যুদ্ধবিরতির পর ইজরায়েলি হামলা, ট্রাম্প কী করবেন ?

লেবাননে ইজরায়েলের ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, তার পাল্টা ইরানের আক্রমণ এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় বন্ধ।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) ঘোষিত যুদ্ধবিরতির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পশ্চিম এশিয়ায় ফের অশান্তির আগুন। লেবাননে ইজরায়েলের ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, তার পাল্টা ইরানের আক্রমণ এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় বন্ধ—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি কার্যত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের সামনে এখন তিনটি কঠিন পথ—

১.যুদ্ধ ফের শুরু করা,

২.কূটনীতির পথে এগোনো

৩. ইজরায়েলকে সংযত করতে চাপ সৃষ্টি করা।

বুধবার লেবাননে ইজরায়েলের ১০০টিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ২৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। এই হামলার পরই ইরান পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে ইজরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত হানে। একই সঙ্গে তারা ফের হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়।—যা দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবাহিত হয়। ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু (Benjamin Netanyahu) আগেই স্পষ্ট করেছিলেন, লেবানন যুদ্ধবিরতির অন্তর্ভুক্ত নয়। হিজবুল্লাকে লক্ষ্য করেই এই হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি তেল আভিভের। অন্যদিকে ইরান বারবার বলেছে, লেবাননকে বাদ দিয়ে কোনও চুক্তি তারা মেনে নেবে না। এই মতপার্থক্যই যুদ্ধবিরতির ফাঁকফোকর হিসেবে সামনে এসেছে।

এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প প্রথমত যুদ্ধ ফের শুরু করতে পারেন। কিন্তু তা হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নিতে পারে। নতুন করে মার্কিন হামলা শুরু হলে গোটা পশ্চিম এশিয়ায় সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা, পাশাপাশি বিশ্ব অর্থনীতিতেও বড় ধাক্কা লাগতে পারে। তেলের দাম বাড়ার সম্ভাবনাও প্রবল।

দ্বিতীয় পথ কূটনীতি। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট (JD Vance) জেডি ভান্সের পাকিস্তান সফরের কথাও শোনা যাচ্ছে, যেখানে ইরানের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা হতে পারে। তবে লেবাননে ইজরায়েলের হামলা চলতে থাকলে এই আলোচনা সফল হওয়া কঠিন বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

তৃতীয় এবং সবচেয়ে কঠিন পথ—ইজরায়েলকে চাপে রাখা। অতীতে যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের সময় ট্রাম্প সরাসরি নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। এবারও তেমন হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে নেতানিয়াহু ইতিমধ্যেই লেবানন অভিযানকে ‘স্বতন্ত্র অভিযান’ বলে ঘোষণা করায় সেই সম্ভাবনা কম বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।

সব মিলিয়ে যুদ্ধবিরতির পরেও শান্তির কোনও স্পষ্ট পথ এখনও দেখা যাচ্ছে না। বরং সংঘাতের এই নতুন অধ্যায় বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিকে আরও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।