যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ফের বিস্ফোরণ !

বুধবার সকালে ইরানের লাভান দ্বীপে একটি তেল শোধনাগারে ‘শত্রুপক্ষের হামলা’ হয়েছে বলে দাবি ইরান সরকারের।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : যুদ্ধবিরতির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ফের বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল লাভান দ্বীপ (Lavan Island)। বুধবার সকালে ইরানের এই দ্বীপে একটি তেল শোধনাগারে ‘শত্রুপক্ষের হামলা’ হয়েছে বলে দাবি করেছে (Iran) ইরান সরকার। ঘটনায় কোনও হতাহতের খবর না মিললেও তড়িঘড়ি দমকল ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে তেহরান।

ইরানের তেল মন্ত্রকের সংবাদমাধ্যম ‘শানা’-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সকাল ১০টা নাগাদ ওই শোধনাগারে হামলা হয়। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়লেও তা নিয়ন্ত্রণে আনতে তৎপর হয় উদ্ধারকারী দল। পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে বলে দাবি কর্তৃপক্ষের।

ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটে, যখন মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই (United States) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। মঙ্গলবার শেষ মুহূর্তে এই যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ এড়াতেই এই সমঝোতা বলে জানিয়েছিলেন তিনি।

যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী, আপাতত দুই সপ্তাহের জন্য ইরানের উপর হামলা বন্ধ রাখবে আমেরিকা। এর বদলে বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ় প্রণালী (Strait of Hormuz) সাময়িকভাবে খুলে দিতে রাজি হয়েছে তেহরান। ট্রাম্প ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দাবি করেছেন, এই প্রণালী “সম্পূর্ণভাবে এবং নিরাপদ ভাবে” খুলে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে ইরান।

তবে যুদ্ধবিরতির মাঝেই লাভান দ্বীপে এই হামলা পরিস্থিতির স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে। শুধু ইরানেই নয়, উপসাগরীয় একাধিক দেশে বুধবার নতুন করে হামলার খবর মিলেছে বলে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে।

এএফপি-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এই চুক্তিকে ওয়াশিংটনের “সম্পূর্ণ জয়” বলে দাবি করেছেন। তাঁর কথায়, এই সময়ের মধ্যে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ‘নিরাপদে রাখা’ হবে। যদিও ইরানের বিরুদ্ধে পরমাণু অস্ত্র তৈরির অভিযোগে সরব হলেও রাষ্ট্রসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষক সংস্থা এখনও সেই দাবিকে সমর্থন করেনি। তেহরানও বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে।

উল্লেখ্য, সংঘাত থামাতে এর আগেও একাধিক শর্ত দিয়েছিল আমেরিকা— যার মধ্যে ছিল ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে লাগাম এবং আঞ্চলিক জঙ্গি গোষ্ঠীগুলিকে সমর্থন বন্ধ করা। তবে সদ্য ঘোষিত যুদ্ধবিরতির চুক্তিতে সেই শর্তগুলি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি।

সব মিলিয়ে, যুদ্ধবিরতির মাঝেই নতুন হামলার ঘটনা পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলল বলেই মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল। কোন পথে ফিরবে শান্তি, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।