যানজট নয়, এবার সোজা হলে পরীক্ষার্থীরা

সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে টোটো।

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা: পরীক্ষার দিনে যানজট বা পরিবহণ সমস্যার কারণে যাতে কোনও মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী কেন্দ্রে পৌঁছতে দেরি না করে, সেই লক্ষ্যেই ডায়মন্ড হারবারে চালু হয়েছে বিনামূল্যের টোটো পরিষেবা। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবার বিধানসভা জুড়ে প্রায় ১০০টি ই-রিকশা বা টোটো নামানো হয়েছে এই বিশেষ উদ্যোগে।
স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের দাবি, ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে এবং তাঁর নির্দেশে পর্যবেক্ষক সামিম আহমেদের তত্ত্বাবধানে এই পরিষেবা চালু করা হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষার সময় প্রতিদিন বহু পরীক্ষার্থীকে দূরের বিভিন্ন স্কুলে পরীক্ষা দিতে যেতে হয়। অনেকেই বাস বা অন্য যানবাহনের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু পরীক্ষার দিন সকালবেলায় অতিরিক্ত যানজটের কারণে সময়মতো কেন্দ্রে পৌঁছনো নিয়ে দুশ্চিন্তা তৈরি হয়।
এই সমস্যা দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও এলাকায় টোটোগুলি মোতায়েন করা হয়েছে। সেখান থেকে পরীক্ষার্থীদের সরাসরি পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। পরিষেবার জন্য কোনও ভাড়া নেওয়া হচ্ছে না। ফলে আর্থিকভাবে স্বস্তি পাচ্ছেন বহু পরিবারও।
ডায়মন্ড হারবার টাউন তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি সৌমেন তলফদার বলেন,
“সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে এবং পর্যবেক্ষক সামিম আহমেদের ব্যবস্থাপনায় আমরা মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য এই বিশেষ টোটো পরিষেবা চালু করেছি। রাস্তায় যাতে কোনও সমস্যায় না পড়ে এবং সময়মতো সেন্টারে পৌঁছতে পারে, সেই কারণেই এই উদ্যোগ।”
বিনামূল্যে এই পরিষেবা পেয়ে খুশি পরীক্ষার্থীরাও। এক পরীক্ষার্থী জানায়,
“আমার অনেক বন্ধু এই টোটোতে করে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছেছে। আমি প্রথমে স্কুল খুঁজে পাচ্ছিলাম না। এখানে এসে জানতে পারি টোটো পরিষেবা আছে। তারপর টোটো করে আমাকে কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হয়।”
অভিভাবকরাও উদ্যোগটিকে স্বাগত জানিয়েছেন। অভিভাবক গনি শেখ বলেন,
“এটি খুবই ভালো উদ্যোগ। আমি আমার ভাইপোকে নিয়ে পরীক্ষা দিতে এসেছি। সহজেই টোটো পেয়ে গেছি এবং সময়মতো কেন্দ্রে পৌঁছেছি। পরীক্ষার্থীদের পেন ও জলের বোতলও দেওয়া হচ্ছে।”
স্থানীয়দের মতে, পরীক্ষার্থীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে নেওয়া এই উদ্যোগ পরীক্ষার চাপের মধ্যে অনেকটাই স্বস্তি এনে দিয়েছে। প্রশাসনের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগ পরীক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোয় খুশি এলাকাবাসীও।