এনসিইআরটি বই বিতর্কে দুঃখপ্রকাশ শিক্ষামন্ত্রীর

সুপ্রিম কোর্ট যে নির্দেশ দেবে, তা পূর্ণ মর্যাদায় মানা হবে : ধর্মেন্দ্র প্রধান।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক: এনসিইআরটি-র অষ্টম শ্রেণির সমাজবিজ্ঞান পাঠ্যপুস্তক ঘিরে বিতর্ক তুঙ্গে। বিচারব্যবস্থাকে অবমাননার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হল। তারপর মুখ খুললেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। গভীর দুঃখপ্রকাশ করে তিনি জানিয়েছেন, “সুপ্রিম কোর্ট যে নির্দেশ দেবে, তা পূর্ণ মর্যাদায় মানা হবে।”

সংবাদসংস্থা পিটিআই সূত্রে খবর, শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “বিচারব্যবস্থার প্রতি আমাদের অগাধ শ্রদ্ধা রয়েছে। কোনওভাবেই অসম্মান করার অভিপ্রায় ছিল না। শীর্ষ আদালত যা নির্দেশ দেবে, সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে।” তাঁর এই মন্তব্যের মধ্যেই স্পষ্ট, কেন্দ্র সরকার বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।

বিতর্কের সূত্রপাত অষ্টম শ্রেণির সমাজবিজ্ঞান বইয়ের একটি অধ্যায়কে ঘিরে। যেখানে বিচারব্যবস্থাকে ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ বলে চিহ্নিত করার অভিযোগ ওঠে ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং (National Council of Educational Research and Training)-এর বিরুদ্ধে। বিষয়টি আদালতের নজরে আসতেই কড়া অবস্থান নেয় শীর্ষ আদালত।

বৃহস্পতিবারের শুনানিতে ডিভিশন বেঞ্চ গোটা ঘটনাকে ‘মারাত্মক অবমাননাকর’ এবং ‘বেপরোয়া’ বলে চিহ্নিত করে। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত তীব্র ভাষায় মন্তব্য করেন, “বন্দুক থেকে গুলি ছিটকে গিয়েছে এবং বিচারব্যবস্থা রক্তাক্ত।” আদালত অবমাননার মামলায় স্কুল শিক্ষা দফতর ও এনসিইআরটি-র অধিকর্তা দীনেশপ্রসাদ সাকলানির নামে নোটিস জারি করে জানতে চাওয়া হয়েছে, কেন তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।

গত বুধবার প্রেস বিজ্ঞপ্তি জারি করে এনসিইআরটি ক্ষমা প্রার্থনা করে। তারা জানায়, সংশ্লিষ্ট অধ্যায়ে অনুপযুক্ত বিষয়বস্তু সংযোজন সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত এবং এই ত্রুটির জন্য তারা দুঃখিত। তবে ২৬ ফেব্রুয়ারির শুনানিতে প্রধান বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, এই ক্ষমাপ্রার্থনা আদৌ আন্তরিক কি না, না কি পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার কৌশলমাত্র—তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

এর আগেই আদালত অষ্টম শ্রেণির বিতর্কিত সমাজবিজ্ঞান বইটি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার নির্দেশ দেয় এবং সংশ্লিষ্ট অধ্যায় অবিলম্বে পাঠ্যক্রম থেকে বাদ দেওয়ার কথা জানায়। ইতিমধ্যেই এনসিইআরটি জানিয়েছে, বিচারব্যবস্থার ভূমিকা সংক্রান্ত অধ্যায়টি সংশোধন করা হবে এবং আপত্তিকর অংশগুলি সরিয়ে দেওয়া হবে।

এই ঘটনায় শিক্ষা ও বিচারব্যবস্থার সম্পর্ক, পাঠ্যপুস্তকে ভাষা ব্যবহারের দায়িত্ব এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি—এই তিনটি প্রশ্ন সামনে চলে এসেছে। এখন নজর সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী নির্দেশের দিকে।