কমিশন ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ঝাঁঝালো আক্রমণ মুখ্যমন্ত্রীর

 ‘‘ভোটের সময় ওরা বিজেপি হয়ে যায়। ‘গুন্ডা’ ঢুকছে কি না, সে দিকে নজর রাখতে হবে। এমনকি, কেন্দ্রীয় বাহিনী পুলিশের পোশাক পরে ‘ছাপ্পা’ দিতে এলে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।’’

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : রঘুনাথপুরের ইনানপুর ফুটবল মাঠের জনসভা থেকে ফের কেন্দ্রীয় বাহিনী ও বিজেপিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee). তার আগেই নকশালবাড়ির সভায় তাঁর মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। সেই প্রেক্ষিতে ইতিমধ্যেই রিপোর্ট তলব করেছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India).

নির্বাচন কমিশনের অভিযোগ, নকশালবাড়ির সভায় মুখ্যমন্ত্রী মহিলাদের ভোটকেন্দ্রে সক্রিয় থাকার পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতিতে রান্নাঘরের সরঞ্জাম ব্যবহার করার কথা বলেছেন। কমিশনের আশঙ্কা, এ ধরনের মন্তব্যে গ্রামীণ এলাকায় অশান্তি ছড়াতে পারে। সেই কারণেই রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে। কিন্তু সেসবের পরোয়া না করে শনিবার পুরুলিয়ার রঘুনাথপুরে সভা থেকে আবারও বিতর্কিত মন্তব্য করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্রীয় বাহিনীকে নিশানা করে নেত্রীর অভিযোগ, ‘‘ভোটের সময় ওরা বিজেপি হয়ে যায়।’’ তিনি কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, বাইরের ‘গুন্ডা’ ঢুকছে কি না, সে দিকে নজর রাখতে হবে। এমনকি, কেন্দ্রীয় বাহিনী পুলিশের পোশাক পরে ‘ছাপ্পা’ দিতে এলে প্রতিরোধ গড়ে তোলার বার্তাও দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

তৃণমূল সুপ্রিমো স্পষ্ট ভাষায় জানান, ‘‘মা-বোনেদের দায়িত্ব দিন। ভোটের দিন থেকে গণনা পর্যন্ত বুথে নজর রাখতে হবে। পাখা নিয়ে যাবেন, বেলন নিয়ে যাবেন। যে রাঁধে, সে চুলও বাঁধে।’’

বিজেপিকে আক্রমণ শানাতে গিয়ে মহাভারতের উপমাও টানেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, ‘‘তৃণমূল পাণ্ডব, আর বিজেপি কৌরবদের দল। বিজেপি বাংলাকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। বাংলাকে তুলে দিতে চায় ওরা। তাই একটা ভোটও তৃণমূল ছাড়া অন্য কাউকে নয়।’’

শনিবার রঘুনাথপুরের সভায় এসআইআর সংক্রান্ত ইস্যুতেও সরব হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, নাম বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে মহিলাদের বেছে বেছে টার্গেট করা হয়েছে।

নেত্রী বলেন ‘‘বিয়ের পর পদবি বদলায়, সেই কারণে অনেকের নাম বাদ পড়েছে।’’

মুসলিম মহিলাদের নামও ঢেলে বাদ দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্রের নীতিকেও এ দিন তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন তিনি। রেলের ভাড়া বৃদ্ধি থেকে শুরু করে আধার, নোটবন্দি—সব প্রসঙ্গেই সরব হন নেত্রী। তাঁর কথায়, ‘‘আমি রেলমন্ত্রী থাকাকালীন ভাড়া বাড়াইনি। আর এখন আমার দূরন্ত কেটে বন্দে ভারত করল। এদিকে খাবারে টিকটিকি ঘুরছে।  টাকা নিচ্ছে আর দেশ বেচে দিচ্ছে।’’

সব মিলিয়ে ভোটের মুখে রঘুনাথপুরের সভা থেকে বেশ আক্রমণাত্মক মেজাজেই বার্তা দিলেন তৃণমূলনেত্রী। কমিশনের নজরদারির মধ্যেও তাঁর এই অবস্থান রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিল।