কুড়মি সমাজ ভারত ও নেপালের একটি প্রাচীন কৃষিভিত্তিক জাতিগোষ্ঠী। যারা মূলত পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড, বিহার ও ওড়িশায় বসবাস করে।

গৌতম প্রামাণিক, নিজস্ব সংবাদদাতা : ২০২৬-র ভোটে কুড়মি সমাজ কোন দিকে? শাসকের আসনে কাকে চাইছে তাঁরা? শুধু ভোটের আগে নয়, সুখে দুখে কাকে পাশে পেয়েছেন তাঁরা? পড়াশোনা থেকে রাস্তাঘাট। আদৌ কি আগের থেকে উন্নতি হয়েছে ? নাকি সেই পড়ে রয়েছে আগের অবস্থানে? কী বলছে কুড়মি সমাজ ? ২০২৬-র ভোটে কার দিকে ঝুঁকে কুড়মিরা। জঙ্গলমহলে কে হাসবে শেষ হাসি ?
কুড়মি সমাজ ভারত ও নেপালের একটি প্রাচীন কৃষিভিত্তিক জাতিগোষ্ঠী। যারা মূলত পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড, বিহার ও ওড়িশায় বসবাস করে। আদিবাসী হিসাবে স্বীকৃতির দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে লড়াই আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে এ রাজ্যের কুড়মি সম্প্রদায়ের বড় অংশ। তাঁদের দাবি ১৯৩১ সালের জনগণনা পর্যন্ত তাঁদের প্রিমিটিভ ট্রাইব হিসাবে উল্লেখ করা হলেও স্বাধীনতার পর স্বীকৃতি চলে যায়।
কুড়মিদের ৭ সংগঠন
আদিবাসী কুড়মি সমাজ
ছোটনাগপুর আদিবাসী কুড়মি সমাজ
পুর্বাঞ্চল আদিবাসী কুড়মি সমাজ
কুড়মি সেনা
পশ্চিমবঙ্গ কুড়মি সমাজ
নেগাচারি কুড়মি সমাজ
জনজাতি কুড়মি সমাজ
এই সংগঠনগুলির মধ্যে একসময়ে জঙ্গলমহলের ৪ জেলা পুরুলিয়া , বাঁকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রামে আদিবাসী কুড়মি সমাজের সংগঠন ছিল সবচেয়ে বেশি মজবুত। কিন্তু এই সংগঠন ভেঙে ছোটনাগপুর আদিবাসী কুড়মি সমাজ তৈরি হয়ে যাওয়ায় কয়েকদিনের মধ্যেই এই সংগঠন জঙ্গলমহলে সাড়া ফেলে। পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম ও মেদিনীপুর সহ এই রাজ্যের বিস্তীর্ণ জঙ্গলমহলে বেশি সংখ্যক কুড়মি সম্প্রদায়ের বসবাস। তপশিলি উপজাতি তালিকায় অন্তর্ভুক্তির দাবিতে আন্দোলন ত্বরান্বিত হয়েছে।২০২৬-এ বিধানসভা ভোটের ঢক্কা বেজে গিয়েছে। পুরুলিয়া জেলায় ৩২ শতাংশ কুড়মি সম্প্রদায়ের। গত বিধানসভায় পুরুলিয়ার ৯টি আসনের মধ্যে ৩টি তে জয়লাভ করে তৃণমূল। বাকি ৬টা তেই জয়লাভ করে বিজেপি। সংযুক্ত মোর্চা ও অন্যান্যরা খাতাই খুলতে পারেনি। সব রাজনৈতিক দলই পুরুলিয়ায় সংরক্ষিত আসন বাদে কুড়মি সম্প্রদায়ের প্রার্থী দিয়েছে। পুরুলিয়ার অন্যতম বিধানসভা কেন্দ্র বাগমুণ্ডি। ২০২১ -এ এই কেন্দ্রে ১৩ হাজার ৯৬৯ ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করে তৃণমূল। এবারে সব দলই প্রার্থী বেচেছে কুড়মি সমাজ থেকে। এর পাশাপাশি অন্যতম আরও দুই কেন্দ্র জয়পুর ও মানবাজার কেন্দ্র থেকেও সব রাজনৈতিক দল প্রার্থী বেচেছে কুড়মি সমাজ থেকে।

বাগমুণ্ডি বিধানসভা কেন্দ্র
তৃণমূল- সুশান্ত মাহাতো
বিজেপি- রহিদাস মাহাতো
কংগ্রেস- নেপালচন্দ্র মাহাতো
জয়পুর বিধানসভা কেন্দ্র
তৃণমূল- অর্জুন মাহাতো
বিজেপি- বিশ্বজিৎ মাহাতো
কংগ্রেস- ফণিভূষণ কুমার
মানবাজার বিধানসভা কেন্দ্র
তৃণমূল- সন্ধ্যারানি টুডু
বিজেপি- ময়না মুর্মু
কংগ্রেস- সোমবারি মাহালি
সবাই চাইছে ঘোলা জলে মাছ ধরতে। তাহলে এবার কোন দলকে বেছে নেবে গোটা সমাজ। কুড়মি জনজাতিদের সংগঠনগুলো কি এবারের ভোটে নির্ণায়ক? সেটাই এখন দেখার।
এবারে লড়াই হবে হাড্ডাহাডিড। শেয়ানে শেয়ানে। কোনও একদিকে তাঁরা ঝুঁকে নেই। রাজনৈতিক আঙিনা থেকে বেরিয়ে একেবারে সাধারণ মানুষের বক্তব্যেই উঠে এল এবারের লড়াই হবে সমানে সমানে।
গত বছরের ৮ অক্টোবর পুলিশ সন্ত্রাস বিরোধী সভায় আদিবাসী কুড়মি সমাজের মুখ্য উপদেষ্টা অজিতপ্রসাদ মাহাতো তৃণমূলকে একটিও ভোট না দেওয়ার ডাক দেন। আর তারপর থেকে আদিবাসী কুড়মি সমাজে ভাঙন শুরু হয়। যদিও ছোটনাগপুর আদিবাসী কুড়মি সমাজ গঠন হওয়ার পর আদিবাসী কুড়মি সমাজের মুখ্য উপদেষ্টা জানিয়েছিলেন, জাতিসত্তার আন্দোলনে যে সংগঠনগুলি কাজ করছে, তাদের এক ছাতার তলায় আসতে হবে। ছোটনাগপুর আদিবাসী কুড়মি সমাজ মনে করছে আদিবাসী তালিকাভুক্তের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে চলা আন্দোলন একই জায়গায় দাঁড়িয়ে রয়েছে। এখনও পর্যন্ত কিছু ফলপ্রসূ হয়নি। তাহলে একদিকে তাঁদের একাধিক দাবি নিয়ে দীর্ঘদিনের লড়াই। তার মধ্যে কিছু পূরণ হয়েছে, আবার কিছু এখনও অপূরণই হয়ে রয়েছে। অন্যদিকে সামনে নির্বাচন। এই অবস্থায় জঙ্গলমহল কী বলছে, তার উপর অনেকটাই নির্ভর করবে ২০২৬-র নির্বাচনের ফলাফল।