ভাইজানের নেইকোনও স্থাবর সম্পত্তি !

ভাইজান। বলিউডের সলমান খানের পর বাংলার রাজনীতিতে ভাইজান বলতে এখন একটাই নাম নওশাদ সিদ্দিকি।



স্বাগতা চন্দ্র সাহা, সাংবাদিক : সোজা কথা সোজা ভাবে বলতে এতটুকুও পিছপা হননা ভাইজান। সংখ্যালঘু মানুষদের এখন ভরসার নাম। ভাঙড় থেকে হাওড়া, হাওড়া থেকে মগরাহাট, মগরাহাট থেকে ফুরফুরা শরিফ। ভাইজানের উপর ভরসা বাড়ছে ক্রমশ। তাইতো বামেদের সঙ্গে আসনভাগের সংখ্যা নিয়ে এত জোরাজুরি ভাইজানের। এ হেন ভাইজানের সম্পত্তির পরিমাণ জানেন। ছটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থাকলেও নেই নিজের নামে কোনও জমি, বাড়ি। ৩৩ বছর বয়সি অবিবাহিত ভাইজান সম্পর্কে জানতে অনেকেরই আগ্রহের শেষ নেই। তাঁদের জ্ঞাতার্থেই বলতে পারেন একটু খোঁজখবর দেওয়া আরকি। ভোটের আবহে নেতাদের সম্পত্তির পরিমাণের হিসেব নিকেশ বেরিয়ে আসে ইলেকশন কমিশনের দৌলতে। আর তা ঘাঁটতে ঘাঁটতে বেড়িয়ে এল ভাইজানের সম্পত্তির পরিমাণ। যা দেখে এটা বলতে পারি দীর্ঘ রেসের ঘোড়া আপনাদের ভাইজান। ভাঙড়ে তো একাই লড়াই দিচ্ছেন। দিন দিন তাঁর দল আইএসএফের সদস্য সংখ্যাও বাড়ছে। প্রবল সবুজ ঝড়েও একা ভাঙড় দখল করে শাসক শিবিরে অস্বস্তি বাড়িয়েছেন তিনি। তাই তো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবার ভাঙড় দখলের লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিয়েছেন। আর ভঙড়ে নওশাদ সিদ্দিকিকে লড়াই দিতে তৃণমূল প্রার্থী করেছে শওকত মোল্লাকে। রাজনৈতিকভাবে তো লড়াই চলছে। চলছে প্রচার। সবকিছু নিয়েই ব্যস্ত নওশাদ সিদ্দিকি।


পীরজাদা পরিবারের সন্তান। ফুরফুরা শরিফের প্রতিষ্ঠাতা পীর মহম্মদ আবু বকর সিদ্দিকীর নাতি নওশাদ। বিগত পাঁচ বছরে রাজ্য রাজনীতিতে নিজেকে প্রাসঙ্গিক করে তুলেছেন তিনি। সংযুক্ত মোর্চার প্রার্থী হিসেবে তিনিই ছিলেন একুশের একমাত্র বিধায়ক। পথে পড়ে থেকে রাজনীতি করেছেন। বিক্ষোভে-প্রতিবাদে নেতৃত্ব দিয়েছেন। পাঁচ বছরে অনেকটা পথ পেরিয়েছেন তিনি। ৫ বছর তো বিধায়ক হয়েছেন। পাঁচবছর আগে ও পরে কতটা বাড়ল ভাইজান নওশাদের সম্পতি। প্রভাব তো বেড়েছে কিন্তু প্রতিপত্তি। কতটা বাড়ল তা নিয়েই আজ একটু কাঁটাছেড়া। ২০২৬-এর নির্বাচনে মনোনয়ন পেশ করেছেন তিনি। সেই অনুযায়ী, নওশাদের সম্পত্তি, আয় গতবারের তুলনায় বেড়েছে অনেকটাই।

