গত কয়েকদিন ধরেই একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। দেখা গেছে এই মোফাক্কারুল ইসলাম বিশাল জমায়েতের সামনে গাড়ির উপর দাঁড়িয়ে উস্কানিমূলক মন্তব্য করছেন।

স্বাগতা চন্দ্র সাহা, সাংবাদিক: এসআইআর আবহে মালদার কালিয়াচক এখন খবরের শিরনামে। এসআইআর প্রক্রিয়ায় নিযুক্ত বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের দীর্ঘ ৯ ঘন্টা আটক রাখার ঘটনা নজিরবিহীন। যা নিয়ে বিরক্তিপ্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্টও। অবশেষে গ্রেফতার এই ঘটনার মাস্টারমাইন্ড মোফাক্কারুল ইসলাম। কে এই মোফাক্কারুল ইসলাম। কী তার পরিচয়। গত কয়েকদিন ধরেই একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। যেখানে দেখা গেছে এই মোফাক্কারুল ইসলাম বিশাল জমায়েতের সামনে গাড়ির উপর দাঁড়িয়ে উস্কানিমূলক মন্তব্য করছেন। মানুষকে উস্কানোর চেষ্টা করছেন।
এই ভিডিও ভাইরাল হতেই তাঁর খোঁজ শুরু করে পুলিশ। অবশেষে পুলিশের জালে মোফাক্কারুল। কে এই মোফাক্কারুল? পেশায় আইনজীবী। মোফাক্কারুল ২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনে ইটাহার কেন্দ্র থেকে মিম প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। অভিযোগ, গত বুধবার কালিয়াচক-২ ব্লকের বিডিও অফিসের সামনে সংগঠিত বিশাল বিক্ষোভের নেপথ্যে মূল মাস্টারমাইন্ড ছিলেন তিনিই। তাঁর উস্কানিতেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং বিক্ষোভকারীরা বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের ঘেরাও করে ফেলে। তাঁদের উপর হামলাও চলে। আন্দোলনকারীরা কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করতে চাইলেও সেই অনুমতি না মেলায় বিকেল ৪টে নাগাদ ঘেরাও-অবরোধ শুরু হয়। এই ঘটনায় তিন জন মহিলা কর্মকর্তা-সহ মোট সাত জন বিচার বিভাগীয় আধিকারিককে টানা ৯ ঘণ্টারও বেশি সময় কার্যত বন্দী হয়ে থাকেন। চরম উৎকণ্ঠার বিষয় ছিল যে, এক মহিলা কর্মকর্তার সঙ্গে থাকা তাঁর পাঁচ বছর বয়সী শিশুও সেই সময়অফিসের ভেতরে আটকে পড়েছিল। বাগডোগরা থেকে মোফাক্কারুলের এই গ্রেফতারি মালদহ কাণ্ডের তদন্তে পুলিশের বড় সাফল্য বলে মনে করা হচ্ছে। বর্তমানে তাঁকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রক্রিয়া শুরু করেছে প্রশাসন। শুক্রবার বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে পালানোর সময় পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের পরেই আরও একটি ভিডিও বার্তা ভেসে ওঠে সোশ্যালমাধ্যমে। যেখানে মোফাক্কারুল ইসলামকে বলতে শোনা যায়…তিনি নাকি শুধু প্রতিবাদ করায় গ্রেফতার। পরে অবশ্য ওই ভিডিও সোশ্যালমাধ্যম থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।

মালদার মোথাবাড়ির ঘটনায় ১৯ টি মামলা রুজু করা হয়েছে। এখনো পর্যন্ত ৩৫ জনকে অ্যারেস্ট করা হয়েছে। মুফাক্কারুলের বেঙ্গালুরু যাওয়ার কথা ছিল। দেরিতে গ্রেফতার নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। পুলিশের কোন গাফিলতি ছিল না ঘটনার তদন্ত হচ্ছে।। মালদার মোথাবাড়ি থানায় সাংবাদিক বৈঠক করে জানালেন এ ডি জি কে জয়রামন।
মালদহে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ চলাকালীন মহিলাসহ সাতজন বিচার বিভাগীয় আধিকারিককে গ্রামবাসীর হাতে বন্দি হওয়ার ঘটনায় নজিরবিহীন কড়া অবস্থান নিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত। বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই ঘটনাকে বিচার ব্যবস্থার ওপর একটি ‘নির্লজ্জ হামলা’ বলে মন্তব্য করেছেন। সুপ্রিম কোর্ট সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, বিচারকদের ওপর মনস্তাত্ত্বিক হামলা চালিয়ে আইনের শাসনকে বুড়ো আঙুল দেখানো, কাউকেই বরদাস্ত করা হবে না এবং প্রয়োজনে একে ‘ক্রিমিনাল কনটেম্পট’ বা ফৌজদারি আদালত অবমাননা হিসেবে গণ্য করা হবে। এই ঘটনায় শুরু হয়েছে এনআইএ তদন্ত।
ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় মুখ্যসচিব এবং ডিজিপি-সহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের শোকজ নোটিস পাঠিয়েছে আদালত এবং আগামী ৬ এপ্রিল তাঁদের ভার্চুয়ালি হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভোটের আবহে এভাবে মালদার মোথাবাড়ির এই ঘটনা মোড় নিচ্ছে অন্যদিকে। এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সব রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা।
একদিকে নির্বাচন অন্যদিকে এসআইআর নিয়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতি। এলাকায় বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা। মহিলা কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন ব্লক দফতরে। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া সত্যিই আতঙ্কের। কিন্তু এভাবে উত্তেজনা ছড়ানো ও আইন হাতে তুলে নেওয়া ঠিক তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।