অসহায় দুর্গা রায় এসআইআর, ভোটার লিস্ট.. অতসব বোঝেন না। আগে বেশ কয়েকবার নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। কিন্তু এবার যে নামই নেই।
ছোটন সেনগুপ্ত, নিজস্ব সংবাদদাতা : দুর্গার আজ করুণ দশা। দুর্গা আজ নিরুপায়- অসহায়। কী করবেন বুঝতে পারছেন না। না …. ইনি মা দুর্গা নন। ইনি হলেন পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গা। মানে দুর্গা রায়। কেন তাঁর করুণ দশা ? এসআইআর তালিকার সঙ্গে কীভাবে জড়িত তাঁর দুঃখ? কেন তাঁর আজ শুধুমাত্র চোখের জল ছাড়া আর কিছু করার নেই।

পশ্চিম বর্ধমানের বারাবনি বিধানসভা কেন্দ্রের সীমান্তপল্লী এলাকার ঘটনা। সম্প্রতি এসআইআর এর তালিকা বেরোতেই বৃদ্ধা দুর্গা রায় জানতে পারেন তাঁর নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। স্বামী মারা গেছেন বহু বছর আগেই। দু মেয়েরও বিয়ে হয়ে গিয়েছে। একমাত্র ছেলে, তাঁকে ও কেড়ে নিয়েছে মৃত্যু। অসহায় দুর্গা রায় এসআইআর, ভোটার লিস্ট.. অতসব বোঝেন না। আগে বেশ কয়েকবার নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। কিন্তু এবার যে নামই নেই। কী করবেন, কোথায় যাবেন, কার কাছে গেলে এই সমস্যার সমাধান হবে তা অজানা। চারিদিকে গুজব, ভোটার তালিকায় নাম না থাকলে দেশ ছাড়া হতে পারে। এই গুজব গিয়ে পৌঁছেছে দুর্গা রায়ের কানেও। তিনি ভীত, সন্ত্রস্ত।
একাকী দিনগুজরান তো কোনও মতে হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু প্রশাসনিক অফিসে দৌড়ঝাঁপ কে করবে? কে আছে দুর্গা রায়ের? উত্তর টা তিনি একা। একাই এই বয়সে এসেও জীবনযুদ্ধে লড়াই করে চলেছেন। তাহলে নির্বাচনী কাজে যাঁদের দায়িত্ব দেওয়া হলো বিএলও। তাঁরা কি জানেই না এই বৃদ্ধার অসহায়তার কথা। উত্তর কিন্তু না। তাই দিগভ্রান্ত হয়ে কী করবেন, ভেবে না পেয়ে কুঁজো হয়েই ছুটলেন পাড়ায় নির্বাচনী প্রচারে আসা তৃণমূল প্রার্থী বিধান উপাধ্যায়ের কাছে। দুর্গা রায় জানিয়েছেন, কাগজ বলতে তাঁর আছে এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জের একটা কার্ড মাত্র। ২০২৪ এর লোকসভা ভোট দিয়েছিলেন দুর্গা দেবী। ২০০২ সালের এসআইআর তালিকায় নামও ছিল তাঁর। সম্প্রতি ভোটার তালিকা সংশোধনীর জন্য হিয়ারিং এ উপস্থিত থাকলেও ভোটার কার্ড, আধার কার্ড দেখাতে পারেননি তিনি। তাই কি ভোটার তালিকা থেকে বাদ দুর্গা দেবীর নাম?
দুর্গা দেবীর এই অসহায়তার কথা শুনে তাঁকে নির্বাচনী প্রচারের মাঝেই আশ্বস্ত করেন বিধান উপাধ্যায়। ঘটনাস্থলেই তিনি ব্লকের তৃণমূল নেতৃত্বদের নির্দেশ দেন যাতে ওই একাকী বৃদ্ধার নাম পুনরায় ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা যায় তা নিশ্চিত করতে। দুর্গা দেবীর হাত ধরে ভয়ের কিছু নেই বলেও আশ্বাস দিয়েছেন বিধান উপাধ্যায়।
দুর্গা রায় আগেও ভোট দিয়েছেন। তাঁর ভোটে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিতও হয়েছেন। কিন্তু বয়সের ভারে স্মৃতিশক্তিতে চাপ দিয়ে মনে করতে পারছেন তাঁর বেঁচে থাকার উপযুক্ত প্রমাণপত্র কোথায় রয়েছে। নির্বাচন কমিশন দুর্গা দেবীর মতো বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের জন্য কী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে, আদৌ কী এর কোনও সুরাহা হবে, তার উত্তর দেবে সময়।