সংস্কৃতির ঠাই নেই ইউনুসের বাংলাদেশে? জেমসকে গান না গাওয়ার জন্য মৌলবাদী ফতোয়া! অরাজকতার অন্ধকারে ক্রমশ ডুবছে বাংলাদেশ। ঘরে বাইরে ক্রমশ চাপ বাড়ছে ইউনুসের

সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, সাংবাদিক : যতদিন যাবে বারবার এই প্রশ্ন আপনার কাছে করা হবে ওপার বাংলাকে আর কতদিন ধ্বংসের পাহাড়ে রাখবেন ইউনুস? আপনার কি এতটুকুও লজ্জা করছে না? ছায়ানটের পর এবার বাংলাদেশের রক গায়ক জেমসের অনুষ্ঠানে যেভাবে হামলা হল তারপরেও চুপ করে থাকবেন আপনি? শুক্রবার ফরিদপুর জেলা বিদ্যালয়ের ১৮৫ তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ওই অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল। তবে হামলার জেরে তা বাতিল হয়ে যায়। আহত প্রায় ২৫-৩০ জন।অনুষ্ঠান শুরুর আগেই একদল দুষ্কৃতী মঞ্চের ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করে। অভিযোগ, তারা দর্শকদের লক্ষ্য করে ইট-পাথর ছোড়ে। স্থানীয়রা জানান, প্রথমে ছাত্রছাত্রীরা হামলাকারীদের আটকানোর চেষ্টা করেন।হামলার মধ্যেই অল্পের জন্য রক্ষা পান জেমস। কড়া নিরাপত্তায় তাঁকে দ্রুত অনুষ্ঠানস্থল থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু পরিস্থিতি ক্রমশ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশে শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠান বাতিল করতে বাধ্য হন আয়োজকেরা।
তার মানে কি এটা বলা যায় এই মুহূর্তের যে নিম্নরুচির বাংলাদেশকে গোটা বিশ্ব দেখছে সেই বাংলাদেশে শিল্প সঙ্গীত কোন কিছুর কোন স্থান নেই? সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে কট্টরপন্থী ইসলামী গোষ্ঠীগুলি রাস্তায় নেমে কার্যত তাণ্ডব চালাচ্ছে আর সেই পরিস্থিতিতে রাষ্ট্র এবং ইউনুস নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। ছায়ানট, উদীচীর মতো সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ছাড়াও শিল্পী, সাংবাদিক এবং সংবাদপত্রের অফিসগুলিও হামলার শিকার হয়েছে। কিন্তু ইউনুসের এই সার্কাস সরকার বাংলাদেশের হাল ধরতে ব্যর্থ তা প্রমাণিত। যদিও আয়োজকরা কিন্তু ঘটনাটিকে হালকা করে দেখাতে চাইছেন। আয়োজকদের তরফ থেকে গভীর রাতে দাবি করা হয়, অনুষ্ঠানস্থলে না ঢুকতে পেরেই নাকি এই হামলা করে বিক্ষুব্ধ জনতা। যদিও অনুষ্ঠানস্থলের বাইরে দুটো বড় স্ক্রিনে জেমসের গান দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এদিকে, যদি অনুষ্ঠানস্থলে ঢোকাই উদ্দেশ্য হবে, তাহলে মঞ্চ দখল করে সেখানে ভাঙচুর কেন হয়? এই আবহে সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক বাংলাদেশির দাবি, এটা জামাতপন্থীদের হামলা ছিল। ঘটনার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে লেখিকা তসলিমা নাসরিন লিখেছেন, “ছায়ানট, বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, পুড়িয়ে ছারখার করে দেওয়া হয়েছে। সঙ্গীত, নাটক, নৃত্য, আবৃত্তি ও লোকসংস্কৃতির মাধ্যমে ধর্মনিরপেক্ষ ও প্রগতিশীল চেতনা গড়ে তোলার লক্ষ্যে গড়ে ওঠা উদীচীকেও পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আজ জিহাদিরা খ্যাতনামা শিল্পী জেমসকেও মঞ্চে উঠতে দিল না।

আপনি কি বুঝতে পারছেন ইউনুস, এই ঘটনা শুধুমাত্র একজন জনপ্রিয় শিল্পীর অনুষ্ঠান ভাঙচুরের ঘটনা নয় — এটি বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তোলে। বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা তো নেইই আর জেমসের ঘটনা দেখিয়ে দিল বাংলাদেশে আর শিল্পের নিরাপত্তাও নেই। এর পর কি তাহলে আপনি বাংলাদেশে আর মানুষের কথা বলার স্বাধীনতাটুকুও রাখবেন না? এর পর কি বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের জীবন যাত্রা ওঠা বসা সব কিছুই কি আপনি নিয়ন্ত্রণ করবেন? কিন্তু আপনি কি এটা বুঝতে পারছেন যত শিল্প সংবাদ মাধ্যমের ওপর আঘাত করে এই মুহূর্তের ইস্যু গুলো থেকে নজর ঘোরাতে চাইবেন তত কিন্তু অন্যভাবে চাপ বাড়ছে আপনার ওপর! আপনি ভুলে যাবেন না হাদির হত্যাকাণ্ডের কথা ভুলে যাবেন না ইনকিল্যাব মঞ্চের হূশীয়ারি কথা। বাংলাদেশের ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে পুলিশের সক্রিয়তা চেয়ে এবং হত্যাকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে শুক্রবার রাতভর বিক্ষোভ হল ঢাকায়। শনিবারও সারাদিন শাহবাগে অবস্থান করার কথা ঘোষণা করেছেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যেরা। প্রয়োজনে দেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের বাসভবন যমুনা ঘেরাও করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে তাঁরা। তাদের সাফ দাবি, সরকারের উপদেষ্টাদের শাহবাগে তাদের সামনে উপস্থিত হতে হবে এবং হত্যাকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে। এই প্রতিবাদ অবস্থানে যোগ দিয়েছেন হাদির ভাই ওমরও, তিনিও প্রয়োজনে ইউনূসের বাসভবন ঘেরাওয়ের বার্তা দিয়েছেন। অবস্থানস্থল থেকে তিনি বলেন, ‘‘বিচার না-পাওয়া পর্যন্ত আমরা ঘরে ফিরব না। প্রয়োজনে আরও কঠিন কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হব। রাষ্ট্রের পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার আগে বলতে চাই, আমাদের বাধ্য করবেন না ক্যান্টনমেন্ট বা যমুনা ঘেরাও করতে।’’ হাদির হত্যাকারীদের গ্রেফতারির দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চ এর আগেও অন্তর্বর্তী সরকারকে সময় বেঁধে দিয়েছিল। শুক্রবার দুপুর থেকে ঢাকার শাহবাগে তারা বিক্ষোভ অবস্থানে বসে। পরে ঘোষণা করা হয়, রাতভর অবস্থান চলবে। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষও অনেকে এই অবস্থানে যোগ দেন। ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, ‘‘যত ক্ষণ পর্যন্ত হাদির হত্যাকারী, হত্যার পরিকল্পনাকারী এবং এই হত্যায় জড়িত সকলকে গ্রেফতার না-করা হচ্ছে, আমরা রাজপথ ছাড়ছি না। আমাদের আর ফিরে যাওয়ার সুযোগ নেই। সারা বাংলাদেশ থেকে জনতা আসছে। অবস্থান চলবে।’’