তৃণমূল বিধায়ক মন্টুরাম পাখিরার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ্যে ।

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : জয়নগরের পর এবার কাকদ্বীপে শাসকদলের অন্দরে অসন্তোষের ইঙ্গিত। তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক মন্টুরাম পাখিরার বিরুদ্ধে এলাকাজুড়ে পোস্টার পড়ায় রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কাকদ্বীপ বিধানসভার বিভিন্ন প্রান্তে এই পোস্টার চোখে পড়ে। পোস্টারের নিচে লেখা—‘তৃণমূলের বিক্ষিপ্ত কর্মীবৃন্দ’।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রাতের অন্ধকারে বিধানসভার বিস্তীর্ণ এলাকায় পোস্টারগুলি সাঁটা হয়। সেখানে বিধায়কের বিরুদ্ধে দুর্নীতিসহ একাধিক অভিযোগ তোলা হয়েছে। যদিও অভিযোগের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ বা ঘটনার উল্লেখ পোস্টারে নেই, তবুও বিষয়টি ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়েছে এলাকায়।
স্থানীয় বাসিন্দা নারায়ণ দাস জানান, “বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিভিন্ন জায়গায় বিধায়কের বিরুদ্ধে পোস্টার দেখতে পাচ্ছি। নিচে তৃণমূলের বিক্ষিপ্ত কর্মীদের নাম লেখা রয়েছে। কারা লাগিয়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে পারছি না।”
রাজ্যে আর কয়েক মাসের মধ্যেই বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজবে। তার আগে শাসকদলের অভ্যন্তরে গোষ্ঠী কোন্দল ফের প্রকাশ্যে এল কি না, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বিভিন্ন এলাকায় দলীয় অসন্তোষ সামনে চলে আসছে।
এ বিষয়ে তৃণমূলের কোনও শীর্ষ নেতা প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে চাননি। বিধায়ক মন্টুরাম পাখিরার তরফ থেকেও কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি। ফলে পোস্টারের নেপথ্যে কারা এবং এর রাজনৈতিক তাৎপর্য কী—তা নিয়ে ধোঁয়াশা থেকেই যাচ্ছে।
অন্যদিকে, মথুরাপুর বিজেপি সাংগঠনিক জেলার জেলা কমিটির সদস্য অভিজিৎ মণ্ডল বলেন, “তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দল আগেও ছিল, এখনও রয়েছে। বিধায়কের বিরুদ্ধে পোস্টার সেই অন্তর্দ্বন্দ্বেরই বহিঃপ্রকাশ।”
পোস্টার-কাণ্ড ঘিরে কাকদ্বীপের রাজনৈতিক মহলে চাপানউতোর শুরু হয়েছে। নির্বাচনের আগে এই ঘটনায় শাসকদলের অস্বস্তি যে বেড়েছে, তা বলাই বাহুল্য।