বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি সাংসদ জগন্নাথের সম্পত্তির পরিমাণ চেয়ে আরটিআই-এর দ্বারস্থ এক শিক্ষক, শুরু রাজনৈতিক তরজা

বিশ্বজিৎ দেবনাথ, নিজস্ব সংবাদদাতা : এবার বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকার এবং তাঁর আত্মীয়দের বর্তমান সম্পত্তির পরিমাণ কত তার হিসাব জানতে জেলাশাসকের দফতরে আবেদন করলেন এক শিক্ষক তথা একদা সিপিআইএম প্রার্থী। তিনি স্ট্যাম্প পেপারের ওপর প্রায় দশ পাতার একটি আবেদনপত্র জমা দেন। নির্বাচনের আগে এটা তৃণমূলের রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে পাল্টা দাবি করেছেন সাংসদ। নদিয়ার শান্তিপুর থানার এক নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা শ্যামল কুমার সাউ, পেশায় শিক্ষক। একদা শান্তিপুর পৌরসভার এক নম্বর ওয়ার্ডের সিপিআইএম প্রার্থী হয়েছিলেন তিনি। তিনি হঠাৎ রানাঘাট বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকার এবং তার আত্মীয়দের বর্তমান সম্পত্তির হিসাব চেয়ে জেলাশাসক দফতরের তত্ত্বাবধানে থাকা সংশ্লিষ্ট দফতরে একটি আবেদন পত্র জমা দেন। যেখানে বর্তমান তার এবং তাঁর আত্মীয়ের মোট সম্পত্তির হিসাব চান তিনি। এ বিষয়ে আবেদনকারী শ্যামল কুমার সাউ বলেন, তিনি লোকসভা নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার পর ইলেকশন কমিশনের কাছে যে হিসাব দিয়েছিলেন, এখন লক্ষ্য করা গিয়েছে তার চেয়ে জগন্নাথ সরকারের সম্পত্তির পরিমাণ অনেক বেশি। পাশাপাশি লোকমার পথ এবং ইন্টারনেটের মাধ্যমেও আমার বিষয়টি সন্দেহ হয়। সেই কারণে আমি একজন নাগরিক হিসাবে আমার অধিকার আছে একজন জনপ্রতিনিধির সম্পত্তি পরিমাণ কত সেটা জানার। সেই তাগিদে আমি একটি আবেদনপত্র জমা করেছি। তবে এর সঙ্গে কোন রাজনৈতিক সম্পর্ক নেই। পাশাপাশি তিনি বলেন আমি আরও জানতে পারি বিভিন্ন জেলায় তার নাম এবং বেনামে সম্পত্তি থাকতে পারে। আমি পরবর্তীকালে সেই সমস্ত জেলাগুলিতেও আরটিআই করব।

এ বিষয়ে জগন্নাথ সরকার বলেন, এটা খুব ভালো খবর। আমার সম্পত্তির পরিমাণ কেউ জানতেই পারে। আমার যেটুকু সম্পত্তি রয়েছে সেটুকু সম্পূর্ণ পৈত্রিক ভিটা। আমি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হওয়ার পর আমার কোনও সম্পত্তির পরিমাণ বাড়েনি। শুধুমাত্র ট্রাস্টের মাধ্যমে আমি অল্প একটু জমি কিনেছি। তবে নির্বাচনের আগে এই আবেদন তিনি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র দেখছেন।
এবিষয়ে তৃণমূল নেতা সুব্রত সরকার বলেন, বিজেপি আসলে একটা ফ্যাসিস্ট দল। এদের বিরুদ্ধে কেউ কিছু করতে গেলে তাদের বিরোধী তকমা দিয়ে দেয়। সম্পত্তি জানার অধিকার একটি ভারতীয় সংবিধানের আইন রয়েছে। তাহলে আরটিআই আইনটি তুলে দিক দেশের সরকার। একজন জনপ্রতিনিধির কত সম্পদ রয়েছে সেটা সাধারণ মানুষের জানার অধিকার রয়েছে।