স্কুলে বিজেপি বিধায়কেরএ কেমন আচরণ !

স্কুল কেন অপরিস্কার ? শিক্ষকের সঙ্গে বাকবিতন্ডা। মাস্টারমশাই সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, অনুমতি ছাড়া তিনি স্কুলে প্রবেশ করতে পারেন না।

নিজস্ব সংবাদদাতা : দুর্গাপুজোর পরে বাংলার সবচেয়ে বড় উৎসব এখন ভোটই। মহা ধুমধামে পালিত হয় এই উৎসব। বাংলাকে এখন তাই বলাই যায় ভোটমুখী বাংলা। সেই বাংলায় কালে কালে কত পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছেন তো ? যদিও সেটা নতুন কিছুই নয়। এ পরিবর্তন ভোটের আগে আপনার চোখে পড়বেই। চলুন.. ২৬-র ভোটের একেবারে টাটকা-সতেজ ৫ গল্প শোনা যাক। যদিও সেগুলো গল্প হলেও সত্যি। এবং সবকটি গল্পই বিধায়কদের ঘিরে।

প্রথমেই চলে যাব বাঁকুড়ার ইন্দাস ব্লকে। প্রথমে দুটো ছবি দেখাব..

এই যে দুটো ছবি দেখলেন.. এটা হল কুশমুড়ি হাইস্কুলের ছবি। আর ইনি বিজেপির বিধায়ক নির্মল ধাড়া। এই বিধায়কের হঠাৎ নজর পড়েছে স্কুলের দিকে। মানে স্কুলের পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকে। স্কুল চলছে। পড়ুয়াদের পঠন-পাঠন চলছে। দুম করে বিধায়ক ঢুকে গেলেন শ্রেণিকক্ষে। কী করতে গেলেন..? স্কুল কেন অপরিস্কার.. কেন পরিস্কার করা হয়নি স্কুল…এ নিয়ে শিক্ষকের সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ চলল বাগ-বিতন্ডা। যদিও মাস্টারমশাইও একেবারে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। এরকম অনুমতি ছাড়া তিনি স্কুলে প্রবেশ করতে পারেন না।

বাঁকুড়া থেকে এবার সোজা চলে যাব নদিয়ার পলাশি পাড়ায়। এবার ভোট আবহে এক জনপ্রতিনিধি বেরিয়েছিলেন এক প্রকল্পের উদ্বোধন করতে। ইনি আবার যে সে জনপ্রতিনিধি নন। ইনি হলে মানিক ভট্টাচার্য। নিয়োগ দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগে জেলে বেশ কিছুদিন কাটিয়েছেন তিনি। নদিয়ার পলাশিপাড়ার তৃণমূল বিধায়ক মানিক ভট্টাচার্য। পথশ্রী প্রকল্পের রাস্তা নির্মাণের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানে তাঁকে চোর চোর স্লোগান শুনতে হল।
অ্যাম্বিয়েন্স

এবার যাওয়া যাক আসানসোলের দিকে। এখানে আবার ডঃ বি আর আম্বেদকরের মূর্তি বসানোকে কেন্দ্র করে তৃণমূল ও বিজেপির তরজা বেঁধে গেল। আসানসোলের কুলটির নিয়ামতপুরে ইস্কোর রোডের পাশে ডঃ বি আর আম্বেদকরের আবক্ষ মূর্তি বসানোর উদ্যোগ নেন বিজেপি বিধায়ক ডঃ অজয় পোদ্দার। কিন্তু তার আগেই আসরে শাসক দল। আসানসোল পুরনিগমের মেয়র পারিষদ সদস্য ইন্দ্রানী মিশ্র নারকেল ফাটিয়ে এবং ছবি লাগিয়ে শিলান্যাস করলেন। তাঁর বক্তব্য, এই মূর্তি বসানোর পরিকল্পনা দীর্ঘদিনের। এটা বিজেপিই হাইজ্যাক করার চেষ্টা করছিল।

কেউ জায়গা ছাড়তে নারাজ। সামনে ভোট যে… জায়গা ছাড়া যাবে না। বলা যেতে পারে। একেবারে কোমর বেঁধে ময়দানে নেমেছেন তাঁরা।

শুরু করেছিলাম বাঁকুড়া থেকে। একেবারে শেষেও পৌঁছে যাব সেই বাঁকুড়াতেই। বাঁকুড়ার সোনামুখী বিধানসভার হামিরপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের নিমাইনগর গ্রামেই রয়েছে এক ফুটবল মাঠ। এখানে একটি সাংস্কৃতিক মঞ্চ তৈরির জন্য বিধায়ক উন্নয়ন তহবিলের টাকা বরাদ্দ হয়। সেই মঞ্চ নির্মাণের কাজ শুরুর আগে ঘটা করে শিলান্যাস অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় । সেই অনুষ্ঠানে স্থানীয়দের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন সোনামুখীর বিজেপি বিধায়ক দিবাকর ঘরামি।

বিধায়ক আর কারোর জন্য অপেক্ষা করেননি। নিজেই হাতে কুড়ুল তুলে নিয়েছেন। নিজেই মাটি খুঁড়তে শুরু করে দেন।

শিলান্যাসের অনুষ্ঠান সেরে বের হতেই একদল দুস্কৃতী অনুষ্ঠানস্থলে হাজির হয়ে গ্রামবাসীদের মারধর শুরু করে। এবং ভাঙচুরেরও অভিযোগ ওঠে।
মানে বোঝা গেল। তৃণমূল, বিজেপি বা অন্যান্যরা। সব দলই মাঠে নেমে পড়েছে। এক ইঞ্চিও জমি ছাড়তে নারাজ কেউই। এখন তাঁরা মানুষের পাশে থাকতে চাইছেন। হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করতে চাইছেন। আবার একে অপরকে দোষারোপ করতেও ছাড়ছেন না।