মার্কিন সময় মঙ্গলবার রাত ৮টার মধ্যে হরমুজ় প্রণালীর অবরোধ না তুললে ভয়াবহ সামরিক পদক্ষেপ নেবে আমেরিকা।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও ইজরায়েলের সংঘাতের জেরে উত্তেজনা চরমে উঠেছে মধ্যপ্রাচ্যে। ইতিমধ্যে হরমুজ় প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্বজুড়ে তেল সংকটের মুখে পড়েছে বিভিন্ন দেশ। হু হু করে বাড়ছে জ্বালানির দাম। এরইমধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র রূপ নিচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) ফের কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়ে দিলেন, মঙ্গলবার রাত ৮টার (মার্কিন সময়) মধ্যে হরমুজ় প্রণালীর অবরোধ না তুললে ভয়াবহ সামরিক পদক্ষেপ নেবে আমেরিকা। ভারতীয় সময় অনুযায়ী, এই সময়সীমা বুধবার সকাল সাড়ে ৬টা পর্যন্ত।
রবিবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডলে পোস্ট করে ট্রাম্প দাবি করেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ইরান অবস্থান না বদলালে তাদের বিদ্যুৎকেন্দ্র, সেতু-সহ গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোয় নজিরবিহীন হামলা চালানো হবে। তাঁর কথায়, “এমন আক্রমণ আগে কেউ দেখেনি।” পরবর্তীকালে ফক্স নিউজকে (Fox News) দেওয়া সাক্ষাৎকারে আরও একধাপ এগিয়ে তিনি বলেন, “ইরান দ্রুত বোঝাপড়ায় না এলে সব ধ্বংস করে তেলের দখল নেব।”
যদিও ট্রাম্পের এই হুমকিকে কার্যত উড়িয়ে দিয়েছে ইরান (Iran)। তেহরানের সেন্ট্রাল মিলিটারি কমান্ডের জেনারেল আলিয়াবাদি কটাক্ষ করে বলেন, “এই মন্তব্যই প্রমাণ করে তিনি অসহায়, ভীত এবং ভারসাম্যহীন।” একই সুরে ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ইব্রাহিম জ়োলফাঘারি সতর্ক করেছেন, সংঘাত বাড়লে গোটা পশ্চিম এশিয়াই অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠবে এবং মার্কিন স্বার্থে সরাসরি আঘাত হানা হবে।
এই পরিস্থিতিতে সংঘাত থামার কোনও লক্ষণ আপাতত নেই। রবিবারও ইরানের তরফে কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং বাহরিনের বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার অভিযোগ উঠেছে। তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তাদের দেশে অসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা হলে পাল্টা জবাব আরও কঠোর হবে।
বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, হরমুজ় প্রণালীকে কেন্দ্র করে এই টানাপড়েন আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশ্বের একটি বড় অংশের তেল পরিবহণ এই পথ দিয়েই হয়, ফলে এখানে অচলাবস্থা তৈরি হলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও ধাক্কা লাগতে বাধ্য।
পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে, তা এখন নির্ভর করছে আগামী ৪৮ ঘণ্টার উপর। ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির মুখে ইরান আলোচনার পথে হাঁটবে, না কি সংঘাত আরও বাড়াবে—সেই প্রশ্নেই উদ্বেগ বাড়ছে আন্তর্জাতিক মহলে।