ডেথ গ্র্যাচুইটি নিয়ে বড় ঘোষণা

এখন থেকে ‘পরিবার’-এর আওতায় থাকবেন- মৃত পুরুষ কর্মীর স্ত্রী, মহিলা কর্মীর স্বামী, সৎ পুত্র-সহ পুত্রসন্তান, অবিবাহিতা, বিধবা ও বিবাহবিচ্ছিন্না কন্যাও।

সূচনা পল্যে, সাংবাদিক : রাজ্যে সরকারি কর্মচারীদের জন্য বড় সিদ্ধান্ত। এবার থেকে সরকারি কর্মচারীর মৃত্যুর পর ‘ডেথ গ্র্যাচুইটি’ পাওয়ার ক্ষেত্রে ‘পরিবার’-এর সংজ্ঞায় যুক্ত হলেন বিবাহিত কন্যাসন্তান। এতদিন এই সংজ্ঞায় বিবাহিত মেয়েরা স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না। ফলে বহু পরিবারকে আইনি জটিলতায় পড়তে হত। ২৩ ফেব্রুয়ারি অর্থ দফতরের পেনশন শাখা বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়ে দিয়েছে- এই নিয়ম অবিলম্বে কার্যকর। প্রশাসনিক মহলের মতে, এতে দীর্ঘদিনের আইনি টানাপড়েন অনেকটাই মিটবে।

কী পরিবর্তন হল?

রাজ্যপাল সংবিধানের ৩০৯ নম্বর অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে
West Bengal Services (Death-cum-Retirement Benefit) Rules, 1971-এর ৭ নম্বর নিয়মে সংশোধন করেছেন।

মূল পরিবর্তনটি হয়েছে ‘ডেথ গ্র্যাচুইটি’র প্রাপক হিসাবে ‘পরিবার’-এর সংজ্ঞায়।

এখন থেকে ‘পরিবার’-এর আওতায় থাকবেন-

মৃত পুরুষ কর্মীর স্ত্রী, মহিলা কর্মীর স্বামী, সৎ পুত্র-সহ পুত্রসন্তান, অবিবাহিতা, বিধবা ও বিবাহবিচ্ছিন্না কন্যা (সৎ কন্যা-সহ)
১৮ বছরের কম বয়সি ভাই, অবিবাহিতা বা বিধবা বোন, প্রয়াত কর্মীর বাবা, প্রয়াত কর্মীর মা এবং এখন যুক্ত হলেন- বিবাহিত কন্যাসন্তান।
এই সংযোজনই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

এতদিন সমস্যা কোথায় ছিল?

সরকারি বিধিতে ‘পরিবার’-এর সংজ্ঞা স্পষ্ট না হওয়ায় বিবাহিত মেয়েদের ক্ষেত্রে গ্র্যাচুইটি নিয়ে প্রশ্ন উঠত। অনেক ক্ষেত্রে-

আবেদন আটকে যেত
আইনি ব্যাখ্যা চাওয়া হত
আদালতে মামলা পর্যন্ত গড়াত

বিবাহবিচ্ছিন্না কন্যাদের ক্ষেত্রেও একই সমস্যা তৈরি হত। ফলে পরিবারগুলোকে দীর্ঘদিন আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকতে হত।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: পুরনো মামলাও পুনর্বিবেচনা

বিজ্ঞপ্তির শেষে একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ তথ্য যুক্ত করা হয়েছে। জানানো হয়েছে- নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার আগে যদি কোনও সরকারি কর্মচারীর মৃত্যু হয়ে থাকে এবং তাঁর বিবাহিত বা বিবাহবিচ্ছিন্ন কন্যার গ্র্যাচুইটি দাবি এখনও অমীমাংসিত থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক দফতর নতুন নিয়ম অনুযায়ী সেই মামলা পুনর্বিবেচনা করতে পারবে। অর্থাৎ- পুরনো ঝুলে থাকা ফাইলগুলিও নতুন আইনের ভিত্তিতে নিষ্পত্তি সম্ভব। এটি বহু পরিবারের জন্য স্বস্তির খবর।

প্রশাসনের অবস্থান

নবান্ন সূত্রে খবর, সমস্ত সংশ্লিষ্ট দফতরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এই নতুন নিয়ম অবিলম্বে কার্যকর করতে। প্রশাসনিক মহল মনে করছে- এটি একটি যুগোপযোগী ও বাস্তবসম্মত সংশোধন।

কর্মচারী সংগঠনের প্রতিক্রিয়া

রাজ্য সরকারি কর্মচারী ফেডারেশন এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের বক্তব্য- এই সহানুভূতিশীল সিদ্ধান্তের ফলে মৃত কর্মচারীদের বিবাহিত ও বিবাহবিচ্ছিন্ন কন্যারা সরাসরি উপকৃত হবেন।

সামাজিক তাৎপর্য

এই পরিবর্তন শুধু প্রশাসনিক নয়, এটি একটি সামাজিক বার্তাও বহন করে। বিবাহিত কন্যাও এখন সমানভাবে পরিবারের সদস্য হিসেবে স্বীকৃত। অর্থনৈতিক অধিকারের ক্ষেত্রেও সমান গুরুত্ব পেলেন তাঁরা।

ডেথ গ্র্যাচুইটি সংক্রান্ত নিয়মে এই সংশোধন দীর্ঘদিনের এক আইনি অস্পষ্টতার অবসান ঘটাল। বিবাহিত মেয়েরা আর বাদ পড়বেন না। পুরনো মামলাও নতুন নিয়মে বিবেচিত হবে। প্রশাসনের মতে- এটি সময়ের দাবি মেনেই নেওয়া পদক্ষেপ। আর বহু পরিবারের কাছে- এটি শুধু একটি বিজ্ঞপ্তি নয় বরং ন্যায্য অধিকার ফিরে পাওয়ার পথ।