জ্বালানি সঙ্কটে পিএনজি-তে জোর কেন্দ্রের

যেখানে পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহের সুযোগ রয়েছে, সেখানে প্রত্যেক গৃহস্থকে বাধ্যতামূলকভাবে পাইপড ন্যাচরাল গ্যাস (PNG) সংযোগ নিতে হবে বলে নির্দেশ ।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধজনিত জ্বালানি সঙ্কটের আবহে বড় সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় সরকার। যেখানে পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহের সুযোগ রয়েছে, সেখানে প্রত্যেক গৃহস্থকে বাধ্যতামূলকভাবে পাইপড ন্যাচরাল গ্যাস (PNG) সংযোগ নিতে হবে বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পাইপলাইন সংযোগ না নিলে ওই ঠিকানায় আর LPG সিলিন্ডার সরবরাহ করা হবে না।

কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তে দেশের গৃহস্থের রান্নার ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসতে চলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই জানানো হয়েছে, যাঁদের বাড়িতে PNG ও LPG—দু’ধরনের সংযোগই রয়েছে, তাঁদের LPG সংযোগ ছেড়ে দিতে হবে। ভবিষ্যতে পাইপলাইন সুবিধা থাকা এলাকায় নতুন করে LPG সংযোগের আবেদনও করা যাবে না।

সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী, কোনও এলাকায় পাইপলাইন গ্যাস পরিষেবা চালু হলে, সেই বিজ্ঞপ্তি জারির তিন মাসের মধ্যেই গ্রাহককে PNG সংযোগ নিতে হবে। অন্যথায় LPG সংযোগ বাতিল হয়ে যেতে পারে। শুধু যেসব এলাকায় এখনও পাইপলাইন পৌঁছয়নি, সেখানেই LPG সরবরাহ চালু থাকবে। তবে সেক্ষেত্রেও গ্রাহকদের সাপ্লায়ারের কাছ থেকে ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ নিতে হবে।

কেন্দ্রের পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক জানিয়েছে, এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির জোগান ও দাম—দুটোই অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে। সেই পরিস্থিতিতে বিকল্প ও নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তুলতেই PNG ব্যবহারে জোর দেওয়া হচ্ছে।

পাইপলাইনের মাধ্যমে সরাসরি বাড়িতে গ্যাস পৌঁছনোর ফলে একদিকে যেমন সিলিন্ডার বুকিং বা রিফিলের ঝামেলা কমবে, তেমনই একাধিক উৎস থেকে গ্যাস সরবরাহের সুযোগও তৈরি হবে। এতে দীর্ঘমেয়াদে সরবরাহ ব্যবস্থা আরও স্থিতিশীল হবে বলে মনে করছে কেন্দ্র।

পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রেও একাধিক নির্দেশ জারি করা হয়েছে। আবাসনে পাইপলাইন বসানোর জন্য আবেদন জমা পড়ার তিন কর্মদিবসের মধ্যে অনুমোদন দিতে হবে। কোনও আবেদন অকারণে বাতিল করা যাবে না। অনুমোদন পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে চার মাসের মধ্যে পাইপলাইন বসানোর কাজ শুরু করতে হবে। নির্ধারিত সময়সীমা না মানলে জরিমানা করা হবে এবং সংস্থার একচেটিয়া অধিকারও বাতিল হতে পারে।

এছাড়া গ্রাহকদের কাছ থেকে নির্ধারিত মূল্যের বাইরে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া যাবে না বলেও স্পষ্ট করে দিয়েছে সরকার।

তৈল সচিব নীরজ মিত্তল জানিয়েছেন, বর্তমান সঙ্কটকেই সুযোগে পরিণত করতে চাইছে কেন্দ্র। অর্থাৎ, জ্বালানি ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, নির্ভরযোগ্য এবং বহুমুখী করে তুলতেই এই রূপান্তরের পথে হাঁটছে সরকার।