বিজেপিতে বড়সড় ধস ! ফুলবদল শতাধিক কর্মীর

Gangasagar TMC join: এনআরসি ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতির প্রতিবাদে গঙ্গাসাগরে শতাধিক কর্মীর তৃণমূলে যোগদান

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা :  চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই সুন্দরবনের গঙ্গাসাগরে ফের শক্তিবৃদ্ধি করল শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। শুক্রবার সাগরের চৌরঙ্গী এলাকায় আয়োজিত তৃণমূলের এক বিশাল প্রতিবাদ সভা ও জনসমাবেশে বিজেপি ছেড়ে ঘাসফুল শিবিরে যোগ দিলেন শতাধিক কর্মী-সমর্থক। মূলত বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর “মিথ্যা অপপ্রচার” ও বিজেপির “সাম্প্রদায়িক বিভাজনের রাজনীতি”র প্রতিবাদেই এই দলবদল বলে জানা গেছে এদিনের সমাবেশটি ছিল মূলত বিরোধীদের কুৎসা ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে তৃণমূলের একটি প্রতিবাদী মঞ্চ। সেই মঞ্চ থেকেই সাগর ব্লকের সুমতিনগর ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার প্রায় ৩০টি পরিবারের সদস্যরা বিজেপি ত্যাগ করে আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। নবাগতদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দিয়ে স্বাগত জানান রাজ্যের সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা এবং সোনারপুর দক্ষিণের বিধায়িকা লাভলি মৈত্র। বিজেপি ছেড়ে আসা কর্মীদের অভিযোগ মূলত কেন্দ্রের নীতি এবং বিজেপির রাজনৈতিক কৌশলের বিরুদ্ধে। দলবদলকারী কর্মীদের দাবি, এনআরসি-র (NRC) নাম করে বিজেপি সাধারণ মানুষের ওপর অন্যায় অত্যাচার শুরু করেছে। গ্রামে গ্রামে মানুষের মনে আতঙ্ক তৈরি করা হচ্ছে।

 বিজেপির বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক অশান্তি বাঁধানোর চেষ্টার অভিযোগ তুলে তাঁরা জানান, শান্তির আবহে থাকতে এবং উন্নয়নের পথে হাঁটতেই তাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর লাগাতার আক্রমণ ও এলাকা সম্পর্কে ‘ভুল তথ্য’ প্রচারের বিরুদ্ধেও সরব হন তাঁরা।

এদিনের সভায় তৃণমূলের নক্ষত্র সমাবেশ লক্ষ্য করা গেছে। নবাগত কর্মীদের স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু, সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী ও স্থানীয় বিধায়ক বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা, বিধায়িকা লাভলি মৈত্র, লোকসভার সাংসদ বাপি হালদার। এছাড়াও জেলা ও ব্লক স্তরের একাধিক প্রথম সারির নেতৃত্ব সভায় উপস্থিত ছিলেন। সভায় বক্তারা বিজেপির বিভাজনের রাজনীতির কড়া সমালোচনা করেন এবং গঙ্গাসাগরের উন্নয়নমূলক কাজের খতিয়ান তুলে ধরেন।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাগর ব্লকে এই গণ-যোগদান আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনের আগে তৃণমূলের সংগঠনকে আরও বেশি অক্সিজেন জোগাবে। অন্যদিকে, একসাথে ৩০টি পরিবারের দলবদল সুন্দরবন উপকূলে বিজেপির জনভিত্তিতে বড়সড় ধাক্কা বলে মনে করা হচ্ছে। মন্ত্রীদের উপস্থিতিতে এই মেগা যোগদান অনুষ্ঠান এটাই প্রমাণ করে যে, সাগর দ্বীপে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে তৃণমূল কোনো খামতি রাখতে চাইছে না।