৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত অভিযুক্তকে পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেয় আদালত।

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : নাজিরাবাদ অগ্নিকাণ্ড মামলায় গ্রেফতার করা হল ডেকরেশন ব্যবসায়ী গঙ্গাধর দাস। বয়স ৫৯ বছর। তাঁর বাড়ি পূর্ব মেদিনীপুর জেলার খেজুরি থানার অন্তর্গত পূর্বচড়া গ্রামে।
সোনারপুর উত্তর বিধানসভা এলাকার খেয়াদহ–২ গ্রাম পঞ্চায়েতের নাজিরাবাদে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১১-এ। এখনও পর্যন্ত সরকারি ভাবে নিখোঁজ রয়েছেন ২০ জন। দমকল বিভাগের অভিযোগের ভিত্তিতে নরেন্দ্রপুর থানায় মামলা রুজু হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই গ্রেফতার করা হয়েছে নিউ পুষ্পাঞ্জলি নার্সারি প্রাইভেট লিমিটেড তথা ডেকরেটার্স সংস্থার কর্ণধার গঙ্গাধর দাসকে। মঙ্গলবার রাতে গড়িয়া এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ।
প্রায় চার দশকেরও বেশি সময় ধরে ডেকোরেশনের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। বিদেশ থেকে প্লাস্টিক ফুল আমদানি করে সেই ফুল দিয়ে অনুষ্ঠান বাড়ি, সভা, সমিতির মঞ্চ সহ বিভিন্ন জায়গা সাজানোর কাজ করতেন গঙ্গাধর দাস।

প্রথমদিকে জেলার মধ্যেই ছোটখাটো ডেকোরেশনের বরাত পেতেন তিনি। ধীরে ধীরে ব্যবসা সম্প্রসারিত হয়। প্রায় ১৩ বছর আগে পূর্ব মেদিনীপুরের পাশাপাশি কলকাতার অদূরে খেয়াদহ ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের নাজিরাবাদ এলাকায় কারখানা ও গোডাউন চালু করেন গঙ্গাধর দাস। সেই গোডাউনেই রবিবার গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটল। অগ্নিকাণ্ডের খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই উধাও হয়ে যান গঙ্গাধর দাস। তাঁর মোবাইল ফোনও দীর্ঘক্ষণ বন্ধ ছিল। এরপর থেকেই তাঁর খোঁজে তল্লাশি শুরু করে পুলিশ। মঙ্গলবার নরেন্দ্রপুর থানায় তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়।
অবশেষে মঙ্গলবার গভীর রাতে গড়িয়া এলাকা থেকে গঙ্গাধর দাসকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাঁর গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বারুইপুর জেলা পুলিশ সুপার শুভেন্দ্র কুমার। তিনি জানান, গোডাউনের মালিক গঙ্গাধর দাসকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে। গোডাউন মালিক গঙ্গাধর দাস বুধবার বারুইপুর আদালতে তোলা হয়। ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত অভিযুক্তকে পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেয় আদালত।
আদালতে পুলিশ জানিয়েছে, ডেকরেটার্স ও মোমো কোম্পানির মালিকদের বিরুদ্ধে গাফিলতির জেরে মৃত্যুর ধারায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। একই ধারায় আরেকটি স্বতঃপ্রণোদিত মামলাও রুজু করছে পুলিশ। গ্রেফতারির পর গঙ্গাধর দাস পুলিশের কাছে দাবি করেছেন, মোমো কারখানার গাফিলতির কারণেই আগুন লাগে এবং তাতে তাঁর দীর্ঘদিনের ব্যবসা সর্বশান্ত হয়ে গিয়েছে।
উল্লেখ্য, ২৫শে জানুয়ারি রবিবার গভীর রাতে প্রথমে একটি ডেকরেটার্সের গোডাউনে আগুন লাগে। সেখান থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশের একটি মোমো গোডাউনে। অভিযোগ, দু’টি জায়গাতেই অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা ছিল না। ফরেনসিক পরীক্ষার প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, ডেকরেটার্সের গুদামের ভিতরে রান্নাবান্না চলছিল এবং সেখানে মদ্যপানও হচ্ছিল। ধূমপান, অন্য কোনও অসাবধানতা অথবা ইলেকট্রিক স্টোভ ফেটে যাওয়ার কারণেই আগুন ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে অনুমান। একবার আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর আর তা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। এই ঘটনায় মৃতদের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে রাজ্য সরকার। মঙ্গলবার খেয়াদহ–২ গ্রাম পঞ্চায়েতের অফিসে নিখোঁজ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেন কলকাতার মেয়র তথা রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম।