ভবিষ্য়ত যুদ্ধের বড় পদক্ষেপ

বিদেশি শত্রুর হামলা থেকে নিজেদের রক্ষা করতে এবার একটি একটি সমন্বিত রকেট বাহিনী বা IRF প্রতিষ্ঠার পথে হাঁটতে চলেছে ভারত।

শ্রেয়সী বল, সাংবাদিক : পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে যখন উদ্বিগ্ন বিশ্বের অধিকাংশ দেশ। সেখানে সাময়িক কিছু বিষয় ছাড়া সেভাবে চিন্তার কোন রেশ দেখা যাচ্ছে না ভারতের। এটা সত্যি হরমুজ প্রণালী নিয়ে অনিশ্চয়তার জেরে দেশের জ্বালানিতে ব্যপক প্রভাব পড়েছিল।তবে যুদ্ধ সংক্রান্ত বিষয়ে কোথাও গিয়ে নিজেদের অনেকটাই শক্তিশালি করে তুলেছে ভারত। বিদেশি শত্রুর হামলা থেকে নিজেদের রক্ষা করতে এবার একটি একটি সমন্বিত রকেট বাহিনী বা IRF প্রতিষ্ঠার পথে হাঁটতে চলেছে ভারত।

এবার আস যাক ভবিষ্যত যুদ্ধের জন্য ভারতের এই সামরিক ভাবনা সম্পর্কে। IRF অর্থাৎ ‘ইন্টিগ্রেটেড রকেট ফোর্স’। এই বিশেষ বাহিনী দূরপাল্লার ক্ষেপনাস্ত্র ও রকেটের মাধ্যমে নির্ভুল হামলায় দক্ষ হবে।আইআরএফ হবে এক বিশেষধরনের সামরিক শাখা, যা শুধুমাত্র প্রচলিত ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং দূরপাল্লার রকেট ব্যবস্থা ব্যবহার করে শত্রু ভূখণ্ডের গভীরে নিখুঁত হামলা চালানোর জন্য গঠিত হয়েছে। রাশিয়া-ইউক্রেন এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ প্রমাণ করেছে যে ক্ষেপণাস্ত্রই এখন যুদ্ধের প্রধান অস্ত্র হয়ে উঠেছে।

দামী যুদ্ধবিমানগুলো উন্নত বায়ু প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কাছে ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে। বর্তমান সময়ের যুদ্ধে দূরপাল্লার ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সবচেয়ে কার্যকর বিকল্প হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। সুতরাং, পারমাণবিক অস্ত্রের সীমা অতিক্রম না করেই শক্তিশালী জবাব দেওয়ার জন্য আইআরএফ ভারতের একটি প্রকৌশলী পথ, যা সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর মতো বিভিন্ন বাহিনীর জন্য উপযোগী হবে।প্রসঙ্গত,এই বিশেষ বাহিনী গঠনের ধারণাটি প্রয়াত চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ (CDS) জেনারেল বিপিন রাওয়াত প্রথম প্রস্তাব করেছিলেন।

এবার আসা যাক আইআরএফ কী কী অস্ত্রে সজ্জিত হবে?

১. ব্রহ্মোস ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র

সুপারসনিক ব্রহ্মোস হবে আইআরএফ-এর মেরুদণ্ড।
উন্নত সংস্করণ: ৮০০ কিমি পাল্লা
ডিআরডিও-র ১০০০ কিমি পাল্লার দেশীয় ক্রুজ মিসাইল ।
২. ব্যালিস্টিক প্রলয় ক্ষেপণাস্ত্র
৪০০-৫০০ কিমি পাল্লা, মাঝ-আকাশে দিক পরিবর্তনের ক্ষমতা রয়েছে।
১৫০০ কিমি পাল্লা, শত্রু বিমানঘাঁটি এবং কমান্ড সেন্টারে আঘাত হানে

৩. পিনাকা রকেট সিস্টেম
বর্তমান পাল্লা: ৭৫-১২০ কিমি
উন্নয়নের পর: ৩০০-৪৫০ কিমি
জটিল থেকে জটিলতর আক্রমণের জন্য ব্যবহৃত হয়

৪. হাইপারসনিক অস্ত্র
ডিআরডিও ১৫০০ কিমির বেশি পাল্লার হাইপারসনিক মিসাইল পরীক্ষা করছে
প্রজেক্ট বিষ্ণু-র দ্রুত উন্নয়ন অব্যাহত রয়েছে
প্রজেক্ট কুশা-র দ্রুত উন্নয়ন ও পরীক্ষা চলছে
ম্যাক ৫+ গতি, প্রতিরোধ করা অত্যন্ত কঠিন

এই বিশেষ বাহিনী ‘নন-কন্টাক্ট ওয়ারফেয়ার’ বা সরাসরি মুখোমুখি যুদ্ধ এড়িয়ে দূর থেকে আঘাত হানার সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে এবং যুদ্ধের খরচ কমাবে। সেই সঙ্গে এটি সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী এবং নৌবাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্র সম্পদকে একটি একক কাঠামোর অধীনে নিয়ে আসবে, যা যুদ্ধের সময় দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে।এই বাহিনী ভারতের “ডিটারেন্স বাই ডিনায়াল” বা বাধা দেওয়ার মাধ্যমে প্রতিরোধ ক্ষমতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে তুলবে। মুলত চীনা আগ্রাসন ও পাক হামলা প্রতিরোধে IRF প্রতিষ্ঠার কথা ভাবা হলেও, বর্তমানে পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির ঝাঁঝ যেভাবে বেড়ে চলেছে, সেক্ষত্রে ইন্টিগ্রেটেড রকেট ফোর্সের ভাবনা যথোপযুক্ত।