কোটিপতি হুমায়ুনের ঘর নেই !

তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড হওয়ার পর বাবরি মসজিদ তৈরির ডাক দিয়ে ভোটের আবহ জমিয়ে দিয়েছিলেন হুমায়ুন কবীর। সংখ্যালঘুদের আবেগে নাড়া দিয়ে নতুন দলও তৈরি করে ফেলেন তিনি।

স্বাগতা চন্দ্র সাহা, সাংবাদিক : হুমায়ুন কবীর। যিনি বাংলার ভোট রাজনীতিতে খেলা জমিয়ে দিয়েছেন। সংখ্যালঘু উন্নয়নের মুখ যেমন নওশাদ সিদ্দিকি তেমনই হুমায়ুন কবীরও ময়দানে নেমেছেন সংখ্যলঘুদের স্বার্থরক্ষায়। আবার সঙ্গে পেয়েছেন মিমকে। একসময় সাইকেলে চেপে ঘোরা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী থেকে এখন দাপুটে নেতা থেকে বিধায়ক। আবার শাসক দলের বিরুদ্ধে লড়াই দিতে নতুন দল খুলে ভোট ময়দান কাঁপাচ্ছেন। তৃণমূল সুপ্রিমোর মতোই হেলিকপ্টার চড়ে প্রচার সারছেন কবীর সাহেব। এ হেন দাপুটে নেতার নাকি কোনও বাড়ি নেই। অনেকে বলেন কোটি টাকার মালিক হুমায়ুন কবীর। আর কোটিপতির নাকি নিজের কোনও বাড়ি নেই। শুনতে অবাক লাগলেও এটাই সত্যি। ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে সম্পত্তির হলফনামাতে নাকি এমনই তথ্যের উল্লেখ। অন্যদিকে ঘরের চার দেওয়ালে থেকেও হুমায়ুন পত্নীর সম্পত্তি ও গয়নার পরিমাণ নেহাত কম নয়। জানেন কি এজেইউপির চেয়ারম্যানের ভাঁড়ারে কত ধন ?

তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড হওয়ার পর বাবরি মসজিদ তৈরির ডাক দিয়ে ভোটের আবহ জমিয়ে দিয়েছিলেন হুমায়ুন কবীর। সংখ্যালঘুদের আবেগে নাড়া দিয়ে নতুন দলও তৈরি করে ফেলেন তিনি। সংখ্যালঘুদের মন পেতে বিভিন্ন জেলায় জেলায় ঘুরে একাধিক কার্যালয়ও উদ্বোধন করেন তিনি । আবার তাঁর লড়াইয়ে সঙ্গী হিসাবে পেয়েছেন আসাদউদ্দিন ওয়েইসির দল মিমকে। এ হেন হুমায়ুন কবীর সম্প্রতি মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। তিনি নওদা ও রেজিনগর বিধানসভায় প্রার্থী হয়েছেন। আর তাঁর হলফনামায় যা সম্পত্তির কথা উল্লেখ করেছেন তাতে দেখা যাচ্ছে তিনি ঠাঁইহীন। অর্থাৎ কোটিপতি হয়েও তাঁর কোনও বাড়ি নেই। নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী হুমায়ুন কবীরের বার্ষিক আয় ১৩ লক্ষ ২৬ হাজার টাকা। মূলত ব্যাবসা থেকেই এই বিশাল অঙ্কের টাকা রোজগার করেন তিনি। তাঁর হাতে নগদের পরিমাণ ৪ লক্ষ ৫২ হাজার টাকা। বিভিন্ন ব্যাঙ্ক ও বিমায় তাঁর বিনিয়োগের পরিমাণ ১ লক্ষ ৬২ হাজার টাকা। হুমায়ুনের ৩৩ লক্ষ টাকা মূল্যের একটি বিলাশবহুল গাড়ি রয়েছে। তাঁর অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণে ৪৫ লক্ষ ৫৬ হাজার টাকা ১৭৬ টাকা। মুর্শিদাবাদে তাঁর একটি চাষযোগ্য জমি রয়েছে। যার বাজার মূল্য ২ কোটি ১০ লক্ষ টাকা। নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী হুমায়ুন কবীরের নিজের নামে একটিও বাড়ি নেই। তবে তাঁর সোনাদানার পরিমাণ অনেকটাই। তাঁর কাছে ৩৪.৫ গ্রাম সোনা রয়েছে। যার বাজারমূল্য ৫ লক্ষ ১৭ হাজার ৫০০ টাকা।

