মহাকুম্ভের ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে গঙ্গাসাগরে একাধিক পদক্ষেপ !

Gangasagar mela: এবারের গঙ্গাসাগর মেলায় থাকছে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ড্রপ গেট ও বাফার জোন।

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : আর মাত্র কয়েকটা দিনের অপেক্ষা জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে শুরু হতে চলেছে গঙ্গাসাগর মেলা ২০২৬। ইতিমধ্যেই গঙ্গাসাগর মেলাকে কেন্দ্র করে সেজে উঠছে কপিলমুনি মন্দির প্রাঙ্গন। নতুন রঙের প্রলেপ দেওয়া হচ্ছে মন্দিরে। মহাকুম্ভ না থাকার কারণে এবছর গঙ্গাসাগর মেলায় রেকর্ড সংখ্যক ভিড় হতে পারে এমনই অনুমান করছে জেলা প্রশাসনের আধিকারিকেরা। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গঙ্গাসাগর মেলা ২০২৬ কে সুস্থভাবে পরিচালনা করার ক্ষেত্রে একাধিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রতিবছর গঙ্গাসাগর মেলায় ভিড় নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন জায়গায় ড্রপগেট ও বাঁশের ব্যারিকেড ব্যবহার করা হয়। এর মাধ্যমে একসঙ্গে অতিরিক্ত মানুষের প্রবেশ আটকানোর চেষ্টা করা হয়। তবে এবার সেই ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করতে ড্রপ গেটে বসানো হচ্ছে ট্রাফিক লাইট। মোট ৪০টি স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে এই ড্রপ গেট ও ট্রাফিক লাইট বসানো হবে।

কাকদ্বীপের লট-৮, সাগরদ্বীপে প্রবেশের গুরুত্বপূর্ণ পথ কচুবেড়িয়া ঘাট, পাশাপাশি মেলাপ্রাঙ্গণের একাধিক মোড়ে এই নতুন ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে। ভিড়ের চাপ বাড়লেই নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আলো লাল করা হবে, যাতে মানুষের ঢল নিয়ন্ত্রিত রাখা যায়। ভিড় নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ২,৫০০ সিভিক ভলেন্টিয়ার নিয়োগ করা হয়েছে। ৫ লক্ষ টাকা করে বিমা করা হয়েছে গঙ্গাসাগর মেলায় আগত পুণ্যার্থীদের জন্য। পুণ্যার্থীদের জন্য কচুবেড়িয়া থেকে সাগর পর্যন্ত রাখা হয়েছে আড়াই হাজার বাস। যাতায়াতের সুবিধার জন্য ২১ টি জেটি তৈরি করা হয়েছে। গঙ্গাসাগর মেলা ২০২৬-এর জন্য দশটি স্থায়ী জেটি এবং ১১ টি অস্থায়ী জেটি ব্যবহার করা হবে। দিবারাত্রি চলবে ভেসেল পরিষেবা। ভেসেলে অত্যাধুনিক এন্ট্রি ফগলাইট ব্যবহার করা হবে। গঙ্গাসাগর মেলায় যাত্রী সাধারণের পারাপারের জন্য ১১টি বার্জ এবং ৪৫টি ভেসেল এবং ১০০টি লঞ্চ ব্যবহার করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি গঙ্গাসাগর মেলার জন্য বাড়তি ট্রেনেরও সুবিধা রয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানোর জন্য মেলা প্রাঙ্গণে ১২০০ সিসিটিভি এবং কুড়িটির ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি চালানো হবে ২০ ঘন্টা। মেলা প্রাঙ্গণে ১৮টি অস্থায়ী দমকল বিভাগ নির্মাণ করা হয়েছে।

সুষ্ঠু মেলা পরিচালনা করার ক্ষেত্রে গঙ্গাসাগর মেলা উপলক্ষে পাঁচটি অস্থায়ী হাসপাতাল নির্মাণ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি গঙ্গাসাগর মেলায় এসে অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত সেই পূর্ণর্থীদের স্থানান্তরিত করার জন্য ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্স এবং এয়ার অ্যাম্বুলেন্স এর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। মেগা কন্ট্রোলরুম করা হয়েছে। বুধবার সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলাশাসক অরবিন্দ কুমার মিনা এবং সুন্দরবন পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার কোটেশ্বর রাও গঙ্গাসাগর মেলা ২৬ এর প্রস্তুতি বৈঠক করেন। এ বিষয়ে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলাশাসক অরবিন্দ কুমার মিনা জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছরও রেকর্ড সংখ্যক পুণ্যার্থীদের সমাগম হবে গঙ্গাসাগরে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সমস্ত রকম ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুণ্যার্থীদের তৃষ্ণা নিবারণের জন্য এক কোটি ওয়াটার পাউচের ব্যবস্থা করা হয়েছে। গঙ্গাসাগর মেলা ২০২৬ এর জন্য ১২,৩০০টি অস্থায়ী শৌচালয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুণ্যার্থীদের জন্য পুণ্যার্থী নিবাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ১৬টি বাফার জোন তৈরি করা হয়েছে। ভিড় নিয়ন্ত্রণ করার জন্য একাধিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অবাধ ও শান্তিপূর্ণভাবে মেলা করার জন্য একাধিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।