কণ্ঠ স্তব্ধ আশা ভোঁসলের

৮০০-র বেশি চলচ্চিত্রের জন্য ১০,০০০-এরও বেশি গান রেকর্ড করেছেন। ৭ দশকেরও বেশি সময় ধরে তাঁর সুরের যাদুতে ভরছে সঙ্গীত প্রেমীদের মন।


আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : কেরিয়ার শুরু হয়েছিল মাত্র ১০ বছর বয়সে।মারাঠি চলচ্চিত্র ‘মাজা বাল’-এ প্রথম গান গান। ৮০০-র বেশি চলচ্চিত্রের জন্য ১০,০০০-এরও বেশি গান রেকর্ড করেছেন। সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে তার সুরের যাদুতে ভরিয়ে দিয়েছেন সঙ্গীত প্রেমীদের মন। বয়সটা ৯০-এর গণ্ডি পেরোলেও,তার মধ্যে জীবন্ত ছিল এক চঞ্চল কিশোরী। জীবনের সমস্ত প্রতিকূল পরিস্থিতি কিভাবে হাসিমুখে সামলাতে হয় শিখিয়েছেন এই কিংবদন্তি গায়িকা। আশা ভোঁসলে। প্রতিভাবান এই গায়িগা পারি দিলেন পরলোকে। পিছনে ফেলে গেলেন তার মনমুগ্ধকর সুরারত্ন।

বার্ধক্য়জনিত কারনে মুম্বইয়ের এক বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন গায়িকা। ৯২ বছর বয়সেই থমকে গেল সব প্রজন্মের প্রিয় গায়িকার হার্ট বিট। বাড়িয়ে দিয়ে গেলেন তাঁর ফ্যানেদের হৃককম্পন। মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন তার ছেলে আনন্দ ভোঁসলে।

১৯৩৩ সালে ৮ই সেপ্টেম্বর মহারাষ্ট্রের সাঙ্গলি জেলার গৌড়ে জন্মগ্রহণ করেন ভারতীয় সঙ্গীত জগতের কিংবদন্তি নেপথ্য গায়িকা।। তাঁর বাবা দীনানাথ মঙ্গেশকর ছিলেন বিশিষ্ট শাস্ত্রীয় সঙ্গীতশিল্পী এবং মা সেবন্তী । বাবার কাছেই তিনি শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন।তিনি প্রখ্যাত গায়িকা লতা মঙ্গেশকরের ছোট বোন।

গায়িকা হিসেবে তিনি তাঁর বহুমুখী প্রতিভার জন্য পরিচিত। তাঁর কর্মজীবন প্রায় ১৯৪৩ সালে শুরু হয়েছিল এবং সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে বিস্তৃত। তিনি এক হাজারেরও বেশি চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক গেয়েছেন। এছাড়াও, তিনি বিভিন্ন ব্যক্তিগত অ্যালবাম রেকর্ড করেছেন এবং ভারত ও বিদেশে বেশ কয়েকটি একক কনসার্টে অংশগ্রহণ করেছেন। ১৯৫০-এর দশকে ‘পরিণীতা’, ‘হাউড়া ব্রিজ’-এর মতো ছবিতে গান গেয়ে তিনি নিজের জায়গা শক্ত করেন । আর.ডি. বর্মণ-এর সাথে তাঁর জুটিতে ‘হরে রামা হরে কৃষ্ণা’, ‘যাওয়ানি দিওয়ানি’)-র মত গান ভারতীয় পপ ও ডিস্কো সঙ্গীতে নতুন দিগন্ত খুলে দেয়।এছাড়াও মেরা কুছ সামান, দিল চিজ ক্যায়া হ্যায়, কতরা কতরা, পিয়া তু, ফিরে এলাম দূরে গিয়ে, ভেবেছি ভুলে যাব -একাধিক যা বলে শেষ করা যাবে না, মুগ্ধ করে ৮ থেকে ৮০ সকলকে।

তাঁর কেরিয়ারের বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে স্বীকৃত ছবিগুলো হল: নয়া দৌড় , তিসরি মঞ্জিল , উমরাও জান এবং রঙ্গীলা ।তিনি দাদা সাহেব ফালকে ,জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও ফিল্মফেয়ার পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছেন। ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত আশা ভোঁসলে সাতবার ফিল্মফেয়ার সেরা নেপথ্য গায়িকার পুরস্কার পেয়েছেন। ১৯৭৭ সালের পর তিনি জানান যে তার নাম যেন আর ফিল্মফেয়ার পুরস্কারের জন্য গণ্য করা না হয়। ২০০১ সালে তিনি ‘ফিল্মফেয়ার আজীবন সম্মাননা পুরস্কার’ পান।

শিল্পীর মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি লিখেছেন, আশা ভোঁসলের প্রয়াণে আমি গভীরভাবে শোকাহত। যিনি কয়েক প্রজন্ম ধরে আমাদের মনের মনিকোঠায় ছিলেন। তিনি অসংখ্য বাংলা গান গেয়েছেন। বাংলাতেও তিনি খুবই জনপ্রিয়। ২০১৮ সালে আমরা তাঁকে বঙ্গবিভূষণ পুরস্কারে ভূষিত করেছিলাম। তার পরিবার, সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে থাকা তাঁর কোটি কোটি ভক্তদের প্রতি সমবেদনা জানাই।”

প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্রমোদীও সোশ্য়াল মিডিয়ায় পোস্ট করে জানান আশা ভোঁসলে জির প্রয়ানে গভীরভাবে শোকাহত।ভারতের সর্বকালের অন্যতম সেরা ও বহুমুখী কন্ঠশিল্পীদের একজন। কয়েক দশক ধরে চলা এই কঠিন ও অসাধারন সঙ্গীতযাত্রা আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করেছে ও বিশ্বজুড়ে অগণিত হৃদয়কে স্পর্শ করেছে। তা সে তার হৃদয়স্পর্শী সুরই হোক কিংবা প্রাণবন্ত সুরারোপ,তার কন্ঠে ছিল এক চিরন্তন ঔজ্জ্বল্য।তার সাথে আমার যে আলাপচারিতা হয়েছে, তা আমি চিরকাল মনে রাখব।