এতো গেল হুমায়ুন কবীরের নামে সম্পত্তি। এবার নজর রাখা যাক তাঁর ঘরের লক্ষ্মীর ভান্ডারে। হুমায়ুন কবীরের স্ত্রী মীরা সুলতানও বিপুল সম্পত্তির মালকিন। স্ত্রীর অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ৯৮ লক্ষ ৫৮ হাজার ৬৭৩ টাকা। তাঁর হাতে নগদ রয়েছে ৩ লক্ষ ৪৯ হাজার ৩৫৩ টাকা। ৬৩২.৫ গ্রাম সোনার মালিক হুমায়ুনের স্ত্রী মীরা। এই মুহূর্তে যার বাজারমূল্য প্রায় ৯৪ লক্ষ ৮৭ হাজার ৫০০ টাকা। হুমায়ুনের স্ত্রী নিজে একটি বসতবাড়ির মালিক। যার বর্তমান বাজার মূল্য ৯০ লক্ষ টাকা। হুমায়ুন কবীর সব মিলিয়ে নিজেই আড়াই কোটি টাকার মালিক। আর স্ত্রীর সম্পত্তির পরিমাণ ২ কোটি। কর্তাগিন্নির সাড়়ে ৫ কোটি টাকারও বেশি সম্পত্তি রয়েছে। জমির চরিত্র পরিবর্তন করে বাড়ি তৈরি করার মামলায় পুলিশি নোটিস পেয়েছিলেন ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’র চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীরের পত্নী মীরা সুলতানা।

সাম্প্রতিক সময়ে মাদক বিক্রির টাকায় বেআইনিভাবে সম্পত্তি তৈরি করার অভিযোগে লালগোলা থানার পুলিশ হুমায়ুন কন্যা নাজমা সুলতানা এবং তাঁর শ্বশুরবাড়ির প্রায় ১৫ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে। ইতিমধ্যে হুমায়ুনের জামাই রায়হান আলি এবং হুমায়ুন কন্যার শ্বশুর শরিফুল ইসলামের একাধিক সম্পত্তি পুলিশ ‘ফ্রিজ’ করে রেখেছে। এর পাশাপাশি মাদক পাচারের একটি মামলায় লালগোলা থানার পুলিশ হুমায়ুনের জামাই রায়হান আলিকে নোটিসও পাঠায়। সবমিলিয়ে হুমায়ুন কবীরের রাজনৈতিক জীবন নিয়ে যেমন আলোচনা সমালোচনা জারি তেমনই তাঁর ভাঁড়ারের ধন নিয়েও নিয়েও কম আলোচনা হয়নি। হলফনামায় যেমন তাঁর সম্পত্তির হিসাব রয়েছে তেমনই তাঁর বিরদ্ধে মামলার সংখ্যারও উল্লেখ রয়েছে স্পষ্টভাবে। জানা গেছে তাঁর বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক উস্কানি-সহ ৪টি মামলা রয়েছে।

অতএব এই সবকিছু আলোচনা, সমালোচনা পেরিয়ে এবার ভোট রাজনীতিতে হুমায়ুন কবীরের লড়াই মুখরক্ষার। বলা ভালো প্রেস্টিজ ফাইটও বটে। মোট ১৮২টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে আমজনতা উন্নয়ন পার্টি। এখন দেখার ২৬ শের বিধানসভা নির্বাচনের পর তাঁর ভাগ্য কোন খাতে বয়।