১৮২ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করলেন হুমায়ুন কবীর

মুর্শিদাবাদে রণকৌশল বদল হুমায়ুনের, লড়বেন রেজিনগর ও নওদা থেকে।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রণকৌশল বদলের ইঙ্গিত দিলেন তৃণমূল থেকে নিলম্বিত নেতা হুমায়ুন কবীর। বুধবার তিনি স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন, বেলডাঙা নয়—রেজিনগরের পাশাপাশি নওদা বিধানসভা আসন থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

কিছুদিন ধরেই জল্পনা চলছিল, ভরতপুরের বিদায়ী বিধায়ক বেলডাঙা থেকেও লড়তে পারেন। বিশেষ করে ‘বাবরি মসজিদ’ নির্মাণকে ঘিরে বিতর্কের জেরে রাজনৈতিক গুরুত্ব বেড়েছিল ওই কেন্দ্রের। তবে সেই জল্পনায় জল ঢেলে হুমায়ুন জানিয়ে দেন, বেলডাঙায় তাঁর দলের প্রার্থী হচ্ছেন রাজ্য সভাপতি সৈয়ব আহমেদ কবীর।

এ দিন ২৯৪টি আসনের মধ্যে ১৮২টিতে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেন হুমায়ুন। তাঁর দাবি, তৃণমূলকে “উচিত শিক্ষা দিতেই” এই নতুন রণকৌশল। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, নওদা কেন্দ্রে শাসকদলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের অভিযোগকেই কাজে লাগাতে চাইছেন তিনি। ওই কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী করেছেন বিদায়ী বিধায়ক সাহিনা মমতাজ খান-কে। তাঁকে চ্যালেঞ্জ জানাতেই প্রস্তুতি নিচ্ছেন হুমায়ুন।

স্থানীয় সূত্রে খবর, নওদা আসনে আবার বিদায়ী বিধায়ক সাহিনা মমতাজ খানকে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। সেই আসনে সাহিনাকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে কোমর বাঁধছেন তৃণমূলের নিলম্বিত নেতা হুমায়ুন। কেউ কেউ মনে করছেন, নওদায় তৃণমূলের ‘গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের’ যে অভিযোগ রয়েছে, তা থেকে ফায়দা তুলতে এই পদক্ষেপ হুমায়ুনের।  বিক্ষুব্ধদের নিজের দিকে টানার চেষ্টা করছেন হুমায়ুন। তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলে দাবি, তৃণমূলের টিকিট না-পাওয়া একাধিক নেতার অনুগামীরা ইতিমধ্যেই তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।

হুমায়ুনের কথায়, “তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াই জোরদার করতেই নতুন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিক্ষুব্ধদের বড় অংশ আমাদের পাশে আসতে পারে।”

উল্লেখ্য, এর আগে মহম্মদ সেলিম-এর সঙ্গে বৈঠক করে বামেদের সঙ্গে জোটের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন হুমায়ুন। যদিও সেই আলোচনা শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি। পরে আসাদউদ্দিন ওয়েইসি-র দল মিমের রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গেও বৈঠক করেন তিনি, কিন্তু সেই সম্ভাবনাও বাস্তবায়িত হয়নি।

২২ মার্চ পূর্ণাঙ্গ প্রার্থী তালিকা ঘোষণার কথা জানিয়েছেন হুমায়ুন। এখন দেখার, শাসকদলের ‘বিক্ষুব্ধ’ অংশের কতটা সমর্থন তিনি নিজের দিকে টানতে পারেন।