Abhishek Baruipur meeting: বাংলাদেশে ইউনুসের শাসনকে প্রশংসা শুভেন্দুর। বিজেপির হিন্দুত্ব এবং বাঙালিয়ানা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন অভিষেক।

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : বাংলাদেশে ইউনুসের শাসনকে শুভেন্দুর প্রশংসা। ব্রিগেডে গীতাপাঠ অনুষ্ঠানে চিকেন প্যাটিস বিক্রির অভিযোগে এক যুবকের উপর হামলা। বাংলায় কথা বলায় মহারাষ্ট্রের মাটিতে বাঙালি বিজেপি নেতার উপর পুলিশি অত্যাচার। বারুইপুরের জনসভা থেকে বিজেপির হিন্দুত্ব এবং বাঙালিয়ানা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
অভিষেক বলেন, “ব্রিগেডে বিজেপির গীতাপাঠ অনুষ্ঠানে এক যুবকের উপর হামলা করা হয়েছে। তাঁর অপরাধ ছিল এই যে তিনি চিকেন প্যাটিস বিক্রি করেছেন। এদের কাছ থেকে হিন্দুত্ব শিখবো আমরা?“
এরপরই তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড বলেন, “গীতায় বলা আছে, শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন, সমস্ত প্রাণী এমনকি একটা কুকুরের মধ্যেও আমি বিরাজমান। প্রত্যেকটা জীবজন্তুর মধ্যে আমি রয়েছি। তাহলে কেন মারা হল ওই যুবককে ? পুলিশ যখন অভিযুক্তদের গ্রেফতার করেছে, তখনই জামিনে মুক্তি পেয়েছিল অভিযুক্তরা। পরে অভিযুক্তদের মালা পরিয়ে বরণ করেছে বিজেপির নেতারা।“
এরপরই ক্ষোভ উগরে দিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “কে কী করবো, কী খাবো, ফ্রিজে কী রাখবো, দিল্লির বাবারা ঠিক করে দেবে ? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যতদিন ক্ষমতায় আছে, এসব নিয়ে চিন্তা করতে হবে না। “
বারুইপুরের সভায় বিরাটাকার ব়্যাম্প করে কোটি কোটি টাকা নষ্ট করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ইতিমধ্যে এমন অভিযোগ তুলতে শুরু করেছেন বিরোধীরা। মঞ্চ থেকে এরও জবাব সপাটে ছুঁড়ে দিয়েছেন তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড। তিনি বলেন, “এই ব়্যাম্প নিয়ে অনেক সমালোচনা হয়েছে। কিন্তু এই ব়্যাম্প তৈরি করার পিছনে কারণ রয়েছে। কারণ হল এই ব়্যাম্পে আমরা হাজির করতে চলেছি ৩জন ভুতকে।“
৩জনকে ব়্যাম্পে এনে অভিষেক বলেন, “এরা জীবন্ত আপনারাও দেখতে পাচ্ছেন, কিন্তু নির্বাচন কমিশন এদেরকে মৃত বলে দেখিয়েছে। আগামীদিন দিল্লিতে যাবে তৃণমূল কংগ্রেস।দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ২৪ জন এমন জীবিত ভোটার রয়েছে তাদেরকে নির্বাচন কমিশন মৃত ঘোষণা করেছে। আগামীদিনে এসআইআর নিয়ে দিল্লিতে আমরা আন্দোলন করবো। এসআইআরের আতঙ্কে বাংলায় অনেক মানুষ মারা গিয়েছেন। এর দায় নির্বাচন কমিশনকে নিতে হবে। বিজেপির যদি আমার প্রতি শত্রুতা থাকে তাহলে আমাকে নোটিশ পাঠিয়ে রাখুন। বিজেপি বাংলার মানুষদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। এরা যেন বাংলায় না জিততে পারে। বাংলার কৃষ্টি সংস্কৃতিকে অপমান করেছে এরা। সাধারণ মানুষের ভোগান্তির শিকার করছে নির্বাচন কমিশন। এসআইআর শুরু হতেই দু’মাসে ৫৬ জন মানুষ মারা গিয়েছেন। আগামী দিনে মানুষ এর জবাব দেবে। যারা আপনাকে আনম্যাপ করার চেষ্টা করেছে, তাদের বাংলার ম্যাপ থেকে আউট করে দিন আগামী ভোটে।“
