলাদেশ নেই। তাঁরা পালাতে বাধ্য হয়েছেন। ওসমান হাদির বিচার না হলে আপনারাও একদিন বাংলাদেশ থেকে পালাতে বাধ্য হবেন। ওমরের সাফ বক্তব্য ওসমান হাদি শহিদ হয়েছে প্রায় এক সপ্তাহ হয়ে গেল, সরকার পদক্ষেপ করার বিষয়ে কোনও অগ্রগতি দেখাতে পারেনি। সরকারের কাছে দাবি জানাই, হাদির খুনিচক্রকে জাতির সামনে তুলে ধরুন। এই যে তাঁর হুঁশিয়ারি, এ ভাবে চললে পূর্বতন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মতো এই সরকারের লোকজনও দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হবেন এটা কিন্তু নেহাতই কোন বক্তব্য নয় কারণ ইউনুস হয়ত ভাবছেন গোটা বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষ তার পাশে আছেন কিন্তু আদতেও তা নয় হাদির পরিবার দীপুর পরিবার এভাবে ধীরে ধীরে মানূষ কিন্তু ইউনুস বিমুখ হচ্ছেন তাই আসন্ন নির্বাচনে যথেষ্টই যে চাপ হবে ইউনুসের তা কিন্তু দিনের আলোর মত স্পষ্ট। হাদির দাদা আরও জানিয়েছেন যে, তিনি কারও কাছে মাথা নত করেননি। ইউনুসের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উজাড় করে দিয়ে তিনি জানান যে এজেন্সির হয়ে, যে রাষ্ট্রের হয়ে আপনারা ওসমান হাদিকে হত্যা করেছেন, মনে রাখবেন, সেই ওসমান হাদি কোনও এজেন্সি, কোনও রাষ্ট্র, কোনও তাঁবেদারের কাছে কখনওই মাথা নত করেনি। তাহলে মহম্মদ ইউনুস? আপনার সব চাল একেবারে ফাঁস! আপনি যে রীতিমতো চক্রান্ত করে হাদিকে হত্যা করিয়েছেন, পরিকল্পিত ভাবে হাদির ঘাতক ভারতে এসে আশ্রয় নিয়েছে এই সব বলে মোড় ঘোরাতে চেষ্টা করেছেন আপনি বারবার চেষ্টা করে গিয়েছেন যাতে হাদির হত্যার সঙ্গে ভারতকে জড়িয়ে ফেলা যায় আর ঠিক এই কারণেই হাদির হত্যাকে কেন্দ্র করে যখন উত্তাল হয়েছে বাংলাদেশ হিংসার কবল থেকে সংবাদ মাধ্যম থেকে শিল্প কেউ ছাড় পায়নি তখন আপনার সরকারের তরফে এই হিংসাকে দমনের জন্য উল্লেখ্য কোন পদক্ষেপ কিন্তু দেখা যায়নি কারণ এই ঘটনা পরম্পরা তো আপনারই তৈরি করা! আপনি জানতেন হাদির সমর্থকরা এভাবেই প্রতিবাদ করবে আপনি চেয়েছিলেন এই উন্মত্ত জনতাকে ভারতের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তুলতে, কারণ রাজনৈতিক মহলে হাদি পরিচিত ছিলেন তাঁর তীব্র ভারত-বিরোধী অবস্থানের জন্য। বিশেষ করে গত বছরের গণ-অভ্যুত্থানের পর প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে চলে যাওয়ায় ভারতের ভূমিকা নিয়ে সরব ছিলেন তিনি। আর তাই হাদিকে খুন করা হলে কোন না কোন ভাবে সেই দায় গিয়ে চাপত আওয়ামি লিগের ওপরে আর তার সঙ্গে জড়িয়ে যেত ভারত আর সেই প্ল্যান মাফিক হাদির ঘাতক ভারতে লুকিয়ে আছে এই বিষয়টা ছড়িয়ে দেওয়া হল, কিন্তু আপনার পুলিশ শেষ মেষ বাধ্য হয়েছে এই বক্তব্য থেকে সরে দাড়াতে। ক্ষ্মতায় থাকার লোভই যে আপনার কাল হয়ে উঠছে ইউনুস তাই একের পর এক চক্রান্ত করছেন এবং সেই সব ভেসতে গিয়ে আপনার আসল চেহারা সবাই দেখতে পেয়ে যাচ্ছে। লজ্জা বোধ কি এতটুকুও আছে আপনার? আপনি জানেন নির্বাচন হলে তা আপনাকে সুবিধা দেবে না। আর তাই এত নোংরা চাল চাললেন আপনি! হাদির হত্যার হাত ধরে নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করতে চাইছেন আপনি। কিন্তু আপনি ভেবেছিলেন হাদিকে হত্যা করিয়ে তার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে সিমপ্যাথি গেম খেলবেন আর তত বাংলাদেশ জুড়ে উঠবে ভারত বিদ্বেষের হাওয়া কিন্তু মাঝখান থেকে হাদির ভাই যে এভাবে আপনার হাটে হাড়ি ভেঙে দেবে গোটা বিষয়টা যে আপনার দিকেই ব্যাক ফায়ার করে আসবে তা ঘুনাক্ষরেও আপনি বুঝতে পারেননি। আসলে আপনার খেলাটা এখন দিনের আলোর মত স্পষ্ট। সবাই বুঝতে পারছে আপনার হাতেই লেগে আছে হাদির রক্ত যা নিয়েও রাজনীতি করতে চেয়েছিলেন আপনি। হাদির ভাইয়ের মন্তবকে হাল্কা ভাবে নেবেন না হতেই পারে আপনাকেও লুকিয়ে দেশ ছাড়তে হবে একদিন।