“কেন্দ্রীয় বাহিনী গ্রামে গ্রামে ভোট আটকানোর চেষ্টা করবে। ইভিএম কেন্দ্রীয় খারাপ হলে ভোট করতে দেবেন না। বলবেন, নতুন আনুন।”

মাম্পি রায়, সাংবাদিক: বিজেপি কমিশন আঁতাতের অভিযোগ তুলে আগেই নোটিস পেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু তারপরেও নেত্রীকে দমানো যায়নি। আবারও একইরূপে সরব মুখ্যমন্ত্রী। মালদার মানিকচকের সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, “আমরা থাকতে কারোর গায়ে হাত পড়বে না। মা শীতলার ঝাড়ু রয়েছে। জগন্নাথ ধামের ঝাড়ু আমার টাকা দিয়ে কিনে দিয়েছি। বাড়িতে ঝাড়ু আছে তো, কে আটকারে রাস্তা পরিস্কার করুন। গণতন্ত্রের রাস্তা পরিস্কার হয়ে যাবে।”
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “কেন্দ্রীয় বাহিনী গ্রামে গ্রামে ভোট আটকানোর চেষ্টা করবে। ইভিএম কেন্দ্রীয় খারাপ হলে ভোট করতে দেবেন না। বলবেন, নতুন আনুন। গণনার ৪দিন যদি লোডশেডিং করে, মা বোনেরা রাত জেগে পাহারা দিন। নেতারা নয়, তৃণমূলের কর্মীরাই সম্পদ। রাত জেগে কাজ করতে হবে।”
মুখ্যমন্ত্রীর কটাক্ষ, “ইডি সিবিআই মোটাভাই। সব মানুষের নাম কাটাই ওদের কাজ। কেন্দ্ীয় বাহিনী দিয়ে ভোটারদের আটকানোর চেষ্টা করবে ওরা।”
বিজেপিকে বাঙালিবিরোধী বোঝাতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, “ওরা বলে মাছ খাবে না। নিজেরা ছানা খাবে। গরিব মানুষ মাছ খায়, সেটা সহ্য করতে পারে না। বাংলায় কথা বললে উত্তরপ্রদেশ বা মধ্যপ্রদেশে মারধর করে। ভোটের জন্য পরিযায়ী শ্রমিকরা আসতে চেয়েছিল, তাদেরকেও আসতে দেওয়া হচ্ছে না। ট্রেনের টিকিট দিচ্ছে না। উত্তরপ্রদেশে বাস আটকে দেওয়া হচ্ছে। রমজান,দুর্গাপুজোয় যেমন এসেছেন, ওইভাবেই চলে আসুন। আপনার অধিকার কাউকে দেবেন না।”
মালদার সভা থেকে কেন্দ্রীয় সরকার এবং বিজেপিকে একাধিক ইস্যুতে নিশানা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, নির্দোষ মানুষদের গ্রেফতার করা হচ্ছে এবং রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে। তারপরই মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন, ‘‘যারা দোষ করেছে, তাদের ধরছ না কেন? নির্দোষদের গ্রেফতার করছ কেন? ইডি, সিবিআই, এনআইএ-সহ কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি ‘মোটাভাইয়ের’ নির্দেশে কাজ করছে।’’
ভোটের আবহে মুখ্যমন্ত্রীর সতর্কবার্তা- ‘‘অশান্তির মধ্যে যাবেন না। এলাকা থেকে ৪০ জন ছেলেকে তুলে নেবে। যেটা মালদহে করেছে। যারা দোষ করেছে, তাদের গ্রেফতার করেনি। অথচ নির্দোষদের গ্রেফতার করছে। ইডি, সিবিআই, এনআইএ, বিএসএফ, বর্ডার কার হাতে? মোটাভাইয়ের হাতে! তুমি তৃণমূলকে চোর বলো। বর্ডার থেকে টাকা কোথায় যায় মোটাভাই? তখন কি মুখে লিউকোপ্লাস্ট লাগিয়ে বসে থাকো!’’

ভোটের আগে বিরোধীদের ‘ভয় দেখানোর রাজনীতি’ চলছে বলেও দাবি করেন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর কথায়, ‘‘এলাকা থেকে ছেলেদের তুলে নেওয়া হচ্ছে। প্রতিবাদ করার অধিকারও কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।’’ একই সঙ্গে বিজেপির বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি জানান, লক্ষ লক্ষ ‘জেনুইন ভোটার’-এর নাম কেটে দেওয়া হয়েছে। যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁদের দ্রুত আবেদন করার আহ্বান জানান নেত্রী।
একইসঙ্গে কংগ্রেসকেও ছেড়ে কথা বলেননি মমতা। তাঁর অভিযোগ, ‘‘কংগ্রেসকে অনেকবার বলেছি চলো কমিশনে গিয়ে প্রতিবাদ করি। তখন যায়নি। মানুষের বিপদের সময় পাশে থাকে না। এদিকে ভোটের সময় প্রার্থী দেয়’’
সব মিলিয়ে, ভোটের মুখে কেন্দ্রীয় সংস্থার ভূমিকা, ভোটার তালিকা, ধর্ম এবং পরিযায়ী শ্রমিক— একাধিক ইস্যুতে আক্রমণ শানিয়ে রাজনৈতিক লড়াইকে আরও তীব্র করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।