একটি অডিও ক্লিপ শুনিয়ে অভিষেক বলেন, “বিরোধী দলনেতা বলছেন, পশ্চিমবঙ্গের চাইতে বাংলাদেশে ইউনুসের সরকার ভালো চলছে। যে দেশে হিন্দুদের হত্যা করা হচ্ছে, সেদেশের সরকার ভালো চলছে বলে মন্তব্য করছেন শুভেন্দু অধিকারী। আপনারা দীপু দাস হত্যাকাণ্ড দেখেছেন। তারপরেও এদেরকে সার্টিফিকেট দিচ্ছেন বিজেপির নেতা। এই হচ্ছে এদের হিন্দুত্ব।“
অভিষেক আরও বলেন, “ যারা মা দুর্গার বংশ পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলে, যারা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে রবীন্দ্রনাথ সান্ন্যাল বলে। ২০১৯-এ যাদের নেতৃত্বে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙা হয়েছিল, যাদের রাজ্য সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার স্বামী বিবেকানন্দকে অজ্ঞ বামপন্থী বলেন, যারা বাংলার কৃষ্টি সংস্কৃতি নিয়ে আক্রমণ করে, যারা দিল্লির দালালি করে, দিল্লির জুতো চাটা ছাড়া কাজ নেই, তারা বাংলাকে বাঁচাবে? “
সুকান্ত মজুমদারের ভূমিকা নিয়েও সরব হয়েছেন অভিষেক। তিনি বলেন “বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার। ৩-৪দিন আগে দুই যুবক এসেছিলেন আমার কাছে। মহারাষ্ট্রে ২ মাস জেল খেটেছেন তাঁরা। তাদের অপরাধ, তারা বাংলায় কথা বলেছেন। তার মধ্যে একজন বিজেপির বুথ সভাপতি। তারা বলছেন বাংলায় কথা বলায় তাদের হাতে হাতকড়া পরিয়ে জেল খাটানো হয়েছে। ওই বিজেপি নেতার স্ত্রী সাংসদ সুকান্ত মজুমদারের পায়ে পর্যন্ত ধরেছেন। কিন্তু কাজ হয়নি। তৃণমূল কংগ্রেস মহারাষ্ট্রের আদালতে লড়াই করে বিজেপির বুথ সভাপতিকে ঘরে পৌঁছে দিয়েছে। যে বিজেপি নিজের বুথ সভাপতিকে রক্ষা করতে পারে না। সে বাংলাকে কী রক্ষা করবে ?”
এরপরই কার্যত চ্যালেঞ্জের সুরে অভিষেক বলেন, “ আাসাম, ত্রিপুরা, মেঘালয় রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড সবকটা রাজ্যে তো আপনারা ক্ষমতায় আছেন। পশ্চিমবঙ্গের ২ কোটি মহিলাকে কোনও প্রশ্ন না করে তাদের লক্ষ্মীর ভান্ডার দেওয়া হয়। আপনারা তো এতগুলো রাজ্যে ক্ষমতায় আছেন। সেসব রাজ্যে লক্ষ্মীর ভান্ডার করে দেখান। আসলে বিজেপি ঘোষণা করে, কিন্তু পরিষেবা দেয় না। পরিষেবার নাম করে ভেরিফিকেশন করতে গিয়ে অর্ধেক মানুষের নাম বাদ দিয়ে দিয়েছে বিজেপি।“
এরপরই অভিষেক স্লোগান তোলেন, “তৃণমূল জিতলে দুমুঠো ভাত, বিজেপি জিতলে ধর্মে ধর্মে আঘাত। তৃণমূল জিতলে দুয়ারে রেশন, বিজেপি জিতলে দুয়ারে ভাষণ।“