গঙ্গাসাগর মেলার প্রস্তুতি তুঙ্গে

মুখ্যমন্ত্রী সফরের আগে গঙ্গাসাগর মেলার প্রস্তুতি খতিয়ে দেখলেন মন্ত্রী ও কলকাতা পৌর কমিশনার

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : ​“২০২৬-এর গঙ্গাসাগর মেলা হবে ঐতিহাসিক”—এই লক্ষ্য নিয়েই কোমর বেঁধে নামছে রাজ্য প্রশাসন। মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১১টা নাগাদ গঙ্গাসাগরের কচুবেড়িয়া ভেসেলঘাটে পৌঁছন রাজ্যের পরিবহণ মন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী। আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে তিনি কচুবেড়িয়া পয়েন্ট ঘুরে দেখার পাশাপাশি মেলা প্রাঙ্গণের প্রতিটি কাজের অগ্রগতি খতিয়ে দেখেন। এবারের মেলার বিশেষ আকর্ষণ ও চ্যালেঞ্জ হল উপচে পড়া ভিড় সামলানো, কারণ এ বছর কুম্ভ মেলা না থাকায় রেকর্ড সংখ্যক পুণ্যার্থী সাগরে পুণ্যস্নানে আসবেন বলে মনে করছে প্রশাসনিক আধিকারিকেরা। এবারের মেলা প্রস্তুতির অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হল অভিজ্ঞতার উপর আস্থা রাখা। দক্ষিণ ২৪ পরগনার প্রাক্তন জেলাশাসক বর্তমান কলকাতা পৌর কমিশনার সুমিত গুপ্তা এদিন সাগরে উপস্থিত ছিলেন। বিগত কয়েক বছর ধরে গঙ্গাসাগর মেলার সফল ব্যবস্থাপনার কারিগর ছিলেন তিনি।

অন্যদিকে, বর্তমান জেলাশাসক অরবিন্দ কুমার মিনার কাছে এটিই প্রথম গঙ্গাসাগর মেলা। নবাগত জেলাশাসককে মেলার ভৌগোলিক অবস্থান ও প্রশাসনিক মারপ্যাঁচ বুঝিয়ে দিতেই সুমিত গুপ্তাকে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এদিন কচুবেড়িয়ার বিভিন্ন পয়েন্ট পরিদর্শন করেন এবং সাগরের বিডিও কানাইয়া কুমার রাও সহ একাধিক দপ্তরের আধিকারিকদের নিয়ে উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠক করেন। আগামী ৫ জানুয়ারি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গঙ্গাসাগর সফরে আসছেন। তিনি নিজেই মেলার চূড়ান্ত প্রস্তুতি খতিয়ে দেখবেন এবং একাধিক জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন। মুখ্যমন্ত্রীর সফরের আগেই যাতে সমস্ত পরিকাঠামো নিখুঁত থাকে, তা নিশ্চিত করতে দিনরাত এক করে কাজ করছেন কর্মীরা। আগামী ৮ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে চলেছে গঙ্গাসাগর মেলা ২০২৬। প্রশাসনের মূল লক্ষ্য হলো ‘জিরো ক্যাজুয়ালিটি’। অর্থাৎ, মকর সংক্রান্তির পুণ্যস্নান সেরে প্রতিটি পুণ্যার্থী যাতে সুস্থভাবে এবং নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারেন, তা নিশ্চিত করা। কচুবেড়িয়া ও মুড়িগঙ্গা নদীতে ভেসেল পরিষেবা সচল রাখতে পরিবহণ মন্ত্রী বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন। রেকর্ড ভিড়ের আশঙ্কায় বাফার জোন এবং সিসিটিভি নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে। মেলা প্রাঙ্গণে পানীয় জল, শৌচালয় এবং অস্থায়ী হাসপাতালের কাজও শেষ পর্যায়ে। প্রশাসনিক আধিকারিকদের মতে, কুম্ভ মেলা না থাকায় এবার সাগরে জনজোয়ার নামবে। সেই কথা মাথায় রেখেই জলপথ ও স্থলপথের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে। সব মিলিয়ে, তিলোত্তমা থেকে শুরু করে কপিল মুনির আশ্রম—সর্বত্রই এখন সাজো সাজো রব।