খার্গ দ্বীপে বিস্ফোরণ, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে

হুমকি মতোই নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই হামলা চালাল যুক্তরাষ্ট্র ?

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : মঙ্গলবার ভোর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও জটিল আকার নিয়েছে। ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রফতানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপে একাধিক বিস্ফোরণের খবর মিলেছে। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ‘মেহর’-এর দাবি, এই হামলা ঘটেছে ঠিক সেই সময়ে, যখন তেহরানের উদ্দেশে মার্কিন প্রশাসনের দেওয়া চূড়ান্ত সময়সীমা প্রায় শেষের পথে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগেই সতর্ক করেছিলেন—ইরান যদি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে রাজি না হয় এবং হরমুজ প্রণালী খুলে না দেয়, তবে একযোগে ব্যাপক বোমাবর্ষণ চালানো হবে। তাঁর হুঁশিয়ারি ছিল, ইরানের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, সেতু এবং কৌশলগত প্রতিষ্ঠানগুলিকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়া হবে। সেই প্রেক্ষাপটেই খার্গ দ্বীপে বিস্ফোরণের ঘটনা নতুন করে আশঙ্কা বাড়িয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’-এর এক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, মার্কিন সেনাবাহিনী ইতিমধ্যেই ওই দ্বীপে সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। যদিও এ বিষয়ে ওয়াশিংটনের তরফে আনুষ্ঠানিক কোনও বিবৃতি এখনও প্রকাশিত হয়নি।

অন্যদিকে, ইজরায়েলি সেনাবাহিনীও মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে ‘পরিকাঠামোগত’ লক্ষ্যবস্তুতে বড়সড় হামলা চালিয়েছে। তবে ঠিক কোন কোন স্থানে আঘাত হানা হয়েছে, তা স্পষ্ট করা হয়নি।

খার্গ দ্বীপের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। ইরানের মোট তেল রফতানির প্রায় ৯০ শতাংশ এই দ্বীপ থেকেই হয়। দেশের মূল ভূখণ্ডের অধিকাংশ উপকূল অগভীর হওয়ায় বড় তেলবাহী জাহাজ ভিড়তে পারে না, ফলে খার্গ দ্বীপ কার্যত ইরানের জ্বালানি বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র। এই দ্বীপে হামলা মানে সরাসরি ইরানের অর্থনীতির শিরায় আঘাত।

ভৌগোলিক দিক থেকেও খার্গ দ্বীপ অত্যন্ত সংবেদনশীল। কুয়েত ও সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটির কাছাকাছি হওয়ায় যে কোনও সংঘাতে এটি সহজ লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠতে পারে।

এরই মধ্যে ইরানের তরফে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে অস্থিরতা তৈরি করেছে। বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত এই জলপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে তার প্রভাব পড়বে বিশ্ব অর্থনীতিতেও।

সবমিলিয়ে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা যত কমছে, বাড়ছে সংঘাত। তার সঙ্গেই ক্রমশ উদ্বেগজনক হচ্ছে পরিস্থিতি।