ভাইজানের ভাঁড়ারের খবর

২০২০-২০২১ অর্থবর্ষে নওশাদের আয় ১৪ লক্ষ ৯ হাজার ২৬৮ টাকা
২০২২-২৩ অর্থবর্ষে বিধায়কের আয় ছিল ৫ লক্ষ ১ হাজার ৫৩০ টাকা
২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে নওশাদের আয় ছিল ৬ লক্ষ ৬১ হাজার ৪৭০ টাকা
নগদ ৫০ হাজার ৬০০ টাকা আছে নওশাদের কাছে
এছাড়া একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে রয়েছে বেশ কিছু টাকা
এর মধ্যে একটি ব্যাঙ্কে রয়েছে ১১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা
অপর একটি ব্যাঙ্কে আছে ৪ লক্ষ ১১ হাজার ৯৪৭ টাকা
নওশাদের কাছে স্করপিও এস ১১ মডেলের একটি গাড়ি রয়েছে
ওই গাড়িটির দাম ১৭ লক্ষ ১০ হাজার
মূল্যবান গয়না নেই বলেই মনোনয়নে উল্লেখ
সব মিলিয়ে তাঁর অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ
৩৩ লক্ষ ৫০ হাজার ৭২ টাকা

মাসিক বেতন হিসেবে নওশাদ পান ২ লক্ষ ৫০ হাজার ৫০০ টাকা। আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার ডিগ্রি করেছেন বলে মনোনয়নে উল্লেখ করেছেন নওশাদ।
গত বিধানসভা নির্বাচনের সময় বিধায়ক ছিলেন নওশাদ। ২০২১-এই রাজনৈতিক জীবনে হাতেখড়ি তাঁর। সেই সময় ভাঙড় বিধানসভা কেন্দ্র থেকে যে মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন তিনি, তাতে তাঁর অস্থাবর সম্পত্তি ছিল মাত্র ২ লক্ষ ৯৩ হাজার ৮১০ টাকার। সেটাই এবার বেড়ে হয়েছে ৩৩ লক্ষ। সেই সময় কোনও গাড়িও ছিল না তাঁর। তবে গতবারের নমিনেশনে ১৯ লক্ষ টাকার স্থাবর সম্পত্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছিল, যা এবার নেই। অতএব শ্রীবৃদ্ধি হয়ে ভাইজানের। দ্বিতীয়বার ভোট লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছেন তিনি। এবারে যেন আরও পরিণত তাঁর দল। যা তাঁর প্রার্থী তালিকা দেখে আভাস পাওয়া যায়। নন্দীগ্রাম, পাঁশকুড়া (পশ্চিম), ভগবানগোলা, মুরারুই আসনে বামেরা প্রার্থী ঘোষণা করলেও এই চারটি আসনে লড়তে চায় আইএসএফ। নন্দীগ্রামের মোত আসনেও লড়াই দিতে প্রস্তুত আইএসএফ। ২০২১ সালে নন্দীগ্রামে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১৯৫৬ ভোটে হারিয়েছিলেন শুভেন্দু। এবার তাঁর বিরোধী প্রার্থীদের বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ। আবার তৃণমূল প্রার্থী পবিত্র কর শুভেন্দুকে ৩০ হাজার ভোটে হারানোর চ্যালেঞ্জ ছুঁড়েছেন। এই যুযুধান এই দুই রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি এখানে প্রার্থী দিয়েছে বাম ও আইএসএফ। সিপিআইয়ের টিকিটে লড়ছেন শান্তিরঞ্জন গিরি। আর আইএসএফের প্রার্থী মহম্মদ সবেমিরাজ আলি খান। বাম ও আইএসএফ আসন সমঝোতার কথা বললেও এই কেন্দ্রে দুই পক্ষই প্রার্থী দিয়েছে। শেষ পর্যন্ত ভোটে না জিতলেও আইএসএফ কিং মেকার হয়ে উঠতে পারে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে। অতএব আইএসএফ দিন দিন বাংলার রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। আর তার অন্যতম কারণ হলেন নওশাদ সিদ্দিকি।